Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

জীবন-বন্ধু-মৃত্যু

Published:2013-10-26 18:51:13    

জীবন-বন্ধু-মৃত্যু

ইফতিখারুল ইসলাম

একটা শিশু যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন তার মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্নীয়-স্বজন সবাই খুশিতে মাতোয়ারা হয়। আবার যখন পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যু বরণ করে তখন সবাই আনন্দের পরিবর্তে শোকার্ত হয়ে পড়ে। এটাই জগতের বাস্তবতা। বিষয়টা মাথায় এসেছে যেহেতু গত ০৮ই অক্টোবর ঢাকায় নর্দান ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যদের শোকাহত অবস্থা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। ছাত্রটি সম্পর্কে আমার খালাতো ভাই হয়। জীবনে প্রথম মর্গে গিয়েছিলাম। অভিজ্ঞতা পেলাম মর্গে ভিকটিমকে কীভাবে রাখা হয়। এরকম-ই একটি অভিজ্ঞতার কথা লিখতে যাচ্ছি পাঠকের উদ্দেশ্যে। আশা করি সচেতনতার সাথে সাথে কিছু জ্ঞানও পাবেন। কেননা বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক যেহেতু বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন হয়েছে।

কলামটি আমি "সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ" শিরোনামে লিখতে পারতাম কিন্তু লিখিনি। শিরোনাম দিয়েছি 'জীবন-বন্ধু-মৃত্যু'। কারণ, এ বিষয়টির চেয়ে মৃত্যু আমাকে বেশি পীড়া দিয়েছে। তাছাড়া, আমার মনে হয়েছে ঘটনার সাথে এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত। তাই আমার দৃষ্টিতে এই শিরোনাম-ই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

উল্লেখ্য, আমি আমার পরিবারের একজন সদস্যকেও আমি হারিয়েছি কিন্তু আজকের মতো মৃত্যুকে আমি আগে এভাবে উপলব্ধি করিনি। কারণটা বোধ হয় অপ্রাপ্ত বয়স। যাই হউক, মূল আলোচনায় আসি।

ভিকটিম গত ০৮ই অক্টোবর ২০১৩ইং তারিখ রাজারবাগে একটি রুমে বন্ধু নামে এক পাষ-, ছাত্র নামে অছাত্রের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়। ভিকটিমের নাম আহমেদ রেজা রিফাত(২১), পিতা: মৌ: রমিজ আহমেদ, মাতা: মনোয়ারা আকতার। তারা তিন ভাই দুই বোন। সে সবার বড়। সে ককস্ বাজার ইসলামপুর ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা। সে ২০০৮ সালে ফুলছড়ি ইসলামিয়া আদর্শ মাদরাসা থেকে দাখিল এবং ২০১০ সালে তা’মিরুল মিল্লাত থেকে আলিম উভয় পরীক্ষায় এড়ষফবহ-অ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হয়। সেখানেও সে প্রতি সেমিস্টারে ভালো রেসাল্ট করে। বন্ধুসূত্রে জানা যায়, সে বেশি পড়াশুনা করত না। সুতরাং বুঝা যায় ছাত্র হিসেবে সে মেধাবী ছিল।

আমি একজন অনলাইন জার্নালিস্ট। আমি বিশ্বাস করি একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সত্যকে প্রচার করা, মিথ্যাকে উন্মোচিত করা। সেই উদ্দেশ্যে আমি আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং, যেহেতু আমি একজন মানুষ, তাই আমিও সমালোচনার উর্ধ্বে থাকতে চাই না। কোনো কিছুতে ভুল-ভ্রান্তি থাকলে দয়া করে কমেন্ট করবেন। যাতে ভুলগুলো শোধরে নিতে পারি।

রিফাত নামের এই ছেলেটিকে আমি সবসময় হাসিমুখে দেখেছি। সে খুব বেশি কথা বলত। কথা বলা শুরু করলে কেউ কথা বলার সুযোগ-ই পেত না। মজার মানুষ ছিল। তার দৈহিক গঠনটা যদি বলি, সে লম্বায় ৫ ফিট ৫ ইঞ্চি, হালকা-পাতলা। সবচেয়ে ফোকাস হওয়ার বিষয়টি ছিল তার চুলগুলো লম্বা। এটাই ছিল ভিকটিমের শারীরিক গঠন।

রিফাত বসুন্ধরা শপিং মল’র সামনে একটি মেসে থাকত। তার রুমমেট ছিল তার খালাতো ভাই ইমরান। সেও তার সাথে নর্দানে নবম সেমিস্টারে পড়ত। ইমরানের সাথে তার খুবই সখ্য ছিল। তারা প্রায় একসাথে সময় খাটাত। এমনকি বন্ধু নামে সেই ঘাতকের বাসায় যাওয়ার পূর্বমুহূর্তেও তারা দুজনে চা পান করে। ইমরান সূত্রে জানা য়ায়, রিফাত তাকে একটা এসএমএসও করেছিল যেখানে লেখা ছিল ”১০ টার দিকে তুই মাসুদের এই নাম্বারে একটা ফোন দিস যদি আমার নাম্বার বন্ধ থাকে”। এই প্রেক্ষিতে ধারণা করা যায় যে, রিফাত হয়তো জানতো, সে বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ঘাতক রানা প্রথম সেমিস্টারে রিফাতের সাথে নর্দানে পড়েছিল। এরপর সে কোথায় যেন চলে গিয়েছিল। ইমরান সূত্রে জানা যায়, রিফাত এবং মাসুদের সাথে মাঝে মাঝে ফেইচবুকে চ্যাট হতো। যখন রিফাতের সাথে মাসুদের সাথে দেখা হয় তখন মাসুদ জাানিয়েছিল সে লন্তনে পড়াশুনা করে। আর মাসুদ রিফাতকে লন্ডনে পড়ারও প্রস্তার দেয়। এতে রিফাত তার প্রস্তাবে প্রভাবিত হয় এবং বাড়িতে এ ব্যাপারে তার বাবাকে অবহিতও করে। তার বাবাও বিষয়টি পছন্দ করে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে। এতে পুত্র রিফাত খুবই অস্থির হয়ে পড়ে। জানা যায়, লন্ডনে পড়ার কথা বলে মাসুদ রিফাতের নামে একটা ভূয়া অফার লেটারও পাঠিয়েছিল যেখানে লেখা ছিল “You are welcome to UK” রুমমেট সূত্রে জানা যায়, এই অফার লেটারে অনেক ভুল ছিল।

মূল ঘটনায় আসি। সে দিন ছিল মঙ্গলবার, ০৮ই অক্টোবর ২০১৩ইং। আমার ক্যাম্পাসও বন্ধ। ভাবলাম মামার সাথে দেখা করে আসি। আমার মামার ডাক নাম রানা। সে ফার্মগেট থাকে। রাত ০৯টার দিকে মামার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। আমার অফিস থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২০মিনিটের মতো রাস্তা। ঠিক সময়ে পৌঁছলাম। রাতে খাওয়া-দাওয়া করলাম ভালোমতো। ক্যাম্পাসের সেই দাদার আমলের ডাল খেতে খেতে অসহ্য লাগে। তাই মামার সেদিনের রান্না তুলনামূলকভাবে অন্য দিনের তুলনায় বেশ ভালোই ছিল। হঠাৎ খাবারের কথা আসল কেন। আসলে ঢাকায় সবচেয়ে যে জিনিসের প্রতি আমি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বোধ করি, আমার মনে হয় সেটি ভালো খাবার ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। যাক সে কথা। হয়তো পাঠকরা আমাকে এখন থেকে পেটুক-ই বলবেন। তবে আমি চরম সত্য কথাটাই বললাম। এতে হয়তো আপনারা আমাকে এই অপনামে আখ্যায়িত করবেন। আপনাদের এই অপনামের বিষয়টি চিন্তার বাইরে রাখলাম। কোথা থেকে কোথা আসলাম। খাবার শেষে প্রায় ১০মিনিট পর ছোটন (রানার ছোট ভাই) মামার ফোনে কল আসল। তখল প্রায় রাত ১১টা। ফোন করেছে তার মা অর্থাৎ আমার নানী। নানী জানালেন একটা ছেলে রিফাতের মাকে ফোন করে জানাল যে, তারা রিফাতকে অপহরণ করেছে এবং ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। টাকাটা যেন তারা রিফাতের একাউন্টে জমা দেয়। তখন, বিশেষ করে আমি এবং রানা মামার সন্দেহ হল যে, এসব রিফাতের কাজ। কারণ, আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, রিফাত ক্রেডিট ট্রান্সপার করে রানার মাধ্যমে লন্ডনে যেতে চাচ্ছে। তাছাড়া তারা যদি মুক্তিপণ দাবি করে তাহলে তারা টাকা রিফাতের একাউন্টে জমা দিতে বলবে কেন। এসব কারণেই আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণা। যাই হউক, ধারণাগুলো ভ্রান্ত হলেও অযৌক্তিক না। এছাড়া, আমরা ছাড়া অনেকেই এমন ধারণ পোষণ করেছে। সুতরাং, অস্বাভাবিক কোনো ধারণা নয়।

ফোনে কথা বলার পর ছোটন মামা খুব তাড়াতাড়ি তার গায়ের কাপড় পরিবর্তন করে বেরিয়ে পড়ল। মামা যাবেন জিডি করতে। আমি কিছু বললাম না। আমি রাতে দু’একটা নাটকও দেখলাম। তাছাড়া এ বিষয়টি আমি কোনো ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সে কথা যাক। তারপর ঐ রাতটা গেল। চলে আসলাম প্রতিদিনের মতো আমার সেই কর্মক্ষেত্রে। হয়তো আপনাদের মনে প্রশ্নও জাগতে পারে, লেখকের কর্মটাই কী। আপাতত বিষয়টা যেহেতু লিখছি সেহেতু আমার কাজ-ই লেখা। প্রতিদিন যেখানে যাই সেই কর্মক্ষেত্রও লেখার কাজ। ঐ দিন কাজ শেষ করে চলে গেলাম ক্যাম্পাসের হলে। রাতে পৌঁছা মাত্রই আমার ছোট বোন তন্বীর ফোন পাই। তার কাছ থেকে জানতে পারলাম যে, রিফাতের লাশ পাওয়া গেছে। খবরটি শুনে আমি আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারলাম না। ফোনটা তাড়াতাড়ি রেখে রানা মামাকে ফোন দিলাম। মামাকে বললাম, মামা রিফাতের কি হয়েছে? মামা সাথে সাথে বললেন, যা শুনেছ ঠিক-ই শুনেছ। আর কিছু বললাম না, তাড়াতাড়ি ফোনটা রেখে দিলাম। পরে ছোটন মামাকে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম তারা আগাঁরগাও র‌্যাব’র কার্যালয়ে আছেন। তাড়াতাড়ি এক বন্ধুকে নিয়ে রওয়ানা দিলাম আগাঁরগাওয়ের উদ্দেশ্যে। তখন রাত প্রায় ১২টা। গিয়ে দেখতে পেলাম অনেকেই উপস্থিত। তারা সবাই ভিকটিমের বন্ধু-বান্ধর, আত্নীয়-স্বজন। সেখানেই বিস্তারিত জানতে পারলাম মূলত ঘটনাটি কি ছিল। র‌্যাবের কার্যালয়ে ঢুকতেই দেখতে পেলাম বিভিন্ন গণমাধ্যম। তাদেরকে সাক্ষাতকার দিচ্ছেন ভিকটিমের আত্নীয়-স্বজন।  

গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, ঘাতক মাসুদ রিফাতকে সুকৌশলে তার রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এ্যালকোহল পান করতে বাধ্য করে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে পেলে। এই সুযোগে ঘাতক মাসুদ তার হাত-পা-গলা বেধেঁ পেলে। নির্দিষ্ট সময়ের পর তার জ্ঞান ফিরে আসলে সে ধস্তাধস্তি শুরু করে। এতে ঐ রুমে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। এতে মাসুদ ভয় পেয়ে যায়। যদি পার্শ্ববর্তী কেউ জেনে যায় তাহলে তার রেহাই নেয়। এ কথা চিন্তা করে সে রিফাতের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে রিফাতের মাথা ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। রক্ত যাতে প্রবাহিত হয়ে বাইরে যেতে না পারে সেজন্য ঘাতক রিফাতের মাথার নিচে বালতি দিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে মাসুদ তার গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে শ্বাসনালী কেটে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে রিফাতের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর ঘাতক পরিকল্পনা করল যে, সে ভিকটিমের অভিভাবকের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করবে। প্রাথমিকভাবে পাঠকরা ধারণা পেয়ে গেছেন যেহেতু আমি প্রথমেই এ ব্যাপারে আলোচনা করেছি। ঘাতক ০৮তারিখ রিফাতকে হত্যা করে ঐ রুম তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, মাসুদ ঐ রুমটি শুধু রিফাতকে টার্গেট করেই ভাড়া নিয়েছিল। মাসুদ তাকে রাত ১০টার দিকে হত্যা করে প্রায় ১১ টার দিকে মুক্তিপণ দাবি করে। গণমাধ্যমের ভিডিও ক্লিপটি দেখলে বুঝা যায় নরপিশাচ ঘাতক রিফাতকে কিভাবে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে।

এখন জানা যাক কিভাবে র‌্যাব ঘাতকদের আটক করে। জানা যায়, রিফাতের দুইজন খুব কাছের বান্ধবী ছিল। ঘাতক মাসুদও তার এই বান্ধবীদের কথা জানত। তাই সে রিফাতকে রাতে ঐ বান্ধবীদেরকে ফোন দিতে বাধ্য করে। ফোনে সে বান্ধবীদের একজনের কাছেও টাকা দাবি করে। মাসুদ ঘন্টায় ১৮০ থেকে ২০০ বার রিফাতের অভিভাবককে ফোন দেয়। রিফাতের কললিস্ট চেক করে একই ব্যাপার ধরা পড়ে। ঘাতক রিফাতকেও একইভাবে ফোন দিত।। রিফাতের ছোট ভাই সিফাতের ভাষ্যমতে, র‌্যাব অফিসার রায়হান খানের পরামর্শে রিফাতের বান্ধবী মাসুদের সাথে কথা বলে। অফিসার রায়হান খানের কথামত সে বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে মাসুদকে সরাসরি টাকা নেয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে সে প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়। মূলত র‌্যাবের দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনার কারণে তারা রাজি হতে বাধ্য হয়। র‌্যাব২ এর অধিনায়ক আনিসুর রহমানের নের্তৃত্বে কলাবাগান বাসস্ট্যন্ডে মুক্তিপণ দিতে যায়। ঘাতক মাসুদ তার বন্ধুকে  টাকা নিতে পাঠায়। তার বন্ধুর নাম লিংকন সরকার। মাসুদ রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে তার বন্ধু লিংকনকে অন্যপাশে টাকা আনতে পাঠায়। সে রিফাতের বান্ধবীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্য পাশে মাসুদের সাথে দেখা করতেই র‌্যাব এসে তাদের ধরে পেলে। সেখানেই ধোলাই শুরু করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে র‌্যাব রাজারবাগে গিয়ে তালাবদ্ধ রুম খুলে রিফাতের লাশ উদ্ধার করে। এই ছিল মূল ঘটনা। ঘটনার বিবরণ লিখতে গিয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। এ ধরণের ঘটনা আমার আতœীয়-স্বজনের মধ্যে কখনো ঘটেনি। তাই আমিও ব্যক্তিগতভাবে খুবই মর্মাহত।

ঘটনার বর্ণনা আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল না। শিরোনামের সুবিধার্থে বললাম। যাক সে কথা। এখন জানা যাক ভিকটিমের পরিবারের কী অবস্থা। এই বিচিত্র পৃথিবীতে এ ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কিন্তু আমরা সব ঘটনাকে উপলব্দি করি না। কারণ, সবাইতো আমাদের আত্নীয় না। তাছাড়া ব্যস্তময় জীবনে এ সুযোগই আসে না। সে দিন বুঝতে পেরেছিলাম পরিবারের সদস্য হারালে কেমন লাগে। রিফাতের পিতা-মাতার অবস্থা দেখে বুঝতে পেরেছিলাম পিতা-মাতার কাছে সন্তান কী। সে বর্ণনার ভাষা আমার নেই। তাই লেখার ক্ষমতাও আমার সাধ্যের বাইরে। শুধু এটুকু বলব আপনাদেও যাদের পিতা-মাতা আছে তাদের কাছে একবার গিয়ে বলুন আব্বু-আম্মু তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।

এখন আমার দু’একটি উপলব্ধির কথা শেয়ার করি। ঘটনার প্রেক্ষাপটে আমি মৃত্যুকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলাম। সবাই জানে অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই। মৃত্যু নির্দিষ্ট সময় আসবেই। যে কোন সময় মৃত্যু আপনাকে গ্রাস করতে পারে। মৃত্যুকে উপলব্ধি করে আমি জীবনের দুটি অর্থ খুঁজে পাই। একটি জীবনের সংক্ষিপ্ত সময়। অন্যটি জীবনের গুরুত্ব। মানুষের মৃত্যু যে কোনো সময় হতে পারে। এই দৃষ্টিতে পার্থিব জীবনের কোনো মূল্যই নেই। আবার, যেহেতু জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত তাই ইহার সদ্বব্যবহার খুবই প্রয়োজন। যে যত বেশি ভালো কাজ করতে পারে। সূরা মূলক’র ২ নাম্বার আয়াতটির অর্থ হচ্ছে,"যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবনও মৃত্যু তোমাদের পরীক্ষা করার জন্যে, তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।"

সুতরাং বলব , চলুন আমরা একটু চিন্তা করি। আমরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি কিন্তু এসব বিষয় কখনো চিন্তা করি না। চিন্তা করলে আমার মনে হয়, আমরা সবাই ভালো কাজের প্রতিযোগিতার আসরে নেমে যেতাম। একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন। যে কোনো সময় মৃত্যু আসতে পারে। ভালো কাজে নেমে পড়ৃন। ভাল কাজ করুন, অন্যকে উৎসাহিত করুন। মৃত্যু আপনার সবসময় সাথেই আছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে,"নিশ্চয় প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।" আশা করি আপনাদের সচেতনতার পরিধি আরো লম্বা হবে।

বন্ধু নির্বাচনের বিষয়টা যদি বলি তাহলে বন্ধুর একটা সংজ্ঞা দেয়া উচিত।


A FRIEND IS A TREASURE
A friend is someone we turn to
When our spirits need a lift,
A friend is someone we treasure
For our friendship is a gift,
A friend is someone who fills our lives
With beauty, joy, and grace
And makes the world we live in
A better and happier place.



A Friend....

Accepts you as you are
Believes in "you"
Calls you just to say "HI"
Doesn't give up on you
Envisions the whole of you (even the unfinished parts)
Forgives your mistakes
Gives unconditionally
Helps you
Invites you over
Just because
Keeps you close at heart
Loves you for who you are
Makes a difference in your life
Never Judges
Offers support
Picks you up
Quiets your fears
Raises your spirits
Says nice things about you
Tells you the truth when you need to hear it
Understands you
Values you
Walks beside you
Yells when you won't listen and
Zaps you back to reality

May we always be "good buddies"
May we always be good friends
and may our friendship be the kind
that never ends.....................(সংগৃহিত)

অতএব, ভেবে-চিন্তে বন্ধু নির্বাচন করুন। যাতে রিফাতের মতো আর কোনো ছাত্র বন্ধু নামে ঐসব পাষন্ড-, মানুষ নামে সেই অমানুষ, ছাত্র নামে সেই অছাত্রের নির্মম হাতের বলি না হয়।


সাব-ইডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম