Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu October 21 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

লাজুক ও সতর্ক স্বভাবের রাজঘুঘু হারিয়ে যাচ্ছে

Published:2014-09-12 12:20:18    

বাংলাসংবাদ২৪: প্রকৃতির অপরুপ রুপ এনে দেয় বৃক্ষ আর পাখি। নির্বিচারে নিধনের ফলে সেই বৃক্ষ আর নেই। এ কারণে অনেক প্রজাতির পাখিও নির্বংশ প্রায়। মানুষের অকৃত্রিম এই দুই বন্ধু মানুষের কারণেই হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার চেনা- অচেনা কত না পাখি। তাদেরই এক প্রজাতি সবুজ ঘুঘু বা রাজঘুঘু। নির্বিচারে প্রাকৃতিক বৃক্ষ নিধন আর উচ্চ ফলনশীল ফসল আবাদ করতে জমিতে উচ্চ দ্রবনীয় বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং অবাধ পাখি শিকারের কারণে সবুজ ঘুঘু হারিয়ে যেতে বসেছে।

অথচ এই আশির দশকেও গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র দেখা মিলতো এই শৈল্পিক সবুজ ঘুঘু পাখির। এখন আর তেমনটি চোখেই পড়ে না এই পাখিটি। সবুজ ঘুঘুর পিঠ ও ডানার পালক সবুজ, বুকের পালক গোলাপী এবং মাথা ধূসর গোলাপী মিশেল। ঠোঁট পায়ের রং উজ্জ্বল লাল আর চোখ দুটি কালো পুঁতির মতো। এরা শষ্যদানার পাশাপাশি ছোট পোকা-মাকড়ও খায়। করুণ সুরে এরা ডাকে। সবুজ, রাজ ও বাঁশ ঘুঘু নামেও এরা পরিচিত এলাকা ভেদে।

কলাম্বিডি গোত্রের অন্তর্গত অত্যন্ত সুন্দর সবুজ ঘুঘু কোথাও আবার পাতি শ্যামা ঘুঘু নামেও পরিচিত। ভারতের তামিলনাড়–- প্রদেশের প্রাদেশিক পাখি হিসাবে পরিচিত এই ঘুঘু। ঘুঘুর দ্বিতীয় কোন প্রজাতির এমন রং আর নেই। এদের ওজন ১৩০ থেকে ১৩৫ গ্রাম। আয়ুষ্কাল ৬ থেকে ৭ বছর। এরা মুলত: পাতাঝরা, চিরসবুজ, শাল ও বাঁশবনের নিভৃতচারী বাসিন্দা। সচরাচর একাকী ছায়াঘেরা বনবীথির নির্জনতায় বা ঝোপ- ঝাড়ের মেঝেতে হেঁটে বেড়িয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ফল বা তার বিচি, শষ্যদানা, বীজ, কিছু কিছু কীটপতঙ্গ, বিশেষ করে উঁইপোকা ধরে খায়।

ভোরবেলা খাবার সন্ধানে এরা বের হয়। বাক সময় গাছের ডালে বসে সময় কাটায়। এরা ভীষন লাজুক ও সতর্ক স্বভাবের পাখি। একটু শব্দ শুনলেই দ্রুত গতিতে উড়ে পালায়। সারাবছর প্রজনন করতে পারলেও সাধারণত বর্ষার আগে এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে ডিম দেয় বেশি। ছোট গাছ, বাঁশঝাড় বা ঝোপ- ঝাড়ে কিছু খড়কুটো জড়ো করে ছোট্ট ও অগোছালো বাসা বানায়। এরা তেমন একটা সংসারী পাখি নয়। স্ত্রী পাখি হালকা হলদে বা ঘিয়ে রঙের ডিম পাড়ে। ডিম ফোটায় ১২ দিনে। সুন্দর এ পাখিটি রক্ষায় মানুষের আন্তরিকতা প্রয়োজন।

আমিরুজ্জামান/ইকরাম
 

আরও সংবাদ