Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সুন্দরগঞ্জ লিটনের গুলিতে রক্তাক্ত “ সৌরভ ”

Published:2015-10-03 11:19:38    
বাংলাসংবাদ 24.কম ,মু.হামিদুর রহমান । গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মন্জুরুল ইসলাম ওরফে লিটন নিজের দলেও বিতর্কিত। তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল বলেন, সাংসদের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি বেশির ভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকায় নানা অঘটন ঘটিয়ে থাকেন।
 
শাহাদাতের পরিবার থাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামে। সে গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে চাচা শাহজাহান আলীর সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিল শাহাদাত। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে বাড়ির পাশে সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কে ব্র্যাক মোড় এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
 
 
সাংসদ মন্‌জুরুল ইসলামের সেই পাজেরো গাড়ি। এ গাড়িতে বসেই সাংসদ গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ lপ্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সাংসদ মন্জুরুল ওই সড়ক দিয়ে পাজেরো চালিয়ে বামনডাঙ্গা থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে যাচ্ছিলেন। সাংসদ ব্র্যাক মোড় এলাকায় গিয়ে গাড়ি থামান এবং গাড়িতে বসে জানালা দিয়ে শাহাদাতের চাচা শাহজাহানকে ডাকেন।
 
 
কিন্তু শাহজাহান ভয়ে দৌড় দিলে সাংসদ ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বের করে শাহজাহানকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। দুটি গুলি শিশুটির ডান পায়ে ও একটি বাঁ পায়ে লাগে। এরপর স্থান ত্যাগ করেন সাংসদ। গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে যান। তাঁরা শাহাদাতকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে রংপুরে যাওয়ার পথে বামনডাঙ্গা এলাকায় শাহাদাতকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয় সাংসদের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ছাড়িয়ে নেয়।
 
 আওয়ামী লীগের সাংসদ মন্জুরুল ইসলাম ওরফে লিটন নিজের দলেও বিতর্কিত। তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল বলেন, সাংসদের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি বেশির ভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকায় নানা অঘটন ঘটিয়ে থাকেন। 
 
 
তিনি দিনের বেলা ঘুমান আর রাতে নিজে পাজেরো গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ান। এগুলো দলের নেতা-কর্মীদের বিব্রত করে।সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম বলেন, সাংসদ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এর আগেও তিনি একই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মামুনুর রশিদকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। কিন্তু গুলি তাঁর গায়ে লাগেনি। মামুনুর দৌড়ে কবরস্থানে পালান।
 
সাংসদ ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লোকজনকে গালিগালাজ করে বলেন, ‘এই তুই জামায়াত করিস, তোকে মারি ফেলব।’ শুধু তাই নয়, তিনি সরকারি কর্মকর্তাদেরও গালিগালাজ করে থাকেন।সাজেদুল ইসলাম আরও বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী হাসানগঞ্জ কালিতলা বাজারে যাত্রাগানের আসরে গিয়ে হইচই করেন। যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। সাংসদের এ ধরনের কাজের দায়দায়িত্ব দল নেবে না।
 
 
তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গোলাম কবীর বলেন, সাংসদ কোনো উন্নয়ন কাজের তদারকি করেন না। উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটার কাজ থেকে শুরু করে সাংসদের সব কাজের নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদ জাহান। এলাকার জনগণ সাংসদের কাছে কোনো কাজে গেলে স্ত্রী খুরশিদ জাহানের মাধ্যমে তাঁর কাছে যেতে হয়।
 
 
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে এই প্রতিনিধি গতকাল বিকেলে সাংসদের বাসায় গেলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাসা থেকে বলা হয়, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তাঁর স্ত্রীও এ বিষয়ে কিছু বলেননি। পরে বারবার ফোন করা হলেও সাংসদ তা ধরেননি।সাংসদ মন্জুরুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা নির্বাচনে’ প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন। এর আগে তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ট্রেন পরিচালনার ব্যবসায়িক কাজ পান। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ইসলাম শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং
নিন্দা:  জামায়াতে ইসলামী , আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশ গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও সাংসদ মন্জুরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

আরও সংবাদ