Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue September 25 2018 ,

লক্ষ্মীপুরে ফলন হচ্ছে কোটি টাকার সুপারি!‍

Published:2015-11-17 12:38:04    

লক্ষ্মীপুরে ফলন হচ্ছে কোটি টাকার সুপারি!‍


1


লক্ষ্মীপুরের ‘লক্ষ্মী’ অর্থকরী ফসল হিসেবে খ্যাতি রয়েছে সুপারির। বাড়ির ভিটা কিংবা কৃষি জমির পাশে বাগানের সুপারি গাছে ফলন হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সুপারি।


এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার বাজার দরও বেশি। এতে করে চাষী গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি।


বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কেনা বেচায় ব্যস্ত রয়েছে সুপারি ব্যবসায়ীরা। এ মৌসুমে জেলায় ২০০ কোটি টাকার সুপারির ফলন হয়েছে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ৬,২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। এর মধ্যে রায়পুর উপজেলায় ৩,১৫০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১,৮৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৫৭৫ হেক্টর, কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর ও রামগতি উপজেলায় ৪০ হেক্টর। ওইসব বাগানে এ বছর প্রায় ১৫,০০০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন ধরা হয়েছে।


বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্য ২০০ কোটি টাকার বেশি।


সংশ্লিরা জানায়, বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারি পুরোপুরি পাকা হয় কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসে। মূলত কার্তিক মাসের শেষে আর অগ্রহায়ণ মাসই সুপারির ভরা মৌসুম।


জেলার রায়পুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সুপারির ফলন হয়। এখানকার সুপারির প্রায় ৪০ ভাগ নদী-নালা, সংযোগ খাল, ডোবা-পুকুরে, পানি ভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অপর অংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।


সুপারি বিক্রির প্রধান মোকামগুলো হচ্ছে সদর উপজেলার দালাল বাজার, চন্দ্রগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, জকসিন, রায়পুর উপজেলা শহর, হায়দরগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, দেনায়েতপুর,খাসের হাট, মোল্লার হাট।


এসব বাজার থেকে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে নেন। এ বছর প্রতি কাহন (১২৮০ পিস) সুপারি ১৮/১৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পোন সুপারি (৮০ পিস) প্রকারভেদে ৭০ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি।


চাষীদের অভিযোগ, সুপারি গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন রকমের সহযোগিতা ও তদারকি নেই। এতে করে রোগ বালাইয়ে গাছ মরে যাওয়াসহ কাঙ্ক্ষিত ফলনে বিঘ্ন ঘটে।


গাছ রোপণ ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণে কৃষি বিভাগের লোকজনের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরে এ অর্থকরী ফসল আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


রায়পুরের চর আবাবিল গ্রামের সুপারি চাষী আকবর হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাকা সুপারির দাম অনেক বেশি। সুপারির খুব ভাল দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।


সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজরের সুপারি ব্যবসায়ি ইসমাইল হোসেন জানান, এবার তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকার সুপারি কিনে পানিতে ভিজিয়েছেন। তিনি আশা করছেন এবার পানিতে ভেজানো সুপারির দামও বেশ ভাল হবে।


এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় সুপারির খুব ভাল ফলন হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২০০ কোটি টাকার বেশি ধরা হয়।


তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দাম বেশ ভাল হওয়ায় চাষীরা লাভবান হয়েছেন। চাষীরা সহযোগিতা চাইলে কৃষি কর্মকর্তারা পরিচর্যায় সহযোগিতা করে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।

অ.মুজাহিদ
সূত্র: বাসস
 

আরও সংবাদ