Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Wed November 21 2018 ,

  • Advertisement

৭২১ ইউপিতে ভোটের প্রচার শেষ

Published:2016-03-21 08:37:43    
 
তৃণমূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভোটের লড়াইয়ের প্রচার কাজের সময় শেষ হয়ে গেছে।
ছয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৭২১টিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে। এ ভোট সামনে রেখে রোববার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
 
ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় থাকবে সাধারণ ছুটি।
 
স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে এবারই প্রথম চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। তৃণমূলে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এ ভোটে ১৪টি দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষে।
 
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত তফসিলে প্রথম ধাপে ৭৫২টি ইউপিতে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হলেও নানা জটিলতায় বাতিল হয়েছে ও পিছিয়ে গেছে ৩১টির ভোট।
 
২২ মার্চ মঙ্গলবার হচ্ছে ৭২১টির ভোট। এরপর ২৩ মার্চ হবে ১১টির ও ২৭ মার্চ দুটির। প্রথম ধাপের বাকি ১৮টির ভোট আইনি জটিলতায় তফসিল থেকে বাদ দিয়েছে ইসি।
 
প্রথম ধাপের ৭৩৪টি ইউপির ভোটে মোট প্রার্থী ৩৬ হাজার ৬৪০ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী তিন হাজার ৪১ জন, সাধারণ সদস্য প্রার্থী ২৫ হাজার ৯৮৫ জন এবং সংরক্ষিত পদে প্রার্থী সাত হাজার ৬১৭ জন।
 
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৭৩৩ জন, বিএনপির ৬১৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এক হাজার ২৪৬ জন। ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৯ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
 
নির্বাচনে সাত হাজার ৮৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে; ভোটকক্ষ ৩৮ হাজার ৩৬টি। ভোটার এক কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৯ জন এবং নারী ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ জন।
 
মঙ্গলবার যে ৭২১ ইউপিতে ভোট হবে তার প্রচার কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা ছিল রোববার দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে। তাই এদিন ভোর থেকেই গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীরা।
 
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব সামসুল আলম জানান, সোমবার প্রথম প্রহর থেকে বন্ধ থাকবে নির্বাচনী প্রচার। ভোট শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার, সভা-সমাবেশ ও শোডাউন নিষিদ্ধ। ভোটের পরে ৪৮ ঘণ্টাও কোনো মিছিল করা যাবে না।
 
গোলযোগ-সহিংসতার মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় এ নির্বাচনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোববার মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রচারের সময় শেষ হওয়ার আগে বহিরাতগতদের ছাড়তে হয়েছে নির্বাচনী এলাকা।
 
ইতোমধ্যে প্রচারকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগেই অন্তত সাত জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কয়েকশ’ লোক আহত হয়েছে।
 
নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ রোববার বলেন, “অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
 
নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত রাখা হচ্ছে এবার। ভোটের আগের দুই দিন থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত চারদিন থাকবে তারা। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা সদস্য বাড়াবে স্থানীয় প্রশাসন।
 
দলভিত্তিক এ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনার মুখে থাকা ইসির উপ-সচিব সামসুল বলেন, “রোববার থেকে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতি উপজেলায় তিনজন নির্বাহী হাকিম ও একজন বিচারিক হাকিম থাকবেন।
 
“পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।”
 
তিনি জানান, নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে গেছে। সোমবার বিকালের মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বসবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসার ব্যাটালিয়ন ও আনসার-ভিডিপির প্রহরা; টহলে থাকবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
 
উপ-সচিব সামসুল আলম বলেন, ইউপি ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় উপজেলাভিত্তিক মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তিন প্লাটুন করে বিজিবি রাখা হয়েছে। সঙ্গে থাকবে র‌্যাবের তিনটি টিমও।
 
উপকূলীয় এলাকায় বিজিবির পরিবর্তে কোস্ট গার্ড থাকবে। প্রতি ইউনিয়নে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সমন্বয়ে একটি করে মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে।
 
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ছয় ধাপে ৪ হাজার ২৭৯ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ইসি।
 
সে অনুসারে পরবর্তীতে ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি ইউপি, ৭ মে ৭২৮টি ইউপি, ২৮ মে ৭১৪টি ইউপি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা।
 
ইউপিতে প্রথম ধাপের এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ৬২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও আদালতের নির্দেশে আট ইউপিতে প্রার্থী যোগ হওয়ায় বাকি ৫৪ জন নির্বাচিত হন।
 

আরও সংবাদ