Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Thu November 22 2018 ,

  • Advertisement

বইমেলায় নীতিমালা ‘ভাঙছে’ প্রকাশনীগুলো

Published:2017-02-07 09:16:04    
অমর একুশে গ্রন্থমেলা নীতিমালার একটি ধারা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে বেশকটি প্রকাশনীর বিরুদ্ধে।
 
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকেই আনা হয়েছে এই অভিযোগ। পরিপ্রেক্ষিতে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটি বলেছে, নীতিমালা ভাঙার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠান ‘কঠোর শাস্তি’ পাবে, যা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে নির্ধারিত হবে।
 
গ্রন্থমেলা নীতিমালার ৬.৪ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল তাদের নিজেদের প্রকাশিত ও পরিবেশিত বই বিক্রি করতে পারবে। পরিবেশিত বই একাধিক স্টলে থাকা যাবে না।
 
গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গণি বলেন, “আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বেশকটি স্টলে গিয়ে ৬.৪ ধারাটির ব্যতয় দেখেছি। এটা সুস্পষ্টভাবে নীতিমালা লঙ্ঘন। আমরা এ নিয়ে বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছি।
 
“একাডেমিকে বলেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। তারা যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানাব,” বলেন  আগামী প্রকাশনীর এই স্বত্বাধিকারী।
 
মেলায় ঘুরে বিভিন্ন স্টলে দেখা গেল নিয়মের ব্যতিক্রম। বাংলা একাডেমির ভেতরে সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেল ওয়ার স্টাডিজ- এর স্টলে বিক্রি হচ্ছে আগামী প্রকাশনী থেকে বের হওয়া ‘শেখ হাসিনা: নির্বাচিত প্রবন্ধ’, অনন্যা থেকে প্রকাশিত ‘আমি বিজয় দেখেছি’, জাগৃতি থেকে প্রকাশিত নীলিমা ইব্রাহীমের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’, প্রথমা থেকে প্রকাশিত এ কে খন্দকারের ‘ভেতরে বাইরে’ বইগুলো বিক্রি করছে তারা।
 
এই প্রকাশনীর বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তো বলা হয়েছে- এসব বই বাংলা একাডেমির কমিটি থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।”
 
কিন্তু মেলা কমিটির সদস্য ওসমান গণি তা নাকচ করে দিয়েছেন।
 
সেন্টার ফর এডুকেশন ইন সায়েন্সের স্টলে বিক্রি হচ্ছে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত ‘বিশ্ব জলাধার পরিবর্তন গবেষণা’,  মুহাম্মদ ইব্রাহীমের ‘বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন: গবেষণাগুলো কী’।
 
মাওলা ব্রাদার্সের কর্ণধার আহমেদ মাহমুদুল হক বলেন, “মুহাম্মদ ইব্রাহীম তার নিজের স্টলে বইগুলো প্রদর্শন করবেন বলে নিয়েছিলেন। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে কি না তা জানা নেই।”
 
মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত দুটি বই অন্য একটি স্টলে বিক্রি হতে দেখা যায়। মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত দুটি বই অন্য একটি স্টলে বিক্রি হতে দেখা যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে হেলাল পাবলিকেশন্সের স্টলে বিক্রি হচ্ছিল ‘হযরত ফাতেমা (রা.) এর জীবনী’ ও দাম্পত্য-সমস্যাবিষয়ক নানা বই, যা নিহাল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত।
নীতিমালার ব্যত্যয় করে শাহজী প্রকাশনী বিক্রি করছে ইতি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আনিসুল হকের ‘কিশোর সমগ্র’ ও সেলিনা ইয়াসমীনের ‘আধুনিক রান্না’-র বই ।
 
গ্রন্থমেলার সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, যেসব প্রকাশনী স্টল পায়নি তাদের বইগুলো জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে বিক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র।
 
গণপ্রকাশন বিক্রি করছে হাওলাদার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত রাহুল সাংকৃত্যায়নের ‘মানব সমাজ’, কমরেড অমল সেন ট্রাস্টের অমল সেনের ‘সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনগণের বিকল্প শক্তি’। কালি ও কলম প্রকাশনী থেকে বিক্রি হচ্ছিল মাতৃভূমি থেকে প্রকাশিত মাহবুবুর রহমানের ‘ভারতীয় দর্শন’, ‘বাংলার ইতিহাস’-বইগুলো।
 
ইউনিভার্সেল একাডেমির স্টলের বিক্রয়কর্মীরা অভিযোগ করেন, সাহিত্যদেশের স্টলে তাদের বই ‘বাঁধা’ বিক্রি হচ্ছে অনুমতি ছাড়াই।
 
নীতিমালা লঙ্ঘন করে এক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই অন্য প্রকাশনীর স্টলে বিক্রি হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে স্বীকার করেন গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ।
 
বাংলা একাডেমির এই পরিচালক বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
“নীতিমালায় এ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তির কথা বলা হয়নি সুস্পষ্টভাবে। মেলা কমিটির সভায় তাদের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।”
 
শাস্তির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে জালাল আহমেদ বলেন, “আমরা এসব নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে এবার কোনো ছাড় দেব না।”
 
‘হঠাৎই বেড়েছে বেচাকেনা’
 
মেলার ষষ্ঠ দিনে এসে বেড়েছে বইয়ের বিক্রি, যাতে আশাবাদী হয়ে উঠেছে প্রকাশকরাও।
 
ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, “কয়েকদিনের তুলনায় সোমবার বিক্রি অনেকটা বেড়েছে। আজকের  মতো বিক্রির এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে এবারের মেলা সফলতায় উন্নীত হবে।”
 
মেলায় ভালো বই যত বেশি আসবে বিক্রিও তত বেশি হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
 
চারুলিপি প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবির বলেন, “বিক্রি বাড়ানোর জন্য আর পাঠকদের ধরে রাখতে হলে অবশ্যই ভালো বই বেশি করে প্রকাশ করা উচিৎ।”
 
ষষ্ঠদিনে নতুন বই
 
বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মেলার ষষ্ঠ দিনে ৯০টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে গল্পের বই ১৪টি, উপন্যাস ১১টি, প্রবন্ধের ১০টি, কবিতার ২২টি, ছড়ার দুটি, শিশুসাহিত্যের চারটি, জীবনী বিষয়ক দুটি, রচনাবলী একটি,  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি ১, বিজ্ঞান বিষয়ক পাঁচটি, ভ্রমণ বিষয়ক দুইটি, ইতিহাসের দুইটি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনটি, কম্পিউটার বিষয়ক একটি, সায়েন্স ফিকশন একটি ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে নয়টি বই এসেছে সোমবার।
 
মূল মঞ্চের আয়োজন
 
সোমবার বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে হয় ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার অভিধান: দেড়শোতম জন্মবর্ষের স্মরণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. স্বরোচিষ সরকার। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আহমদ কবির, অধ্যাপক মহাম্মদ দানীউল হক ও হাকিম আরিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. গোলাম মুরশিদ।
 
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সুজিত মোস্তফা, ইয়াসমিন মুশতারী এবং এ কে এম শহীদ কবীর পলাশ। হুদা। 

আরও সংবাদ