Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon July 16 2018 ,

প্রধান বিচারপতি নিয়ে কেন এই রাজনীতি ?

Published:2017-09-12 22:03:35    

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু :  বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি  নিয়ে চলছে পক্ষ বিপক্ষে  রাজনৈতিক কাদা ছুড়াছুড়িসরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যপ্রধান বিচারপতির পদটি নিয়ে এর আগেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছেকারণ একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান পদটি পালাক্রমে সর্বশেষ প্রধান বিচারপতিকে করার নিয়ম ছিলlফলে নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি বেক্তিটির গুরুততা ছিলতবে এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা নেইতবুও কেন একজন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এতো তর্ক বিতর্কএমন কি তিনি করেছেন যার জন্য আসছে অভিযোগ?

একটি দেশের আইন প্রণয়ন করে দেশের জাতীয় সংসদপরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংসদে পাশ করা আইনকে কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করে থাকেএভাবেই চলছে বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশবাংলাদেশ এর বেতিক্রম হবে কেন?আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রশাসন আলোচনা পর্যালোচনা করে সাধারণত বিচারকদের নিয়োগ দিয়ে থাকেএখানে দক্ষতা ও সিনিয়ারিটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো প্রশ্ন আসতে পারে নারাজনীতিকে যদি এখানে টেনে আনা হয় তাহলে দেশের আইন বিভাগ কখনো নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে নাআইনকে অবহেলা করে যদি কোনো বিচারককে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে আইন মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আসবেl

গণতান্ত্রিক দেশ সুইডেনে সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১৪ জন বিচারপতি নিয়োগের নিয়ম  রয়েছেআইন মন্ত্রণালয় এসকল ব্যক্তির বিচারপতি পদবি নির্ধারণ করে থাকেপরবর্তীতে সরকার থেকে তাদের নিযুক্ত করা হয়এসকল বিচারপতিদের মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে সরকার নিয়োগ করে থাকেনবর্তমানে সুইডিশ সুপ্রিম কোর্টে ১৬ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেনতবে সরকার প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারবে কি পারবে না  বিষয়টি নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছেজাতীয় সংসদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত একটি বেসিক অনুসন্ধান রিপোর্টের মতে আদালত ও সরকারের ক্ষমতার মধ্যে একটি পরিষ্কার পার্থক্য সৃষ্টির জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণl   

তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন না আনা হলেও ২০১৫ প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন জারি করা হয়অর্থাৎ যে কোনো বিচারপতি এই পদের জন্য আবেদন করতে পারেনডুমেইন পরবর্তীতে নিযুক্তের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখবেlসরকার তখন  অফিসিয়ালি নিযুক্ততা দিয়ে থাকেনপ্রধান বিচারপতি ও বিচারপতি নিয়োগের বেলায় সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তটি  করার কারণ হলো পদগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা নিযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণতবে একজন বিচারককে নীতিগতভাবে কখনো তার পদ থেকে বহিষ্কার করা যায় নাযদি না তিনি প্রভাবিত হয়ে তার কার্যকারিতায় কোনো ভুল ত্রুটি না করেনসুইডেনের একজন বিচারপতিকে নিয়ে পতিতাবৃত্তির সাথে সম্পর্কের কারণ উঠে আসলে পদ হারানোর বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো বেবস্থা গ্রহণ করা যায়নিকারণ দেশে কোনো আইন নাই যে এই কারণে কোনো বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরাতে পারেl

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক সম্প্রতি বিভিন্ন সমাবেশে কিছু কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা ও তার দেওয়া একটি রায়ের উপর লিখিত বিবরনকে কেন্দ্র করে এখন সরকারী দল থেকে প্রশ্ন উঠেছে তাকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্যকিন্তু কেনকি তার অপরাধতিনি কি তার পদের বাহিরে প্রভাবিত হয়ে কোনো রায় দিয়েছেনতিনি কি জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাশকৃত কোনো আইনকে লঙ্গন করেছেনতিনি কি বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিসংবাদিত নেতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কিছু লিখেছেনরায়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে বহিষ্কারের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ  নেওয়ার সুযোগ রয়েছেপর্যবেক্ষকমহল মতে বিষয়গুলোকে ভালোভাবে পরীক্ষা না করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকার ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে কথা কাটাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেএকজন প্রধান বিচারপতিকে নিযুক্ত দেওয়ার ক্ষমতা যেমন সরকারের রয়েছে ঠিক তেমনি এই পদ থেকে বহিষ্কার করার ক্ষমতাও সরকারের রয়েছেতবে একমাত্র  যদি তিনি প্রভাবিত হয়ে তার কার্যকারিতায় কোনো ভুল ত্রুটি করেন তাহলেই তাকে বহিষ্কার করা যায়l

বাংলাদেশের বিচারপতিদের ইদানিং রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা যায়বিষয়টির যুক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারেlবিচারপতি দেশের একটি অত্যন্ত সম্মানজনক পদসুতরাং এসকল সম্মানিত বেক্তিদের রাজনীতির বাহিরে থাকাটাই যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করিঅন্যদিকে বিচারপতি নিয়োগের বেলায় সরকারের আইন মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবেঅভিজ্ঞতা যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির উপর নির্ভর করেই বিচারপতি পদে নিযুক্ত করতে হবে যা হবে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি সন্মান প্রদর্শনএক্ষেত্রে রাজনীতিকে টেনে আনা কিংবা নিজের পছন্দমতো বেক্তিদের নিযুক্ত করা গণতন্ত্রের উপর আঘাত ব্যতীত কিছুই নয়l

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারী দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে যেভাবে একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য রাখা হয়েছে তা  বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সন্মান ছোট করছে ব্যতীত অন্য কিছু নয়প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে সরকারী দলের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য অত্যন্ত রুক্ষ বলে আমি মনে করিতাদের এধরণের লাগামবিহীন বক্তব্যের কারণে বিরোধী পক্ষ কথা বলার আরো সুযোগ পেয়েছেএবেপারে সরকারকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়াটা হবে ইতিবাচকজাতীয় সংসদে পাশকৃত আইনকে তার নিজস্ব পথে চলার অধিকার না দিলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছেদেশের প্রচলিত আইনের উপর হস্তক্ষেপ করা কোনো সরকারেরই উচিত নয়l

লেখক: জুরি স্টকহল্ম এপিল কোর্ট ডিভিশন ।

আরও সংবাদ