Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri May 24 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণ অনাবৃষ্টি

Published:2018-04-18 21:56:00    
 
এই উপমহাদেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম প্রধান হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতা। ব্রোঞ্জ যুগের এই সভ্যতা ৩৩০০ থেকে ১৩০০ খ্রিস্ট্রপূর্ব পর্যন্ত টিকে ছিল। তবে সিন্ধু সভ্যতার শেষ কিংবা ধ্বংসের কারণ নিয়ে ঐতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের মনে রহস্য রয়েই গেছে। নানা গবেষণা চললেও সঠিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি।
 
সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণ হিসেবে নতুন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তাদের মতে টানা ৯শ’ বছরের খরার কারণেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এই প্রাচীন সভ্যতা। এর আগেও গবেষকেরা আন্দাজ করেছিলেন, প্রায় শ’দুয়েক বছরের অনাবৃষ্টির কারণে সভ্যতার মানুষ স্থানটি ত্যাগ করেছিল।
 
 
কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরের আইআইটি ভূতত্ত্ব এবং ভূপদার্থ বিভাগের একদল গবেষক সেই দাবিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে এই গবেষকেরা উত্তরপশ্চিম হিমালয়ের গত ৫ হাজার বছরের আবহাওয়া ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই গবেষণা থেকেই তারা জানতে পারেন যে সিন্ধু সভ্যতার হারিয়ে যাওয়ার কারণ ২শ’ নয় দীর্ঘ ৯শ’ বছরের অনাবৃষ্টি। আইআইটি খড়গপুরের নতুন এই প্রতিবেদন চলতি মাসেই কোয়াটারনারি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত হবে।
 
গবেষক দলের প্রধান আইআইটি’র ভূতত্ত্ব বিভাগের ফ্যাকাল্টি অনিল কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে সিন্ধু সভ্যতা যে অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল সেখানে প্রায় ২৩৫০ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্ট্রপূর্ব পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
 
 
 
তার মতে, টানা ৯শ’ বছর ধরেই উত্তরপশ্চিম হিমালয়ে অনাবৃষ্টি চলছিল। ফলে ওই এলাকার সব নদী, হ্রদ, জলাশয় শুকিয়ে যায়। যে হিমবাহ থেকে সিন্ধু নদের উৎপত্তি, তা থেকেই নাকি লেহ্‌–লাদাখ অঞ্চলে অবস্থিত সো মোরিরি হ্রদেরও উৎপত্তি বলে জানান তিনি।
 
হ্রদটির বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করেও তারা জেনেছেন, দীর্ঘকালীন খরায় হ্রদের অস্তিত্বই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদেই সিন্ধু অঞ্চলের মানুষেরা পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতের দিকে চলে যান।
 
এরই কারণে পরে গাঙ্গেয় সভ্যতা এবং দক্ষিণ ভারতীয় সভ্যতা বেড়ে ওঠে। গবেষকদের দাবি, নতুন এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতের সভ্যতা এবং জলবায়ু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে সাহায্য করবে।

আরও সংবাদ