Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

Published:2018-08-12 21:44:14    
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। তারা বলেন,  সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামলে কোন স্বৈরশাসক টিকতে পারে না, তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে কর্তব্যরত ৪০ জন সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে আজ ১২ আগস্ট (রবিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতাকালে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। 
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার ১৭ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী গণসংহতি সমাবেশ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।  
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে যৌথভাবে এ কর্মসূচীর ডাক দেয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটকের বাইরে তোপখানা রোডে সকাল থেকে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা।
বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে ও জাতীয প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে’র সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ,  বিএফইউজে’র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন ও মোদাব্বের হোসেন, সহকারি মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, বিএফইউজে সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী মাসুদ, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, দফতর সম্পাদক শাজাহান সাজু, জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর, প্রচার সম্পাদক মাসুদা সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, এইচ এম আল আমিন, রফিক লিটন, সাংবাদিক নেতা রফিকুল ইসলাম আজাদ, আবুল কালাম মানিক, রাশেদুল হক আবুল হাসান হৃদয়, কামরুজ্জামান কাজল প্রমুখ। 
রুহুল আমিন গাজী বলেন, এই সরকারের আমলে ৩২ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনের ও বিচার হয়নি। আলোচিত সাগর-রুনী হত্যার বিচারও হয়নি। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিষিহ অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে- হাজার হাজার সাংবাদিক আজ বেকার। এভাবে একের পর এক সাংবাদিকদের উপর হামলা নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর হামলার চিত্র ধারণের সময় ছাত্রলীগের গুন্ডারা সাংবাদিকদের উপর যে বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানানো ভাষা জানা নেই। অবিলম্বে এসব হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সংহতি প্রকাশ করে  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতির বিবেক সাংবাদিকদের উপর হামলা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং যতদিন হামলাকারীদের বিচার না হয় ততদিন আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি। সরকারে প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আর ভুল করবেন না। অবিলম্বে সকল হামলাকারী গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন। ফটো সাংবাদিক শহীদুল আলমকে পাটনা রেখে দেশকে আরও ছোট করবো না। বিলম্বে তাকে মুক্তি দিন। 
শওকত মাহমুদ বলেন, বর্তমানে সরকার গুজব গুজব নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর প্রচারে মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গণমাধ্যমের উপর অঘোষিত ও সেন্সরশীপ আরোপ করা হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও জনগণের উপর হামলা বন্ধ করুন। তা না হলে আপনাদের (সরকার) রেহাই হবে না। পতন আপনাদের হবেই। 
এম আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের একটা বড় কু-কৌশলী হচ্ছে একের পর এক ইস্যু তৈরি করে অপকর্ম ধাপাচাপা দেয়া, সাংবাদিকদের উপর হামলা করে যদি মনে করেন ইস্যু ধামাচাপা দিবেন তা হবে না, হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বহু সাংবাদিকদের পঙ্গু ও বেকার করেছেন। এখন এসবের জবাব দেয়া সময় এসেছে। মাহমুদুর রহমানের উপর কুষ্টিয়া যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, সেই চিহ্নিত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহবান জানাচ্ছি। 
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এই সরকার একের পর এক সাংবাদিকদের উপর হামলা নির্যাতন করছে। কোনো বিচার হচ্ছে না। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর যে হামলা করা হয়েছে সেব সব হামলাকারীদের দৃষ্টিন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 
শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর যারা হামলা করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। মিডিয়ার উপর আরোপকৃত সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। সরকার সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর ১৬ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সরকারের বিদায় ছাড়া দাবি আদায় সম্ভব না। এ জন্য সকালে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত কায়দায় হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করে মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে, অথচ দিবালোকে ক্যামরার সামনে হামলাকারি চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর নৃশংস হামলাকারি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদেরর গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রীকে বিদায় নিতে হবে। সরকার যত কঠিন হবে, সরকারের পতন তত দ্রুত হবে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের যে সব ক্যাডাররা ছাত্র ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুন, তা না হলে সাংবাদিকরা তদন্ত করে হামলাকারীদের প্রকাশ্যে আনবে।
 
 

আরও সংবাদ