Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরাই মূলত এখন অস্ত্র ব্যবসা চালাচ্ছে

Published:2013-05-01 19:52:00    

রাজশাহী: অতিত কে ছাড়িয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে দিনদিন বেড়েই চলেছে অস্ত্রের চোরাচালান ও ব্যবসা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সীমান্ত পথে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার হয়ে আসছে বিভিন্ন অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অস্ত্র ব্যবসায়ী, রাজনৈতীক ক্যাডার ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক। বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এসব অস্ত্র চোরাচালানীদের হাত থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছে হত-দরিদ্র পরিবারের উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের। অল্প কিছু টাকার আশায় এবং অগাধ টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্নে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জেনেও এসকল পরিবারের ছেলে মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে অস্ত্র বহনের কাজে। বিভিন্ন যায়গায় অস্ত্রসহ আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুখে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এমনকি মাঝে মধ্যে আইন-শৃংক্ষলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দু একটি অস্ত্রের চালান আটক করতে পারলেও বড়বড় চালান থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অস্ত্রসহ হাতে নাতে দু একজন আটক হলেও তারা কামলা পর্যায়ের। মূল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধঁরা ছোয়ার বাইরে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত, ২৬/৪/২০১৩ ইং রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী আলাইপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশী পিস্তল ও পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ ৫ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

এছাড়াও গত, ২৫/৪/২০১৩ ইং তারিখে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গোপালহাটি নামক স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অদিপ্তর ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনে তল্লাশী চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও ৬২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। এসময় আরজেস আলী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন মাদকদ্রব্য কর্মকর্তারা।

এদিকে গত, ১২/৪/২০১৩ ইং তারিখে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ চোরাজচালানীদের গোলাগুলিতে হাবিবুর রহমান নামের এক চোরাচালানীর মৃত্যু হয়। তার সাথে আহত হয় আরও দুজন। এছাড়াও চারঘাট থানার পরিত্যাক্ত ভবন থেকে এসএম- জির দুটি ম্যাগজিন ও ৬০ রাউন্ড গুলি চুরি করে কে বা কারা। পরবর্তী সময়ে চারঘাট পৌরসভার পিছনের টয়লেটের ছাদের উপর থেকে সেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত এলাকার চোরাচলানীরা অন্যসব মাদক ব্যবসার চেয়ে অস্ত্র ব্যবসাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একারনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অস্ত্র ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, দলীয় ক্যাডারসহ যে কেউ অর্ডার করলেই মিলে যাচ্ছে অস্ত্র। একদিকে বোঝা কিংবা ভারি মালামাল না হওয়ায় আনা নেয়ার সুবিধা। অন্যদিকে অল্প টাকায় লাভের অংশ বেশি হওয়ায় সীমান্ত এলাকার চোরাচালানীরা ঝুকছে অস্ত্র ব্যবসার দিকে বলে সুত্রটি জানান।

সুত্রটি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরাই মূলত এখন অস্ত্র ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা ভারতীয় চোরাচালানীদের বলা মাত্রই মিলে যাচ্ছে যে কোন মালামাল। অস্ত্র নেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রিম অর্ধেক টাকা জামানত হিসেবে দিতে হয় এবং দু একদিন সময়ের মাঝেই মালামাল এসে পৌছে যায় ক্রেতার হাতে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির জানান, মাদকের পাশাপাশি চোরাচালানীরা অস্ত্রের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া রয়েছে অস্ত্র মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় না দিতে।


বাংলাসংবাদ২৪/এনডি/বিএইচ