Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

'খাওয়াব রাজভোগ, দেখাব বাঘের চোখ'

Published:2014-11-16 18:32:38    
 'খাওয়াব রাজভোগ, দেখাব বাঘের চোখ'

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F316%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

শেখ আবুল কাসেম মিঠুন: 'খাওয়াব রাজভোগ, দেখাব বাঘের চোখ', এটা একটা প্রবাদ। বাংলাদেশে খ্রিস্টান আমলেও দাস ব্যবসা ছিল। দাস মালিকরা দাসদের ব্যাপারে এমন মনোভাব পোষণ করত। পরবর্তীতে আমাদের বাপ-দাদাদের আমলে বাড়ির চাকর-চাকরানী বা রাখালদের ব্যাপারে এমন মনোভাব পোষণ করা হতো, এখনো হয়।

 

দাসশ্রেণীরা ক্ষুধা নিবৃত করতে পারলে খুশি থাকে। তাদের বেশিরভাগই নিজস্ব আদর্শ বিকিয়ে দেয় এবং মালিকের আদর্শ গ্রহণ করে। বিষয়টাকে আমরা বৃহত্তর পরিসরে কল্পনা করতে পারি। এক ব্যক্তিকে অনেক ব্যক্তি ধরে আমরা রাষ্ট্রের রূপ ধারণা করতে পারি।

 

রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের অভাব মোচন করে এবং ক্ষুধা নিবৃত করতে পারে তখন দাসশ্রেণীর নাগরিকরা আনন্দের সাথে তাদের আদর্শ বিকিয়ে সরকারের আদর্শ গ্রহণ করে। তাই দাসশ্রেণী দিয়ে কোনো আদর্শ প্রতিষ্ঠার লড়াই সহজ হয়ে ওঠে না। তাই গণ-আন্দোলনও তাদের দিয়ে সম্ভব হয় না। পৃথিবীর যেসব রাষ্ট্রে গণ-আন্দোলন হয়েছে, সে সব আন্দোলন করেছে ক্ষুধার্ত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত জনতা। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেকটা অভাবমুক্ত, বর্তমানে পেটের ক্ষুধা কমই বলা চলে, আর এটা বাস্তব। তাই তারা আন্দোলনে সাড়া দেবে না।


এরপর আসে আদর্শের বিষয়টা। পেটে ক্ষুধা থাকলেও আদর্শ রক্ষার জন্য মানুষ আন্দোলন করে, জীবন দেয়। কিন্তু তারা হচ্ছে স্বাধীনতাপ্রিয় এবং আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি বা সমষ্টি। আমাদের দেশে এর সংখ্যা কম। তা সত্ত্বেও কম সংখ্যক হলেও স্বাধীনতাপ্রিয় এবং আত্মমর্যাদাশীল মানুষ আদর্শ রক্ষায় সফল হতে পারে। ১৪০০ বছর আগে ইসলাম প্রতিষ্ঠা তার অন্যতম নিদর্শন। দেথেশুনে মনে হচ্ছে আমাদের দেশে একটি আদর্শিক দল সেই একই আদর্শ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলেছে। তারা স্বল্প সংখ্যক হলেও কিছু মানুষের অন্তরে আত্মমর্যাদাবোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পরেছে। যে কারণে তারা মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে ইষ্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে আদর্শ রক্ষায় নিবেদিত হতে পারছে।
নির্দিষ্ট আদর্শ ছাড়া কোন ব্যক্তি বা দল আমাদের দেশে গণআন্দোলনে কখনোই সফল হতে পারবে না।

 

বর্তমানে আদর্শের গায়ে কিছু ছিটেফোটা আঘাত প্রকাশ্যে আমরা লক্ষ্য করছি। এটা হচ্ছে ঝুড়িতে কাদা-মাটি ভরার মত অবস্থা, ঝুড়ি ভরে যেতে যেতে কিছু কাদামাটি বাইরে ছিটকে পড়ে। কিন্তু ঝুড়ি তো ভরে যাচ্ছে। আসলে বাস্তব অবস্থা হচ্ছে গাছে পোকা লাগলে কচি পাতায় তার লক্ষন আগে দেখা যায়। শিশু-কিশোর এবং মুর্খদের মধ্যে তার প্রকাশ আগেই লক্ষ্য করা যায়। বেশি গবেষণার প্রয়োজন নেই, আদর্শকে কলক্কিত করা বা ভ্রান্তি ছড়ানোর প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

আদর্শ বলতে ইসলাম। মালিক বলবে না যে, তুমি নামাজ পড়ো না, হজ করো না, যাকাত দিও না। কিন্তু শিক্ষাপদ্ধতি এমনভাবে সাজাবে এবং সঙ্গতি রেখে অপসংস্কৃতির এমন সয়লাব করবে যে পরবর্তী প্রজন্ম ইসলামের দুশমন হয়ে দাড়াবে, এসব ঘটবে হাসতে খেলতে অজান্তে। কোন আদর্শ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে মালিকপক্ষ সংগঠিত হতে দেবে না, এটা ধ্রুব সত্য। অন্যদিকে আদর্শহীন মুর্খ সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আদর্শবান সাহসী যোদ্ধার শত্রু হয়ে দাড়ায়। যতই তাদের সংখ্যা অগণিত হোক। তারাই পরাজয় ডেকে নিয়ে আসে। অতএব আদর্শিক মানুষের বিজয় অবধারিত।

 

আমরা দেখেছি এমন বহু মুসলিম ধর্মনেতা এদেশে আছেন যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেয়ে মাজার প্রতিষ্ঠায় সারা জীবন জিহাদ করেছেন। যারা তাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জিহাদ করে যাচ্ছেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা চিন্তা করেন ও কাজ করেন। তারা বরং আদর্শ রক্ষার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকে, এতে শত্রুরা নির্বিঘ্ন হয়, প্রকারন্তরে এরা শত্রুদের সহযোগি। শত্রুদের পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে যারা ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে চান, ইসলাম রক্ষার্থে সেইসব সচেতনদের গভীরভাবে মেৌল সমস্যার সমাধান এবং এগিয়ে যাবার পথ আবিষ্কার করা দরকার। বিভ্রান্তদের উপর ভরসা নয়, সামান্য হলেও নিজস্ব শক্তিই শ্রেষ্ঠতম শক্তি। বেশি আলোয় ঘর আলোকিত হয় না, সামান্য ক'টা শক্তিশালী আলো জ্বললেই ঘর আলোকিত হয়।

 

লেখক: চিত্রনায়ক ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক

সংগৃহীত/এস