Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

পোশাকশিল্পে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ

Published:2014-12-12 20:49:31    
পোশাকশিল্পে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F328%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে (৫০ বছর পূর্তি) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কাজ করছেন রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী পোশাকশিল্পের ইমেজ পুনরুদ্ধারে। তার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সঙ্গী করেছেন শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার এক বছরের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে এমন অভিমত জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তার প্রত্যাশা, অদূর ভবিষ্যতে পোশাকশিল্পে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১৩ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রথমেই বলেছিলেন, ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চান। সেই তিনিই আবার বছর পেরিয়ে বললেন, গত এক বছরে কী কী করেছি সে সম্পর্কে আমি নিজে কিছু বলব না। বলবেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। কারণ, এ মন্ত্রণালয়ের যা কিছু উদ্যোগ সব তাদের জন্য, তাদের নিয়েই করা হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছে এ দেশের মানুষ। দায়িত্ব নিয়েই তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা কাটাতে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠন করবেন। কথা রেখেছেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে তিনি দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেন। এরই মধ্যে ওই কমিটি দুটি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে প্রায় শতাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। শিল্পায়নের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সুপারিশও করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এসব সুপারিশ নিয়ে আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন, সমস্যা সমাধানে লিখেছেন চিঠি। অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন একাধিকবার। দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা বছর বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে বাজার গবেষণা ও তথ্য পূর্বাভাস সেল। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই সেল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ দেবে। কর্মকর্তারা জানান, কোনো পণ্যের সংকট  দেখা দিলে বা হঠাৎ দাম বেড়ে গেলে যাতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে লক্ষ্যেই এই সেল কাজ করছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণসহ নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানেও গত এক বছরে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এর মধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাণিজ্যিক মিশনগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ রয়েছে। সব মিশনে কর্মরত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের দক্ষতা বাড়াতে দেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ। তাদের প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের সমস্যা সমাধানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক মিশনসহ রপ্তানি সংক্রান্ত সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় কমিটি, যারা তিন মাস অন্তর বৈঠক করে রপ্তানি পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করছে।

জানা গেছে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জন্য সরকারের বাণিজ্যিক নীতিরও কিছুটা পরিবর্তন ঘটাছে। বর্তমানে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে। বাজার সম্প্রসারণে পশ্চিমের পাশাপাশি পুবের দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন ছয়টি বাণিজ্যিক মিশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যার তিনটিই হবে পূর্ব এশিয়ায়। সরকারের এই পুবমুখী নীতির প্রকাশ ঘটাতে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকায়ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বাড়াতে গত এক বছরে আরও অনেক উদ্যোগ রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। গঠন করা হয়েছে একটি পৃথক রপ্তানি সেল যার নেতৃত্বে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী ওয়ারেছি। এ ছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে ন্যাশনাল ট্রেড পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত থাকবে। বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য দিয়ে বলেন, এই ট্রেড পোর্টালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সেবার সঙ্গে যুক্ত সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সব সংস্থার তথ্য। ফলে বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে যে কোনো ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী অনলাইনে রেজিস্ট্রশন করতে পারবেন এ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য।

শুধু তাই নয়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের বাইরেও যাতে কৃষি প্রধান এ দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায় সে লক্ষ্যে বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। যে কাউন্সিলের উদ্যোগে কৃষিভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে ২২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোতে কৃষিপণ্য রপ্তানির সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য সচিব, কৃষি সচিব এবং এনবিআরের সদস্যকে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা কৃষিভিত্তিক পণ্যের মানোন্নয়নে কাজ করবেন। চা-শিল্পের উন্নয়নে নতুন করে চা-নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। ট্যারিফ কমিশন, টিসিবি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ বছর। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি করতে গঠন করা হয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। শীঘ্রই যার চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া যুবক, ইউনিপেটুসহ প্রতারক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেও কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এমএলএম কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে চলতি বছর। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই তিনি দিল্লি যান সার্ক বিজনেস লিডারদের এক অনুষ্ঠানে। এপ্রিলে জেনেভা সফর করেন টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিতে। ফেরার পথে দুবাই সফর করে সে দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পরের মাসেই অঙ্কটাডের বিনিয়োগ সংক্রান্ত দোহা ফোরামে অংশ নেন। মে মাসে ইকোনমিক ফোরাম ফর ইস্ট এশিয়া সম্মেলনে অংশ নিতে সফর করেন ফিলিপাইন। কোরিয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়ে সে দেশের ব্যবসায়ীদের তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী পোশাক খাতের শ্রম পরিবেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে গত অক্টোবরে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে ক্রেতাদের বিভ্রান্তি কাটাতে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও যান মন্ত্রী। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফর করে এসেছেন ওই দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমন্ত্রণে, যারা ‘গ্লোবাল গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি আফটার রানা প্লাজা দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড শীর্ষক’ এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে সেখানকার ক্রেতাদের বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কাপড় নেওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক খাত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশ্বে যে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছিল, সেটিকে ইতিবাচক ধারায় তুলে আনতে গত একটি বছর আমরা কাজ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া শর্ত পূরণে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। দেশ-বিদেশে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ পোশাক কারখানা বাছাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গার্মেন্ট শিল্পে একটি ইতিবাচক ইমেজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আর চলতি সপ্তাহে বিজিএমইএ’র সঙ্গে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অ্যাপারেল সামিট করার মধ্য দিয়ে তার পূর্ণতা পেয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আমাদের পোশাক খাতের প্রশংসা করছে সবাই। অনেকেই নতুন অর্ডার দিচ্ছেন। এ ইমেজ ধরে রেখে স্বাধীনতার ৫০ বছরে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এখন অন্যতম লক্ষ্য।