Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat September 22 2018 ,

'সংলাপে না বসলে দেশের সব অর্জন ব্যর্থ হবে'

Published:2015-03-14 08:15:28    
'সংলাপে না বসলে দেশের সব অর্জন ব্যর্থ হবে'

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F372%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা বিবেচনা করে সব দল ও গোষ্ঠীর উচিত আলোচনায় বসা। তবে দুটি বড় রাজনৈতিক দল অনড় অবস্থানে গেলে সংকটের সমাধান হবে না।
 
দেশের বর্তমান সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা উল্লেখ করে বিশিষ্ট এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা থেকে সৃষ্ট সংকট এখন দানবীয় রূপ নিয়েছে। আর এই দানবকে বধ করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
 
সাবেক এই সচিব বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধান না হলে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব অর্জন ব্যর্থ হবে। আর ক্রসফায়ারের ঘটনা বিশ্বসভায় আমাদেরকে অসভ্য জাতি হিসেবে পরিগণিত হবে।
 
দেশের বর্তমান ভয়াবহ সংকট নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মোফাজ্জল করিম।
 
 
 
বাংলাসংবাদ: জনাব মোফাজ্জেল করিম, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার বলছে, কোনো ধরনের সংলাপের প্রশ্নই আসে না। সরকার কেন সংলাপে বসতে চাইছে না? তাদের এ অবস্থানকে আপনি কিভাবে দেখবেন?
 
মোফাজ্জল করিম: আমি মনে করি বিশ্বের যেকোনো দেশে যদি একটি সংকটজনক অবস্থা সৃষ্টি হয় তবে সংশ্লিষ্ট সব দল ও গোষ্ঠীসহ সবার চেষ্টা করা উচিত যে কিভাবে সেই সংকটের উত্তরণ হতে পারে।
 
বর্তমান সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ, দুর্দশা এবং সবচেয়ে বড় কথা মানুষের জীবনের ঝুঁকি ও প্রাণহানির কথা বিবেচনা করে সব দলের উচিত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পথ খুঁজে বের করা।
 
আর সংকট উত্তরণ করতে গিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল অনড় অবস্থানে চলে যায় তাহলে তো আর সংকটের সমাধান হবে না। আমরা দেখেছি পৃথিবীর যেকোনো দেশে সেটা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যে কোনো সংকট সমাধানের জন্য প্রথম চেষ্টা হচ্ছে যেটি হয়ে থাকে সেটি হচ্ছে আলোপ আলোচনা। এমনকি দেশে যদি গৃহযুদ্ধও শুরু হয় সেখানে আলাপ আলোচনাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সরকার এবং তাদের যে দল আওয়ামী লীগ তারা প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যে তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না। হয়তো তাদের অনেক অভিযোগ আছে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। কিন্তু  আমি মনে করি দেশের ১৬ কোটি মানুষের দিকে তাকিয়ে অবিলম্বে তাদের বসা উচিত। দেশে বর্তমানে যে সহিংসতা, মানুষ হত্যা, পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারা, অর্থনীতিতে ধস নামা এসব রোধ করার জন্য তাদের বসা উচিত। তাদের এই অনড়  অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
 
দেশে বর্তমানে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটা আসলে রাজনৈতিক সমস্যা। আর সেই রাজনৈতিক সমস্যা থেকে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এখন তা মহীরুহ আকার ধারণ করেছে। যেটাকে বর্তমান সরকার এবং তাদের দল বলছে সংকট এখন দানবীয় রূপ নিয়েছে। হ্যাঁ আমিও মনে করি বর্তমান সংকট একটা দানবীয় রূপ নিয়েছে। তো এই দানবকে বধ করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
 
বাংলাসংবাদ: বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় উপ-কমিটির প্রতিনিধিদল। এ বৈঠকে বিএনপি ও ২০ দলের পক্ষ থেকে সংলাপে বসার বিষয়ে সম্মতি দেয়া হয়েছে। দুর্বল বলেই কি বিএনপির এই সম্মতি? কি বলবেন আপনি?
 
মোফাজ্জল করিম: দেখুন আমি বিএনপিকে ঠিক ওইভাবে দেখবো না যে তারা দুর্বল বলেই সম্মতি দিয়েছে। আমি মনে করি বিএনপি সংলাপের কথা বলছে এইজন্যে যে তারা যে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা বন্ধ হতে হবে। অবিরাম এরকম অবরোধ চলতে পারে না, এটি আমাদের কারো কাম্য নয়। আর সেটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাদের যে দাবি তা সরকারের কাছে এবং আন্তর্জাতিকমহলে তুলে ধরার জন্য সংলাপের কথা বলছেন। তাদের সম্মতির বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে জানিয়ে দিয়েছেন। মিডিয়াতে দেখলাম বান কি মুনের প্রস্তাবকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। ফলে এটা বিএনপির দুর্বলতা বলে মনে করি না। বরং আমি মনে করি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এটাই হওয়া উচিত এবং সংলাপে বসা উচিত। সংলাপে বসে যার যা বক্তব্য আছে তা তুলে ধরা উচিত।
 
বাংলাসংবাদ: জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফারনান্দেজ তারানকো আবারো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার কি আশা করা যায়, তার এ উদ্যোগ সফল হবে?
 
মোফাজ্জল করিম: তারানকো বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দূত হিসেবে বা প্রতিনিধি হিসেবে আসছেন। তিনি মহাসচিবের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। এটা একটা শুভ উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। তবে এটি সফল হতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোতে তাদের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও স্বার্থ থেকে একটু সরে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে ছাড় দিয়ে হলেও সহায়তা করতে হবে। আলোচনায় কোনো পক্ষ লাভবান হবেন কিনা সেটা বড় কথা নয়, দেশ-জাতি এবং দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আলোচনায় এগিয়ে আসা উচিত। বর্তমানে যে দুর্ভোগ চলছে-মানুষ রাস্তায় বের হতে পারে না, আতংকের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারছে না। অর্থনীতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ কাজ করতে পারছে না, তাদের অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এসব সামগ্রিক বিষয় চিন্তা করে তারানকো আসুক আর না আসুক তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত।
 
এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ড. এটিএম শামসুল হুদার পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আমি তো মনে করি প্রথমেই এটাকে সমর্থন দেয়া উচিত। কারণ আমাদের সমস্যাটা আমরাই ভালো বুঝি এবং তার সমাধান আমাদের পক্ষেই খুব ভালোভাবে করা সম্ভব।
  
বাংলাসংবাদ: তারানকোর এ উদ্যোগ যদি সফল না হয় তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার পরিণতি কি হতে পারে?
 
মোফাজ্জল করিম: তারানকোর উদ্যোগ সফল না হলে জাতীয়ভাবে আমাদের পরিণতি হবে এরকম যে, গত কিছু দিনের আন্দোলন অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি কারণে আমাদের ভাবমূর্তি যে দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিলো তারপর রাজনৈতিক নেতাদের অনড় ভূমিকার কারণে সেই ভাবমূর্তি একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
 
জাতীয়ভাবে আমাদের যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে সেটা দিনকে দিন আরো বাড়তে থাকবে। কিছুতেই এমনটি কাম্য হতে পারে না। সার্বিকভাবে দেশের মস্ত ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে এবং আরো ক্ষতির দিকে যাবো। আমাদের প্রবৃদ্ধি যে ছয় ভাগের বেশি চলে গেছে সেটা দ্রুত নিচে নেমে আসতে সময় লাগবে না। অথচ এগুলো বন্ধ হলে প্রবৃদ্ধি  ছয় কেনো সাতও হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাকি কয়েকমাসে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তার পূর্বশর্ত হলো বর্তমানের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হতে হবে।
 
আর আন্তর্জাতিকভাবে যা যা হতে পারে সেটা হচ্ছে- আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিংসঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের যে অংশগ্রহণ, রপ্তানী ক্ষেত্রে আমাদের যে উন্নতি হয়েছে, এছাড়া শিক্ষা-দিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে উন্নতি হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে চমৎকার একটি অবস্থানে গেছে। এর ধারাবাহিকতা থাকলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। সবাই বাংলাদেশকে প্রশংসা করছে,সাবাশ বলছে অথচ  দুঃখের বিষয় বর্তমানের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সেটা স্তব্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের সেই উজ্জ্বল সম্ভাবনা একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।
 
বাংলাসংবাদ: চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর ক্রসফায়ারের ঘটনা বেড়ে গেছে। কতটা গ্রহণযোগ্য এ পদক্ষেপ?
 
মোফাজ্জল করিম: দেশে বেড়ে যাওয়া ক্রসফায়ারের ঘটনা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল-যারা ক্ষমতায় আছেন বা যারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসবেন তাদের প্রত্যেককে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা হবে না। যেকোনো অপরাধী যদি গ্রেফতার হয় তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। বর্তমানে দেশে বন্দুক যুদ্ধের নামে যে প্রহসন চলছে তাতে সবাই হাসাহাসি করে। একই গল্প সবগুলো হত্যার ক্ষেত্রে বলা হয়। আমরা যে পুলিশের এসব বক্তব্য শুনে হাসাহাসি করি তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি অসভ্য জাতি হিসেবে পরিণত হবে যদি ক্রসফায়ার বন্ধ না হয়।