Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue September 25 2018 ,

একটি ভুল সংশোধিত হলো, আরেকটি কবে হবে?

Published:2015-06-10 09:57:52    
একটি ভুল সংশোধিত হলো, আরেকটি কবে হবে?

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F406%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের আগে বাংলাদেশ-ভারত প্রসঙ্গে আমার দীর্ঘ কলাম দুই কিস্তিতে প্রকাশিত হয় ২৭ মে এবং ৫ জুন ২০১৫ নয়া দিগন্ত পত্রিকায়। এই সফরের পরে, সফরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখালেখি ও আলোচনা হচ্ছে।
অভিন্ন নদী মৈত্রীর প্রতীক হতে পারে
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয়ে উপস্থিত ছিলেন ৬ জুন বিকেলে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। উভয়ে বক্তব্য রাখেন। নরেন্দ্র মোদি তার আবেগঘন বক্তৃতায় কয়েকটি সুন্দর কথা বলেছেন। একটি এখানে উল্লেখ করছি। তিস্তা নদী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মোদি বলেন, অনেকটা এই রকম- ‘অভিন্ন নদীগুলোকে বিভেদের উৎস না বানিয়ে আমরা মৈত্রী ও সমৃদ্ধির উৎস বানাতে পারি।’ অভিন্ন নদীর পানি প্রকৃতির অবদান। প্রকৃতির এই দানকে সবার মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে পারলেই প্রকৃতির প্রতি সুবিচার করা হবে। এই কথার সূত্র ধরে পরের অনুচ্ছেদগুলো উপস্থাপন করছি।
কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়কে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি, বাংলাদেশকে তথা মুক্তিযুদ্ধকে সাহায্য সহযোগিতা করেছিল। তাদের সম্মান জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে, বাঙালি জাতিকে এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সমর্থনকারী ও সহায়তা প্রদানকারী এ রকম একজন ব্যক্তি হচ্ছেন, বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ভারতের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী। রোববার ৭ জুন দুপুরবেলা, বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে জনাব বাজপেয়ীর জন্য সম্মাননাপত্র, আনুষ্ঠানিকভাবে জনাব মোদির হাতে তুলে দেয়া হয়। এ রকমই আরেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বছর আগে ১৯৭১ সালের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্য সম্মাননা তুলে দেয়া হয়েছিল তারই সুযোগ্য পুত্রবধূ এবং ওই সময় ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর হাতে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারিভাবে ভারতের পরস্পরবিরোধী দু’টি রাজনৈতিক দলকে একই ধরনের এবং একই মাত্রার সম্মান জানালো। আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন। উপলক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
গান্ধী, নেহরু, ওয়াশিংটন ও লিংকন
আমেরিকাও স্বাধীন হয়েছিল রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে। ভারত স্বাধীন হয়েছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে। এই দুইটি দেশের নেতৃত্বের উল্লেখ করছি এ জন্য যে, বিভিন্ন জাতি তাদের আবেগকে সমন্বয় করে। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাপ্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ছিলেন, আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য পরিচালিত যুদ্ধের রণাঙ্গনের প্রধান সেনাপতি। পরে তিনি হন প্রথম প্রেসিডেন্ট। প্রায় আট দশক পর, আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার ইতিহাসের মারাত্মক ক্রান্তিলগ্নে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হন। উভয়ে কি সমান? আমেরিকানরা ওয়াশিংটন এবং লিংকনের মধ্যে কে বড় এবং কে ছোট, এটা নির্ধারণ করার জন্য নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত নেই। সমকালীন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়েই আলাদাভাবে মূল্যায়িত। বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী তথা পার্শ্ববর্তী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতেও অনুরূপ উদাহরণ আছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জ্যেষ্ঠতম ‘পুরোহিত’ হচ্ছেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তথা মহাত্মা গান্ধী। স্বাধীনতার এক বছর পার হতে-না-হতেই তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন। স্বাধীনতা আন্দোলন চলাকালে গান্ধীজীর সহকর্মী ও পরিপূরক নেতা ছিলেন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওয়াহেরলাল নেহরু। গান্ধী ও নেহরু উভয়ের পারস্পরিক অবস্থান পুরোপুরি না হলেও অনেকটা ওয়াশিংটন ও লিংকনের মতো। উভয়ে, আরো অনেককে নিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন। নেহরু অনেককে নিয়ে স্বাধীন দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতে গান্ধীর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬৭ বছর আগে; নেহরুর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫০ বছর আগে। ভারত কিন্তু গান্ধী আর নেহরুতে আটকে নেই; আবার ভারত গান্ধী এবং নেহরুবিহীনও নয়।
নেতৃত্বের অঙ্গনে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ জিয়া 
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করেছিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। ওই সরকারের প্রধান ছিলেন, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি যেহেতু পাকিস্তানিদের হাতে আটক ছিলেন, সেহেতু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ওই রাজনৈতিক সরকারের প্রধান নির্বাহী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৫ মার্চ ১৯৭১ দিনের শেষে মধ্যরাত ১২টার পর পরই, অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে কে কখন দিয়েছেন, সেটি একটি বহুল আলোচিত বিষয়। কিন্তু সমকালীন পৃথিবী সাক্ষী যে, ২৭ মার্চ ১৯৭১ তারিখে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজের নামে ঘোষণা দেন। কিন্তু অল্প কয়েক ঘণ্টা পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা পুনরায় প্রদান করেন। এই স্বাধীনতা ঘোষণার প্রক্রিয়ায় দুইটি আঙ্গিক লক্ষণীয়। প্রথম আঙ্গিক হলো, স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ- এটা জেনেই জিয়াউর রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় আঙ্গিক হচ্ছে, জাতীয় প্রয়োজনে এবং বাস্তবতার নিরিখে জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে তাৎক্ষণিকভাবে বঙ্গবন্ধুর মহত্ত্ব ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষণা পাঠ করেন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমান নিজেও মহত্ত্ব অর্জন করেছেন এবং জাতির ক্রান্তিলগ্নে, জাতির সমষ্টিগত নেতৃত্বের মধ্যে নিজের জন্যও একটি আসন উজ্জ্বলভাবে অর্জন করেন। অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের একজন ছিলেন- তিনি বীর উত্তম। মুক্তিযুদ্ধের পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির সর্বোচ্চ তথা চূড়ান্ত নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমানও জাতির প্রয়োজনেই জাতীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে জাতির সেবা করেছেন। উভয়ের মধ্যে অনেক মিল। উভয়ে সমান নাও হতে পারেন; সমান হওয়াটা জরুরি নয়; একজন বড়, একজন ছোট হতেই পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উভয়েই জাতির ক্রান্তিকালীন নেতা। বঙ্গবন্ধু ইন্তেকাল করেছেন ৪০ বছর আগে এবং জিয়াউর রহমান ইন্তেকাল করেছেন ৩৪ বছর আগে। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু এবং শহীদ জিয়া উভয়কে নিয়েই বেঁচে থাকবে।
নেতারা ঐক্যের প্রতীক কেন হবেন না? 
এই পর্যায়ে আমার প্রশ্ন, প্রকৃতি ভারত ও বাংলাদেশকে যেসব অভিন্ন নদী প্রদান করেছে, সেগুলোকে যদি মৈত্রী ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে প্রস্তাব করা যায়, তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তারই নামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উভয়কে কেন বাংলাদেশী জাতির জন্য জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় সৌহার্দ্যরে প্রতীক হিসেবে প্রস্তাব ও পরিচায়ন করা যাবে না? এখন এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়াসের বিষয়ে আলোচনা করছি।
একটি নবজাত দলের উদ্যোগ
২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর, ঢাকা মহানগরের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হোটেল ইম্পেরিয়ালের কনভেনশন সেন্টারে, রাজনৈতিকভাবে সমমনা নাগরিকদের একটি সম্মেলন বা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০০ এর অধিক সমমনা ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলনেই, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে তথা জন্ম ঘোষিত হয়। একই দিনে, একই স্থানে পার্টির মুদ্রিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র প্রকাশ ও বিতরণ করা হয়। এই দু’টি ঐতিহাসিক দলিলের অতিরিক্ত, আরো একটি দলিল পার্টির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই তৃতীয় দলিলটি হচ্ছে, পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক কর্তৃক দেয়া উদ্বোধনী ভাষণ। এই তিনটি দলিলই কল্যাণ পার্টির ওয়েবসাইটে (www.bkp-bd.org) আছে। ঘোষণাপত্র এবং উদ্বোধনী ভাষণে যেসব নীতি উল্লেখ করা আছে, তার মধ্যে দু’টি নীতি হলো নিম্নরূপ : (১) মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, জাতীয় বিভক্তির অজুহাত নয়, (২) জাতীয় নেতৃবৃন্দ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, জাতীয় বিভক্তির অজুহাত নন। 
ছবি কথা বলে
এই নীতিগুলোর সমর্থনে, কল্যাণ পার্টির উদ্বোধনী দিনে, মঞ্চে বড় ব্যানারে তিনজন জাতীয় নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়েছিল একই ফ্রেমে। ওই ছবিতে মধ্যখানে ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী; ছবিতে মওলানার ভাসানীর ডানে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাসানীর বামে ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। ওই ছবিটি এখনো বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উজ্জ্বলভাবে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। ছবির মাধ্যমে কল্যাণ পার্টি বোঝাতে চেয়েছে যে, তিনজন নেতা মরহুম, তিনজন নেতাই জাতির জন্য, জনগণের জন্য অতি মূল্যবান ভূমিকা রেখেছিলেন- কেউ বেশি কেউ কম। তিনজন নেতাই নিজেদের জীবদ্দশায় কেউ কারো বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেননি। ভারতের পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে আমরা সম্মান দেখিয়েছি মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদানের জন্য। অপরপক্ষে আমাদের নিজেদেরই মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা এবং নেতাদের আমরা কেন একসাথে সম্মান জানাতে পারব না? 
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরস্পরবিরোধী নয়
একটু আগে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ঘোষণাপত্র এবং উদ্বোধনী দিনের ভাষণের বরাতে দু’টি নীতিবাক্য উপস্থাপন করেছি। এখন তৃতীয়টি করছি। এটি হলো- ধর্মীয় মূল্যবোধের চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উভয়কে পরস্পরের সম্পূরক হিসেবে প্রস্ফুটিত ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এই দুইটি চেতনাকে পরস্পরবিরোধীভাবে লালনপালন করা যাবে না। এর ব্যাখ্যা হলো, বাংলাদেশে একাধিক ধর্মাবলম্বী মানুষ আছে। কেউ সংখ্যায় বেশি, কেউ কম। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা হচ্ছেন শতকরা ১০ বা ১১ বা ১২ ভাগ। অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু। অপরপক্ষে বাংলাদেশেরই অন্যতম বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত বা নেপালে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ভারতে মুসলমানেরা সংখ্যালঘু। অর্থাৎ বিশ্বায়নের যুগে তথা আধুনিক বিশ্বে, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রাখা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, সব ধর্মের সর্বজনীন নৈতিক মূল্যবোধ জাতি গঠন ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। 
ভারত ও বিএনপি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তের অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে, ভারত প্রসঙ্গে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি বা বিএনপির ভারতনীতি। কোনো কোনো পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে ‘ভারত বিরোধিতার রাজনীতি শেষ’। ভারত বিরোধিতা এবং বাংলাদেশের পক্ষ নেয়া, এই দু’টির মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করা খুব কঠিন নয়। ইতিবাচকভাবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করা যায় আবার নেতিবাচকভাবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করা যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে সাম্প্রতিককালে উচ্চারিত দু’টি কথা গুরুত্বপূর্ণ। একটি কথা হলো অনেকটা এ রকম : ‘আমরা ভারতের বিরোধিতা করি না, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের কথাটা স্পষ্ট করে বলি’। অপর কথাটি হলো অনেকটা এ রকম : ‘বিএনপি কখনো ভারতবিরোধী ছিল না, বিএনপি এখনো ভারতবিরোধী নয় এবং বিএনপি ভবিষ্যতেও ভারতবিরোধী হবে না’। পত্রপত্রিকায় এ বক্তব্যগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে বিএনপি এবং ভারত প্রসঙ্গে একটি কথা উল্লেখ করতে চাই। এ কথার সূত্র ধরে আওয়ামী লীগ ও ভারত প্রসঙ্গে অন্য একটি কথা বলব।
একটি টকশোতে আমার দেয়া যুক্তি
১ জুন দিবাগত রাত ১টার সময়, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সময় রীতি অনুযায়ী ২ জুন ‘ভোর’ ১টায় বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নিয়মিত টকশো অনুষ্ঠান যার নাম তৃতীয় মাত্রা, প্রচারিত হয়। সেখানে আমি একজন আলোচক ছিলাম। অপর আলোচক ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স. ম. রেজাউল করিম। আলোচনার একপর্যায়ে এই কথাটা উঠে আসে যে, নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কেন এত তৎপরতা দেখাচ্ছেন? বিএনপির জন্য ভারত কি এতই গুরুত্বপূর্ণ? আমি মন্তব্য করেছিলাম এরূপ যে, দুই-তিন বছর আগে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন চলমান হরতালের অজুহাতে, বেগম খালেদা জিয়া প্রণব মুখার্জীর সাথে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করে দিয়েছিলেন। ইতঃপূর্বে যখন বেগম খালেদা জিয়া নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন, সে সময় বেগম খালেদা জিয়াকে, প্রধানমন্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও, অভূতপূর্ব উষ্ণ অভ্যর্থনা ও প্রটোকল দেয়া হয়েছিল। সেই উষ্ণতার প্রেক্ষাপটে, প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ-অনুষ্ঠান বাতিল করার কাজটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভাবনীয় অকল্পনীয় এবং মারাত্মকভাবে অপ্রত্যাশিত ছিল। অনেক ভাষ্যকার ও রাজনৈতিক আলোচকের মতে, বিএনপির পক্ষ থেকে ওটা একটা মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল ছিল। এটাও সত্য, ওটা যে ভুল ছিল, সে উপলব্ধিও খুব শিগগিরই ঘটেছিল। যেহেতু ইতিবাচক উপলব্ধি ঘটেছিল, তাই সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও খোঁজা হচ্ছিল। এবার সুযোগটি আসে নরেন্দ্র মোদির সফরে। বিএনপি চেষ্টা করে সাক্ষাতের জন্য। সম্ভবত সরকারি দল এর বিরোধিতা করেছিল। ভারত সরকার বিএনপির আগ্রহকে সম্মান করেছে। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
মোদি-খালেদা সাক্ষাতের তাৎপর্য
নরেন্দ্র মোদির সফরে বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ করা অনেক বিষয়েই তাৎপর্যপূর্ণ। (১) নরেন্দ্র মোদিকে সম্মান জানিয়ে বেগম জিয়া অতীত ভুলের সংশোধন করলেন, (২) বেগম জিয়াকে সাক্ষাতের সময় দিয়ে নরেন্দ্র মোদিও এই সাক্ষ্য দিলেন যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির গুরুত্ব আছে। রোববার ৭ জুন বিকেলে বেগম খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর ড. মঈন খান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উভয়ের আলাপ-আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাৎক্ষণিকভাবে যে দুইটি বিষয় প্রস্ফুটিত হয়েছে, তা হলো নিম্নœরূপ : (১) বেগম জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না (২) রাজনৈতিক সমস্যা গণতান্ত্রিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। 
হাসিনা-সুজাতার ভুল
ওপরের অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা অনুধাবনের পর এই প্রসঙ্গে অন্য বক্তব্য রাখছি। বেগম জিয়া যদি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ না করে ভুল করে থাকেন, তাহলে তিনি সংশোধন করে ফেলেছেন (যতটুকুই সম্ভব)। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভুল করেছেন, এ সংশোধন তিনি তো এখনো করেননি। কথাটা চ্যানেল আই-এর আলোচনাতেও তুলেছিলাম। মাননীয় শেখ হাসিনা কি আদৌ স্বীকার করেন যে, তিনি ভুল করেছেন? এখন থেকে আঠারো মাস আগে, ২০১৩ সালের শেষ লগ্নে, তার অপ্রকাশ্য উদ্যোগে, ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে দেখা করেছিলেন। তবে এরশাদের সাথে কী আলোচনা হয়েছিল সেটা সুজাতা সিং বলেননি; কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন। আঠারো মাস আগে মিডিয়ার সামনে যা বলেছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে মনে নেই। যতটুকু মনে আছে কথাগুলো অনেকটা এ রকম : ‘সুজাতা সিং আমাকে চাপ দিয়েছেন নির্বাচনে যাওয়ার জন্য; তিনি আমাকে বলেছেন যে, আমি যদি নির্বাচনে না যাই, তাহলে বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্ষমতায় আসার রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে যেটা ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ সেখানে জঙ্গিরা জড়িত; সুজাতা সিং আমাকে বলেন যে, আমি এরশাদও যেহেতু ভারতের বন্ধু, সেহেতু আমি অবশ্যই ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত; আমি সুজাতা সিং-এর কথা ফেলতে পারিনি। অতএব, আমার দল নির্বাচনে অংশ নেবে।’ এরপরেও এরশাদ সাহেব তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ধানাই-পানাই করছিলেন। ওই সময়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনীর কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগরের বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে এরশাদ সাহেবের বাসভবনে ঝটিকা সফর করেন। তারা একপ্রকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে, এরশাদ সাহেবকে গাড়িতে তুলে ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচে এনে ক্যাবিনে ঢুকিয়ে বন্দী করে ফেলেন। বন্দী এরশাদের কাছ থেকে নির্বাচনে যাওয়ার সম্মতি আদায় করা হয়। এতক্ষণ মাননীয় শেখ হাসিনা কর্তৃক কৃত একটি বড় ভুলের বর্ণনা দিলাম। 
হাসিনা-সুজাতা ভুলের দুইটি আঙ্গিক
বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে যখন প্রজেক্ট বা প্রকল্প বানানো বা চালু করা হয়, সেই প্রকল্পের অর্থায়নে দুইটি সেগমেন্ট বা উৎস থাকে। একটি সেগমেন্ট বা উৎস হলো বৈদেশিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত ঋণ বা অনুদান। আরেকটি হলো দেশীয় টাকার জোগান। এই উদাহরণের মতো, মাননীয় শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভুলটিরও দুইটি সেগমেন্ট বা উৎস আছে। একটি উৎস হলো বৈদেশিক অনুদান; আরেকটি উৎস হলো দেশীয় জোগান। বৈদেশিক অনুদানটি ছিল কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এর সফর ও কৌশল। অভ্যন্তরীণ সেগমেন্টটি ছিল গোয়েন্দাদের দিয়ে এরশাদ সাহেবকে বন্দী করা এবং সম্মতিসূচক নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রচার করানো। দুইটি ঐতিহাসিক ভুলের কথা তুলে ধরলাম। একটি বেগম জিয়া ও প্রণব মুখার্জি সংক্রান্ত এবং অপরটি শেখ হাসিনা, সুজাতা সিং ও এরশাদ সংক্রান্ত। 
পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি
একটি ভুলের সংশোধন দেখা গেল; আরেকটি ভুলের সংশোধনীর অপেক্ষায় থাকলাম। ভুলগুলো সংশোধনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চাই। বাংলাদেশী জাতি গঠনকে ফলদায়ক করতে চাই। আমরা চাই, বর্তমান প্রজন্ম জাতির ঐতিহাসিক নেতৃত্বকে নিয়ে গর্ববোধ করুক। বঙ্গবন্ধুকে যেমন শ্রদ্ধা করি সম্মান করি, তেমনই শহীদ রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে আমাদের রাজনৈতিক দলটি ২০ দলীয় জোটের সক্রিয় শরিক। আমরা একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আমাদের দলের মটো বা নীতিবাক্য ‘পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি’। আমরা জোট রাখার পক্ষে। জোটকে শক্তিশালী করার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপও সমর্থন করি। 
লেখক : মেজর জেনারেল (অব:) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি 
www.generalibrahim.com