Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

গণতন্ত্রের অধিকার আজ হাতছাড়া

Published:2015-12-06 09:56:08    
গণতন্ত্রের অধিকার আজ হাতছাড়া

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F439%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

প্রশ্ন: ২৫ বছর আগে ও পরের সাধারণ নির্বাচনী রাজনীতি কেন একই জায়গায়?
মির্জা ফখরুল ইসলাম: পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, তারা ক্ষমতায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের হাতেই গণতন্ত্রের অধিকার হাতছাড়া হল। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে বাস করার অধিকার তারা নষ্ট করল।
প্রশ্ন: কিন্তু অভ্যন্তরীণ ত্রুটিবিচ্যুতিটা ঠিক কোথায়? কেন এমনটা ঘটছে বলে মনে হয়? যেমন রাশেদ খান মেনন বলছেন যে বিএনপি তিন জোটের রূপরেখার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
মির্জা ফখরুল: এই অভিযোগ অসত্য। কারণ সবারই জানা যে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিএনপিই সংসদীয় পদ্ধতির সরকার এনেছিল। আজকের গণতন্ত্রের যে অবস্থা, তা কারা করেছে? মেনন সাহেব তার অংশ নন, সেটা বলতে পারবেন না।
প্রশ্ন: বিএনপি কি সুচিন্তিতভাবে পাঁচ দলকে বাদ দিয়ে জামায়াতকে দুজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি দিয়ে সরকার গড়তে সমর্থন আদায় করেছিল?
মির্জা ফখরুল: পাঁচ দল সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই কেবল বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়েছিল। দায়টা তাদের ওপর বর্তায়, আমাদের ওপর নয়। সুতরাং, রূপরেখা না মানা তাদের একটি মিথ্যা অজুহাত। জনগণের অধিকার হরণ করতে গিয়ে তারা এসব কথা বলে একটা ধূম্রজাল সৃষ্টি করে থাকে। পাঁচ ভাগ মানুষ ভোট দিল না, ১৫৪ আসনে ভোট হলো না, তবু সেসব হালাল করতে রূপরেখা বাধা হয় না। বর্তমানে গণতন্ত্র নিহত ও নির্বাসিত। এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়ছিলেন, তাঁরা কি এটা চেয়েছিলেন?
 
প্রশ্ন: রেডিও-টিভির স্বায়ত্তশাসন বিএনপি দেয়নি?
 
মির্জা ফখরুল: বিএনপি মিডিয়াকে খুলে দিয়েছিল। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রাইভেট চ্যানেল করেছে। সিএনএন, বিবিসিকে এনেছে। অসংখ্য পত্রিকা বের হয়েছিল। আজ গণমাধ্যমের কোনো প্রকারের স্বাধীনতা আছে বলে তো আমরা মনে করছি না। কোথাও কোনো স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত করাই তাদের কাজ। সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের মূলোচ্ছেদ চলছে, লুকোছাপা করে নয়, তাঁরা বলছেন উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে। দুর্ভাগ্যজনক যে মিডিয়া একে যেন একদম গুরুত্বই দিচ্ছে না।
 
প্রশ্ন: আপনার যেটা দায়িত্ব ছিল, সেটা না করার কারণে আপনি লজ্জিত বা অনুতপ্ত নন। এখন আপনি আপনার প্রতিপক্ষের কোনো ব্যাপকতর নিয়ম লঙ্ঘনকে হাজির করে নিজের দুর্বলতাকে আড়াল করছেন নাকি?
 
মির্জা ফখরুল: বর্তমানে যেটা চলছে, তাকে কি আপনি কোনোভাবে যথার্থতা দিতে পারবেন? আমাদের সময়ে কিছু কাজ করতে পারিনি বলেই আমি ২০০৮ সালে জয় পাইনি।
 
প্রশ্ন: ওই পরাজয়কে আপনি ষড়যন্ত্র বলেন?
 
মির্জা ফখরুল: দেখুন, রাজনীতিতে ওরকম বাগাড়ম্বর বহু বলা হয়। আমি জোর গলায় বলতে পারি, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য যতটুকু কাজ করেছে, আওয়ামী লীগ তার কাছেও যেতে পারেনি। আমাদের নেতা বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছেন, এটা তো অস্বীকার করা যাবে না। আমরা ক্ষমতায় থাকতে মৌলিক অধিকারগুলোর ওপর কখনো হাত দিইনি। খোঁড়া অজুহাতে ইটিভির মালিক ও তাদের সাংবাদিক এখনো জেলে। সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁরাই ভিন্নমতাবলম্বী, তাঁরাই হয়রানির কবলে পড়ছেন।
 
প্রশ্ন: আপনারা চুয়াত্তরের কালাকানুনগুলো বাতিল করেননি। বরং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মতো অনেক ভয়ানক কালাকানুন সৃষ্টি করেছেন, যার শিকার আপনারা এখন হচ্ছেন। সরকার তাকে আরও কঠোরতর করেছে। এসব বিষয়গুলো কি নূর হোসেনদের আত্মাহুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলা যায় কি না?
 
মির্জা ফখরুল: না, মোটেই নয়। আমরা কোনো দিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। গণতন্ত্রকে সমুন্নত করতে আমরা ত্যাগ স্বীকার করে চলেছি। মামলা তাদের নামে নয়, আমাদের নাম থাকলেই চলবে। বড় দুঃখজনক যে এখন আমাদের মিডিয়া ক্ষমতাসীনদের স্খলন তুলে ধরছে না। যাঁরা কিছুটা করতেন, তাঁরাও গতি মন্থর করছেন। করতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
প্রশ্ন: সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়লে মিডিয়াসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়। আপনারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও বিধ্বস্ত।
 
মির্জা ফখরুল: বিএনপি সরকারের দোষত্রুটি, দুর্নীতি মিডিয়া যেভাবে লিখত, আজ কি তা লেখা হচ্ছে? এখন পারছেন না কেন? লুটের সাম্রাজ্য চলছে। পুলিশ যে কাউকে ধরে নিচ্ছে, তারপর পয়সা উশুল করে নিচ্ছে। মিছিল দূরের কথা, আমরা একটা সভা করব, তার জায়গা পর্যন্ত পাই না। প্রতিটি জেলায় বলা আছে, বিএনপিকে সভা করতে দেবে না। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার নেতা-কর্মী নিখোঁজ বা গুম হয়ে গেছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৫৫টি ঘটনা আছে। গত সাত বছরে ক্রসফায়ারে গেছে পাঁচ শতাধিক। থানায় ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করা হচ্ছে।
 
প্রশ্ন: আপনার নিজের জামিন ও মামলা?
 
মির্জা ফখরুল: ২০১২ সালে ইলিয়াস গুম হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭৮টি মামলা হয়েছে। ২৪টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখন অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর দিকে যাবে। প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। একটি মামলায় দুটি বিচার হবে। গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় সহিংসতা ও বিস্ফোরক আইনে দুই ধরনের শাস্তি মিলবে। সেদিন বিস্ফোরক আইনে শিবিরের এক কর্মী ২০ বছরের জেল পেল। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। আমরা হাইকোর্টে ইনসাফ আশা করি। কখনো জামিন পাই, কখনো পাই না।
 
প্রশ্ন: পতিত স্বৈরাচার এরশাদ ও তাঁর দলের আজকের যে অবস্থান, তার প্রধান দায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির, নাকি আওয়ামী লীগের?
 
মির্জা ফখরুল: সংস্কৃতি অবশ্যই, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে এর দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। এরশাদের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া বরাবরের। শেখ হাসিনার দুই মন্ত্রিসভায় আনোয়ার হোসেনের মন্ত্রিত্ব এর বড় প্রমাণ।
 
প্রশ্ন: সমালোচকেরা অবশ্য বলেন, এখানে বিএনপির সঙ্গে মতাদর্শগত ফারাক নেই। পার্থক্য এটাই যে বিএনপি এরশাদকে চেয়ে পায়নি। কারাগার দূতিয়ালি অনেকেরই জানা। তাই মৌলিক পার্থক্য নেই।
 
মির্জা ফখরুল: অবশ্যই আছে, আর এটা হাইপোথেটিক্যাল। আপনার কাছে কতটা প্রমাণ আছে জানি না, তবে বাস্তবতা হলো, জাপা বিএনপিকে সমর্থন দেয়নি। বর্তমানের পুরোপুরি গণতন্ত্রবিহীন ব্যবস্থায় সেই এরশাদই তাদের বড় অংশীদার। আপনারা এদিকে নজর দিন। খেয়াল করে দেখুন, সরকারের নিপীড়নের শিকার কেবল বিএনপি নয়, ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবেই মাহমুদুর রহমান মান্নাকে কারা প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
 
প্রশ্ন: আমরা কোথায় যাচ্ছি?
 
মির্জা ফখরুল: কারাগারে সাংবাদিক কেরিল মার্ফির প্যাশন অব ইসলাম বইটি পড়লাম। লেখক দেখিয়েছেন, মিসরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার টুঁটি চেপে ধরার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হলো, সেই পথে উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটল। বাংলাদেশের জন্যও একই শঙ্কা। আইএস ইস্যু এখনো আমার কাছে পরিষ্কার নয়, জঙ্গি ইসলামের জায়গা বাংলাদেশ নয়, আবার কোনো মহল কর্তৃক সিরিয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করার ভয় আমি নাকচ করি না। নির্বাচন থেকে আলাদা করে শুধু এই সংকট মোকাবিলায় বিএনপির নেত্রী সংলাপ চেয়েছেন। জাতীয় ঐক্য চেয়েছেন। আরও বিলম্ব হওয়ার আগেই সরকারের উচিত এতে সাড়া দেওয়া।