Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

নিরাপত্তা, ব্যবসা এবং বিড়ম্বনা

Published:2016-01-02 15:01:50    
নিরাপত্তা, ব্যবসা এবং বিড়ম্বনা

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F447%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

গতানুগতিক নিরাপত্তার ধারণা আজ আর নেই। এখন নিরাপত্তা বলতে শুধু সামরিক নিরাপত্তা বা সীমানার নিরাপত্তা বোঝায় না। নিরাপত্তার শাখা-প্রশাখা অনেক। ইউএনডিপির একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় নিরাপত্তাবলয় বিস্তৃত হয় সাতটি ক্ষেত্রে- অর্থনৈতিক, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সাধারণ, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে। আজকাল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তথা মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি সারা পৃথিবীতে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধ-উত্তর পৃথিবীতে বড় যুদ্ধের অবসান হয়েছে। যুদ্ধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে সর্বত্র- বিশেষত তৃতীয় বিশ্বে। সে আরেক বিষয়। 
 
বর্তমান ব্যাপকতায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচিত না হলেও মৌলিক অধিকার সম্পর্কে মানবজাতির উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নতুন নয়। মানবসভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের জীবন, সম্মান এবং সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৪৮ সালে জাতিসঙ্ঘ বিশ্বজনীন মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। গতানুগতিকভাবে চলে আসা মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিত ২০০১ সালের ৯/১১ বলে খ্যাত নির্মম ঘটনা একটি নেতিবাচক মাইল ফলক। আমরা সবাই জানি নিউ ইয়র্কের ‘টুইন টাওয়ার’ এবং ‘পেন্টাগন’-এ হামলার ঘটনায় শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। কোটি কোটি ডলারের সহায় সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়। এটা ছিল মার্কিন সরকারের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাত।
 
ইতিহাসের পাঠক ভালো করেই জানেন যে, অতলান্তিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ রচনা করেছে। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধ্বংসলীলা তাদের স্পর্শ করেনি। সে জন্য ৯/১১-এর হামলা মার্কিন নাগরিকদের অসম্ভব ভীত বিহ্বল করে তোলে। খুব সঙ্গতভাবেই জুনিয়র বুশ বলে খ্যাত জর্জ ডব্লিউ বুশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সতর্কতা ও রক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেহেতু ৯/১১-এর ঘটনায় সন্ত্রাসী ‘আলকায়েদা’ পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী বিমানকে হামলার জন্য ব্যবহার করে। সেহেতু বুশ প্রশাসনের প্রথম পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় বিমান পথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ওই ঘটনার আগেও বিমান যাত্রীদের সাধারণভাবে নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হতে হতো। ঘটনার পরে তল্লাশির ক্ষেত্রে এক রকম ‘গজব’ নেমে আসে। শুরু হয় আপাদমস্তক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যে কেউ বিমানে ওঠার আগে ১৪ বার তল্লাশির সম্মুখীন হচ্ছেন। জুতা থেকে মাথার হ্যাট বা টুপি কোনোটাই বাদ যাচ্ছে না। বেল্টও খুলতে হচ্ছে। জামা-প্যান্ট অর্থাৎ প্রায় ন্যাংটা করে তল্লাশির ঘটনা ঘটছে। এমনি এক ঘটনায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবুল কালামকে নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে জুতা খুলতে বাধ্য করা হয়। পরে অবশ্য মার্কিন সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করে। একই রকম ঘটনা ঘটে নন্দিত চিত্রতারকা শাহরুখ খানের ক্ষেত্রে । তাকে কাপড়চোপড় খুলতে বাধ্য করা হয়। অপমান অপদস্থ করা হয়। তিনি নাকি বলেছিলেন- ‘আমি কি আন্ডার ওয়ারটাও খুলে ফেলব?’ এরকম জিজ্ঞাসার ঘটনা আরো অনেক আছে। সম্ভবত নামের শেষে খান থাকার কারণে তাকে এ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তিনি এতে এতই সংক্ষুব্ধ হন যে, পরবর্তীকালে ‘মাই নেইম ইজ খান’ নামে সেই বিখ্যাত চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। নামের প্রথমে মোহাম্মদ বা মুসলিম পরিচয় বাহক কোনো শব্দ থাকলে বাড়তি বিড়ম্বনা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
 
২০০৫ সালে আমি লস এঞ্জেলস থেকে টেক্সাসের লাবাক যাচ্ছিলাম। বিমানবন্দরে আমার স্ত্রীকে বোডিং কার্ড (বিমানে ওঠার ছাড়পত্র) দিলেও আমাকে তা দিতে অস্বীকার করে। আমি কারণ জিজ্ঞাসা করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমাকে বিনয়ের সাথে জানায় যে, আমাকে ওয়াশিংটন থেকে ক্লিয়ারেন্স না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমি তাকে ফ্লাইট পরিবর্তনের বিড়ম্বনা, আমার ভিসার মর্যাদাগত অবস্থান এবং গন্তব্যে অপেক্ষমাণ বন্ধুর অপেক্ষা- সব কিছু বুঝিয়ে বলি, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।
 
কম্পিউটারে ক্লিয়ারেন্স আসার পরে পরবর্তী ফ্লাইটে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। সম্ভবত আমার নামের প্রথমে এম ডি বা মোহাম্মদ থাকায় আমাকে এ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এ রকম আরেকটি ঘটনা। আমারই এক সম্মানীয় সহকর্মী অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিলেন। তার নামের শেষে হোসাইন আছে। তখন সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে মাতামাতি চলছে। সিঙ্গাপুর এয়ার পোর্টের সংশ্লিষ্ট লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তিনি সাদ্দাম হোসেন বংশের লোক কি না? এ রকম অসংখ্য বিড়ম্বনার অজস্র ঘটনা ঘটে চলছে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত (২০১৫) পৃথিবীর আকাশপথে এ নিয়ে অনেক অঘটন ঘটেছে। দাড়ি-টুপিধারীদের দেখে শ্বেত মহিলাদের আর্তচিৎকারের ঘটনা ঘটেছে। কেবল সন্দেহের বসে বিমানের অসংখ্য জরুরি অবতরণ ঘটেছে।
 
এ তো গেল বিদেশের কথা। এবার দেশের কথা শুনুন। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ঘটনা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা অসম্ভব সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও তার ঢেউ লেগেছে। এ দেশেও আজকাল ছোট-বড় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে। সরকার যথার্থভাবেই বিবিধ ব্যবস্থা নিচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য যে পাগলামি করছে তাতে বাংলাদেশকে শামিল করার চেষ্টা চলছে। সামরিক সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ বিষয়ে গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। ক্ষমতাসীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘সোফা’ (সিকিউরিটি অব ফোরসেস এগ্রিমেন্ট) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে মার্কিন সেনারা যেকোনো সময় ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে। চুক্তিটি সামরিক সমর্থিত সরকারের ধারাবাহিকতায় স্বাক্ষরিত হলেও সঙ্গত কারণে এখন একরকম অকার্যকর রয়েছে। যা হোক, বিদেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অকার্যকর থাকলেও ষোলো আনাই বহাল আছে দেশের ক্ষেত্রে।
 
৯/১১-এর পর বিশেষত ওই তত্ত্বাবধায়ক আমল থেকে নিরাপত্তার নামে আমাদের দেশেও ব্যবসা এবং বিড়ম্বনা শুরু হয়। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ৯/১১-এর ঘটনাবলির পরে বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সামগ্রীর উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবহার বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। উন্নত বিশ্বে পদে পদে অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। ঘরে, বাইরে, অফিস-আদালতে, শপিংমলে, হলে, ক্লাবে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে এমনকি রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা বিধায়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। আর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কদর বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ এসব উৎপাদনকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা নামের ব্যবসা এখন রমরমা। এর সাথে রয়েছে হালকা অস্ত্রের আমদানি-রফতানি। নিরাপত্তা বিধানের নামে আনীত এসব অস্ত্রশস্ত্র এখন যত্রতত্র পাওয়া যাচ্ছে।
 
এত কিছুর পরেও কি আন্তর্জাতিক এবং দেশজ পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে? আসলে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো! বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাব্যবস্থা যদি যন্ত্র দ্বারা নিñিদ্র করা যেত তাহলে প্যারিসে কি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটত? লন্ডনে পাতাল রেলে বোমা ফুটত? ভারতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলের দুঃখজনক ঘটনাবলি ঘটেছে। এমনকি দিল্লির সুরক্ষিত পার্লামেন্ট ভবনে সন্ত্রাসী আক্রমণ ঘটেছে। বাংলাদেশে যা কখনো ঘটেনি- হোসেনি দালান, ‘আহমদিয়া মসজিদ’, সোনারগাঁও হোটেল প্রাঙ্গণ ইত্যাদি জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বড় ধরনের কোনো গাফিলতি ছিল না। কিন্তু তার পরেও ঘটনা ঘটেছে। তা হলে বোঝা যাচ্ছে, শুধু নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। কিন্তু মজার বিষয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলেও নিরাপত্তা ব্যবসা নিশ্চিত হয়েছে। পাশ্চাত্যে উৎপাদনকারীরা স্ফীত হচ্ছে এবং এ দেশী আমদানিকারকেরা লাভে-লোভে ‘তালগাছ’ হয়ে যাচ্ছে। কোনো মতে সামান্য একটি পটকা ফোটাতে পারলেই হলো! হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে সরঞ্জমাদির কদর। উদাহরণ হিসেবে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের পর গুলশানের ঘরে ঘরে সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা উল্লেখ করা যায়। এ ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ‘বুশ বিজনেস’ হিসেবে কথিত হচ্ছে। আমাদের দেশে বুশ বিজনেস নামটি না ছড়ালেও কাজেকর্মে বিজনেসটি জেঁকে বসেছে।
 
সন্ত্রাসের ঘনঘটা যতই বাড়ছে দেশের সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা ততই বাড়ছে। ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, হোটেল-রেস্তরাঁ এমনকি যানবাহনাদিতেও ‘বুশ বিজনেস’ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন হয়রানি, লাঞ্ছনা- গঞ্জনা, অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে। এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, স্থাপনা এবং প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। এতে কাজের কাজ না হলেও নিরাপত্তা নিয়োজিত বাহিনী বা ব্যক্তির আয় উপার্জন অনেক বেড়ে গেছে। ব্যক্তিসাধারণ অকারণে জিজ্ঞাসাবাদ, মালামাল তল্লাশি, সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃক ছিনতাই এবং রাহাজানির ঘটনা ঘটছে।
 
ক. এক ছাত্র আমাকে জানায়, সে রাত ৮টায় হাইকোর্ট এলাকা অতিক্রম করছিল। সেখানে উপস্থিত পুলিশ তাকে ডেকে নেয়। তার শরীর তল্লাশির নামে মানিব্যাগ ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী সন্দেহে গ্রেফতারের ভয় দেখায়।
 
খ. দু’জন ধনী ব্যবসায়ী গুলশানের রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। পুলিশ চেকিং পয়েন্টে তাদের দাঁড়াতে বলা হয়। প্রশ্ন করা হয় যে কোনো বিদেশী কয়েন আছে কি না? সেটা নিশ্চিত করার জন্য মানিব্যাগ চেকিং করা হয়। ভুক্তভোগীদের মন্তব্য, পাকিস্তানি কয়েন পেলে বিপদের কারণ ছিল।
 
গ. একজন সুদর্শন বিদেশে বসবাসরত বাঙালিকে পুলিশ পাকিস্তানি বলে চিহ্নিত করে। ভদ্রলোক তার আইডি কার্ড দেখিয়ে রক্ষা পায়। ঘটনাটি ঘটে বারিধারা এলাকায়।
 
ঘ. আরেকটি ঘটনা। চাঁদপুরের গ্রামে অবস্থাপন্ন এক সার ব্যবসায়ীকে পুলিশ সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করে লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। এরকম গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
ঙ. সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনের সময়ে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক দিন আগেও বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলের প্রতি নিরাপত্তার অজুহাতে হামলা-মামলা ঘটেছে।
 
নিরাপত্তার নামে আজকাল কোনো সভা-সমিতি, এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করাও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত দুটো প্রতিষ্ঠানে বিয়ের দাওয়াত রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। সেখানেও ব্যক্তিগত অপমানজনক তল্লাশি, লাইন আপ, বরের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি যাবে না ইত্যাদি নির্দেশনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মৃদু প্রতিবাদ করায় উত্তর এসেছে ‘সবই আপনাদের নিরাপত্তার জন্য’। বিয়ে খেতে গিয়ে যদি নিরাপত্তার নামে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়, তাহলে সে বিয়েতে কে যাবে? আর যদি অবাধ যাতায়াতের সুযোগ না থাকে তাহলে ওই সামরিক প্রতিষ্ঠানদ্বয়ে সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়াই শ্রেয়। 
সমসাময়িক পৃথিবীর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ঘটনাবলি যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে, এর পেছনে রয়েছে জাতি- গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ, ধর্ম-বর্ণগত বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। ফোড়া হলে তার অপারেশন না করে যদি বারবার মলম লাগানো হয় সেটি যেমন অস্থায়ী ব্যবস্থা তেমনি গোটা নিরাপত্তাব্যবস্থায় কৃত্রিম সরঞ্জমাদি অকার্যকর। আন্তর্জাতিক এবং দেশজ পর্যায়ে মূল সমস্যার উৎস সন্ধান এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া নিরাপত্তার চাবিকাঠি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ফিলিস্তিনি সমস্যার সমাধান হলে পৃথিবীর ৯০ শতাংশ সন্ত্রাসের অবসান হবে। কাশ্মিরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার মেনে নিলে দক্ষিণ এশিয়া তথা এ উপমহাদেশে সন্ত্রাস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে। আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মৌলিক অধিকার মেনে নিলে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন কায়েম হলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সুতরাং ক্ষোভ, ক্রোধ, বঞ্চনার অবসানে মানবিক আবেদন চাই, শক্তির মদমত্ততা চাই না।
 
লেখক : ড. আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 
Mal55ju@yahoo.com