Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu September 20 2018 ,

কেমন আছে রংপুরের আট জেলার জনগণ

Published:2016-02-22 09:59:08    
কেমন আছে রংপুরের আট জেলার জনগণ

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F467%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

শামসুল হক বসুনিয়া: দীর্ঘ বিশ বছর পর গত ১৭ জানুয়ারি এক সপ্তাহ গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট বেড়িয়ে এলাম। কী অদ্ভূত সেখানকার ভূ-প্রকৃতির রূপ আর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর মনোভাব! ব্যবহার, আচার-আচরণ যেন আলোচনা করার মতো। নরম ও মিষ্টি মনের মানুষ রংপুর বিভাগের। সেই রংপুরে এক সময় জন্মেছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। যিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারের মানুষকে পশ্চাৎপদ পরিস্থিতি থেকে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু সেখানকার মানুষ মনে করেন বেগম রোকেয়া শুধু নারী জাগরণের নেত্রী নন, তিনি সমভাবে পুরুষদেরও জাগিয়েছিলেন। কৃষকনেতা নুরুলদীন ইংরেজের দু:শাসনের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন তা এখানকার মানুষকে এখনো নাড়া দেয়। বেড়াতে গেলাম আমার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সাপটানা, খোচাবাড়ি আর খুটামারার পাশাপাশি খাতাপাড়া, কালিবাড়ি, খোর্দ্দসাপটানা, সাপটিবাড়ি,তেলিপাড়া, মহেন্দ্রনগর, বড়বাড়ির হাট, মহেন্দ্রনগর, রাজার হাট আর মোগলহাটের কৃঞ্চপুর, মিশনমোড় ও কুলাঘাটের মদনের চক। সেই সাথে রংপুর ও দিনাজপুরও।
মনে পড়ে, লালমনির হাটের কাকিনায় বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা বের হয় শেখ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে সেই বৃটিশ ভারতে। তার পূণ্যভূমিতে এখনও সেখানকার মানুষ সেকথা স্মরণ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকেন। অথচ তার কাছের এলাকা বুড়িমারী স্থলবন্দর সেভাবে গড়ে তুলতে এখনো বলিষ্ঠ হাতের ছোঁয়া লাগে নি। দিনাজপুরের রামসাগর পর্যটকদের প্রাণকেন্দ্র। সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও বরাদ্দ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে একে করা যায় আরো আকর্ষণীয়। পঞ্চগড়ে যে চা বাগান গড়ে উঠছে তাকে আরো লালনপালন করলে তা হতে পারে সারা দেশের আরেক সিলেট অঞ্চল। 
গত ৪৪ বছরে অনেক সরকার এসেছে ও চলে গেছে কিন্তু কেউই এই এলাকার সহজ-সরল মানুষগুলোর উন্নয়নে তেমন কোন বড় পদক্ষেপ নেয় নি। প্রতিটি সরকার ও রাজনৈতিক দল এগিয়ে এলে এদঞ্চলের মানুষ গোটা দেশের মতো সুষম উন্নয়নের অংশিদার হতে পারতো। বস্তুতপক্ষে রংপুরের ৮টি জেলা দিনাজপুর,পঞ্চগড়, ঠাঁকুরগাও, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনির হাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের উন্নয়নে তেমন কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নয়ন কর্মসূচি নেই। এখনো এই অঞ্চলের মানুষ গ্যাসের অস্তিত্ব চোখে দেখতে পায় নি। শিল্পায়ন চোখে পড়ে না।
কৃষি ও মানবসম্পদে পরিপূর্ণ এই অঞ্চল। আম আর আলু প্রক্রিয়াজাতের মাধমে পণ্য তৈরির সুযোগ থাকলেও এদঞ্চলের কোন শিল্পোদ্যক্তা যাতে কোন শিল্পায়নের পথে পা না বাড়াতে পারে তার সকল ব্যবস্থা এখানে করা হয়েছে। ফলে মানুষের মাঝে নতুন নতুন কর্মসংস্থান যেমন হচ্ছে না তেমনি শিল্পানুরাগীদের দেয়া হচ্ছে না বিনিয়োগে এগিয়ে আসার কোন প্রণোদনা কিংবা উৎসাহ। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করে উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ সুগম করে আরোপ করা হয়েছে টোল ব্যবস্থা যা অতিক্রম করে কৃষিপণ্য রাজধানীতে সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের আর লাভ টেকে না। ফলে সম্ভাব্য লোকসানের ভয়ে কোন বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসতে আর উৎসাহ পায় না। 
যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেলপথ এখানে আবারো উপেক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। ট্রেন চলাচল ব্যবস্থাপনার দিক থেকে পুরো বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে লালমনিরহাট। রেলওয়ে বিভাগ এখানে সেই বৃটিশ আমল থেকে বিদ্যমান। কয়েকবছর আগে “লালমনি এক্সপ্রেস” চালু করে সকলের দৃষ্টি কাড়লেও এখন এই অঞ্চলে মেইটেইন্যান্সের অভাব দেখা দিয়েছে । লোকোমোটিভ আর বগি কমে গেছে। বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল কমিয়ে আনা হয়েছে। ইঞ্জিন অচল হয়েছে অনেক, আনা হয়নি একটিও। এখন একমাত্র ভরসাস্থল সড়ক যোগাযোগ। অব্যবস্থার দরূন সৈয়দপুর বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে বহুকাল।
গোটা বিভাগের মধ্যে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। মেডিকেল কিংবা হেলথ কমপ্লেক্স রয়েছে প্রতিটি জেলা সদরে। অথচ এখানে জনসংখ্যা অনুপাতে মানসম্পন্ন্ আরো ৩টি জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন। একটি প্রযোজন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আর ১টি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি। সরকারি কলেজ আরো প্রয়োজন ৫টি, সরকারি স্কুলও আরো ৮টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাড়াতে হবে আরো ৫০টি। সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ৮টি এবং মহিলা কলেজ ৮ টি বৃদ্ধি করা একান্ত দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এই চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয সরকারকেই জরুরী ভিত্তিতে এগিয়ে আসা জরুরী। ৮টি জেলায় আরো ৮টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট চালু করে প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি এগিয়ে নেয়া সহজতর করা যায়।
সবচে’ বড় কথা এই এলাকায় বড় পুকুরিয়া আর ফুলবাড়িতে কয়লা পাওয়া গেছে যা দিয়ে গ্যাস উত্তোলন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ জোরেসোরে এগিয়ে নেয়া যায়। আয় দিয়ে দায় শোধের মতো করে এই কয়লা সম্পদ দিয়ে রংপুরের ৮টি জেলায় ব্যাপক ভিত্তিক শিল্পায়নে কাজ হাতে নেয়া যায়। কিন্তু রাজনীতিকরা সে দিকে কোন নজর দিচ্ছেন না। ফলে বৃটিশ ভারতে রংপুরের যে অবস্থা অনেকটা সেই অবস্থায় এখনো এতদঞ্চলে বিরাজ করছে। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে মেগা সেচ প্রকল্পের যে কাজ কয়েক যুগ আগে হাতে নেয়া হয়েছিল তা এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে চলছে। বিভাগটিকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে হলে এই ব্যারেজের লালনপালন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।