Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

সন্তান হোক বাবা মায়ের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার

Published:2016-03-16 15:53:31    
সন্তান হোক বাবা মায়ের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F477%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

হাসান সাইদুল: এক ফোঁটা রক্ত, নাপাক মাংসপিন্ড বেয়ে দির্ঘ্যযন্ত্রনার মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয় নবযাতক। নাপাকি বেষ্টনী ছাড়িয়ে একটি স্বর্গীয় টুকরা দেখা দেয় পৃথিবীতে। যার কোন কালিমা নাই। কোন দোষ নাই নিষ্পাক এক নিয়ামত। নবযাতক মানেই একটা পৃথিবী। কেনো নয়। বর্তমানে পুতিন বারাক কিংবা মুদিরা তো একই স্থান থেকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছে। সহস্র লক্ষ লাঞ্চনা সয়ে তারা আজ পৃথিবী চষে বেড়ায়। তাহলে এক একটি নবযাতক মানেই এক একটি আলোর দিশা হয়তো একদিন হবে শুধু মাত্র বাবা মায়ের লালনের ফলে।
বদিদের উত্তরসূরি ঐশিরা নেশায় আসক্ত হয়ে মাফুজদের হত্যা করেছে অচেতন হয়ে। এক কথায় সন্তানের হাতে বাবা কিংবা মা অথবা উভয়ই খুন হয়েছেন। সন্তান পাষান হয়। সুন্দরী ললনার মোহে ভুলে যায় অতীত। মেয়েও কোটিপতি স্বামীর হাত ধরেই ভুলে যায় বাবা মাকে। কিন্তু বাবা-মা?
ঐশিরা যখন খুনি হয় তার জন্য দায়ী একমাত্র বাবা মা’ই অন্য কেউ না। সন্তান যেখানে যাক না কেন ঘরে ফিরেই। ফিরুক আর নাই ফিরক বাবা মা তাদের কর্তব্যে রত থাকেন থাকবেন কিন্তু কি কর্তব্য কি করার কথা বা কি করে থাকেন। বাবা মায়ের দোষে যখন সন্তান বখে যায় দায় তখন বাবা মায়ের কাঁধে বর্তায়। কিন্তু সন্তান কিভাবে বাবা-মাকে উত্তক্ত করে? সন্তান কিভাবে বাবা-মাকে বখে যেতে সাহায্য করে?
 
দুই.
১ ফেব্র“য়ারী মা বিউটি তার প্রসবের পর পরই বেইলী রোডের পাঁচ তলা বাসা থেকে সদ্যজাত নবযাতককে নিচে ফেলে দেন। পর দিন মিরপুরের মণিপুর এলকা থেকে নবজাতকের খন্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার দায়ে মা সোনিয়াকে আটক করে পুলিশ।
নিজের ওড়ানা পেঁছিয়ে দুই সন্তানকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছেন মাহফুজা মালেক জেসমিন। মেয়ে অরণীকে সজাগ অবস্থায় আর ছেলে আলভিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেন তিনি। ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে তিনি এই কাজ করেন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজেরগড়েরর একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরের পাশ থেকে শিশু রিয়াদ হোসেনের (৯) লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ।
গত ১৫ জানুয়ারী  চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ পৌর এলাকার কংগাইশ গ্রামের পাল কুকুরিয়ায় খড়ের গাদায় ৫ ঘন্টা বেঁধে রাখা হয় তিনিটি শিশষুকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান চুরির অভিযোগে তিনটি শিশুকে তার বাড়ীতে বেধেঁ রাখেন। ২৯ জানুয়ারী ঢাকার কেরানীগঞ্জে আবদুল্লাহ নামের একটি শিশুকে অপহরণ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দুবৃত্তরা ৫ লাখ টাকা দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকাও দুবৃত্তদের কাছে পাঠায় শিশুটির পরিবার। তার পরও শিশুটিকে মেরে ফেলে দুবৃত্তরা। আবদুল্লাহ অপহরণের এক দিন আগে-পরে রূপগঞ্জ, পাবনা ও মানিকগঞ্জে আরো চার শিশুকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশুদের ওপর সহজে নির্যাতন চালানো যায়। এ কারণেই তাদের ওপর অহরহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
 
তিন.
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে ৬৯ শিশ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ২৯২টি, ২০১৪ সালে ৩৫০টি , ২০১৩ সালে ২১৮টি ও ২০১২ সালে ২০৯টি শিশু খুন হয়েছে। চার বছরে ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৯৭৬ শিশু।  আইন সালিশ কেন্দ্রের (আসক) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে দেশে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫৬টি শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি, রহস্যজনকভাবে মারা গেছে ৬টি শিশু। আত্মহত্যা করেছে ১১টি ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ১০টি, অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ১৯ শিশুর এবং অধহরণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১টি শিশু।
চলতি বছরের গত দুই মাসে প্রায় ৫৫টি শিশুকে হত্যা করা হয়।
 
 
 
চার.
পৃথিবীতে মায়ের বুক ও কোল ছাড়া একটি শিশুর আর নিরাপদ আশ্রয় কি হতে পারে?  কিন্তু আমরা আজ এমন একটি অবস্থায় এসে গেছি যেখানে মায়ের কোলও আজ শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। সবার থেকে আপন মা- বাবা কখনও সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন কখনো গলা টিপে ধরছেন কখনো মা সন্তান ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। পাঁচ সাত মিনিটের রঙ্গিন দুনিয়ার কথা হয়তো সন্তান জানতে পারে তবে তার জন্য যদি সন্তানের জীবন দিতে হয় কেনই এই কর্ম? আর নিজেদের ভোগের জন্য কেনবা নবযাতককে উঠতি অবস্থায় বিনষ্টের চেষ্টা?
মর্মস্পর্শী ঘটনাগুলো ঘটছে আমাদের আশপাশে চোখের সামনে পিছে। কিন্তু কি দোষ সন্তানের? কি অপরাধ তাদের কাঁধে এসে ছেপে বসে? যে সন্তান মায়ের বুকে নিরাপদ ভাবে ঘুমাবে সে সন্তানের শেষ আশ্রয় হয় ডাস্টবিন কিংবা জঙ্গলের ময়লা থলিতে। যে সন্তান একদিন বিশাল এ পৃথিবীতে জনকল্যাণকর কাজে মনোনিবেসন করে খ্যাতি অর্জন করবে সে সন্তান বাবা মা’র কুকর্মের বলি হয়ে অকালে ঝড়ে পড়ছে।
ধানন্ডির একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পড়–য়া দীপ্তিকে তার মা প্রায়ই পড়ালেখার জন্য শাসন করতেন। দুই দিন আগেও দীপ্তিকে শাসন করতে গেলে দীপ্তি তার মাকে বলে ওঠে, মা আমি পড়া ঠিকমত না পারলে কি তুমি আমাকে মেরে ফেলবে?! সন্তানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই শিউরে উঠে মা শাহানা। দীপ্তির মনের ভয় কাটাতে হাজির হন রাজধানীর এক মনোরোগ চিকিৎকের কাছে। উদ্ধেগের বিষয় হচ্ছে শাহানার মত এখন অনেকেই অভিভাবক কিন্তু কি করছেন তারা? একজন শিশুকে যখন মা মারেন তখন দৌড়ে যায় বাবার কাছে বাবাও যদি মারেন তবে দৌড়ে যায় দাদা-দাদির কাছে। কিন্তু সবাই যদি মারেন তবে অবুঝ শিশু কার বুকে ঠাঁই নিবে? অর্থলোভে আমাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় বাহিনী হয়ে গেছে। আদালাত পাড়ার কথা না বলাই ভালো। এখন বাবা মা যদি নিজেদের লালসার দায়ে সন্তানকে ধংসের দিকে নিয়ে যায় অথবা হত্যা করে তবে সুন্দর এই পৃথিবী ধংস হতে আর কত দেরি। এখন ঘুম নয় হত্যা নয়। অনন্ত নিজের স্বাভাবিক মৃত্যুটাকে সকলেই আশা করে। 
গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের কেজি টু এর ছাত্রী তাহসিন ইসলাম প্রতিভা’র মা টুম্পা প্রতিভাকে স্কুলে নেওয়ার পর স্কুল ছুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত বসে থাকেন স্কুলের অভিভাবক কক্ষে। শঙ্কায় থাকেন টুম্পা অন্যকারো ভরসা না করে প্রতিভাকে প্রতিদিনই এভাবে স্কুলে আনা নেওয়া করেন।
‘আজকে শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত’ কিন্তু ভবিষ্যত উজ্জল নাকি কালো তা কেউ বলে বেড়ান না। তবে একটি শিশু হচ্ছে বাবা ও মায়ের উত্তম হাতিয়ার ছোট থেকে তাকে যা শিখানো হবে ভবিষ্যতে তাই করতে বদ্ধপরিকর থাকবে শিশুটি। আমরা যদি আমাদের শিশুর প্রতি সতর্ক ও বিনয় থাকি ভবিষ্যতে শুধু সন্তানের নয় আমাদের জীবনও উজ্জল হবে। শঙ্কায় থাকতে হবে না যে আমাদের কি বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়!
 
গুলশান-ঢাকা