Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

চোর-ডাকাত ও রিজার্ভ চুরির সাতকাহন!

Published:2016-04-16 12:37:13    
চোর-ডাকাত ও রিজার্ভ চুরির সাতকাহন!

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F490%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ থেকে সাড়ে আট শ’ কোটি টাকা লোপাট হওয়ার কাহিনী দিনকে দিন জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাচ্ছে। ঘটনার সাথে যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ক্লাইমেক্স। লোপাট হওয়া টাকা কি চুরি হয়েছে, নাকি ডাকাতি- এমনতর প্রশ্নের জবাব খোঁজার সাথে পাল্লা দিয়ে আরো একটি প্রশ্ন দেশ-বিদেশের সবখানে উচ্চারিত হচ্ছে : চোর-ডাকাতেরা কি শতভাগ দেশী, নাকি শতভাগ বিদেশী? অথবা দেশী-বিদেশী চোর-ডাকাতের সিন্ডিকেট মিলে অপকর্মটি যদি করে থাকে, তবে ঘটনার সাথে এ দেশের কারা কতটুকু জড়িত? তা জানার জন্য লোকজন রীতিমতো মুখিয়ে আছে। লোকজন তাদের সন্দেহভরা মন এবং ছ্যাঁকা খাওয়া দৃষ্টি নিয়ে দেশের বহুলপরিচিত চোর-ডাকাতদের ওপর সতর্ক নজর রাখছে এবং অবিশ্বাসের দোলায় চড়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করছে এই বলে যে, ওরা না জানি অনাগত দিনে আরো কত সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলে!
আমাদের দেশের চোর-ডাকাতদের স্পর্ধা এমনিতেই অনেক বেশি। তারা আরব্য রজনীর আলিবাবা এবং তার সঙ্গী চল্লিশজন চোরের মতো নয়। তাদের চরিত্র রবিনহুড, নিজাম ডাকাত কিংবা গল্পের নায়ক দস্যু বনহুরের মতোও নয়। আমাদের চোর-ডাকাতেরা বড়ই নির্মম এবং বেজায় নিষ্ঠুর প্রকৃতির নরাধম। তাদেরকে রাক্ষসের সাথে তুলনা করলে তারা নিজেরাই বলে ওঠে- আমরা ওদের চাইতেও ভয়ঙ্কর। কেউ যদি তাদেরকে শিয়াল, কুকুর কিংবা বিড়ালের সাথে তুলনা করে, তবে তারা সদম্ভে বলে ওঠে- ওটা একটা কথা হলো! প্রকৃতির ওসব নিরীহ ও গোবেচারা প্রাণীর সাথে আমাদের তুলনা করা একদম ঠিক নয়। কারণ আমাদের চুরিবিদ্যা শিয়ালের মুরগি চুরির মতো ঠুনকো বিষয় নয়, আমরা কুকুরের মতো প্রভুভক্ত হয়ে মালিকের ধনসম্পদ রক্ষার জন্য জীবন দিই না- বরং মালিকের ধনসম্পদ হরণের জন্য আমরা তাকে সপরিবারে নির্বংশ করতেও দ্বিধা করি না। আর বিড়ালের সাথে আমাদের তুলনা! ছি:, আমরা বিড়াল হতে যাবো কেন! ওরা একটু দুধ, একটু মাছ বা মাংসের টুকরো চুরি করে এমনভাবে লেজ গুটিয়ে এবং মুখে চোর চোর ভাব ফুটিয়ে তুলে পালাতে আরম্ভ করে, যা দেখে আমরা লজ্জায় মরে যাই। আমরা তো চুরি-ডাকাতি করার পর বাঘের বিক্রম নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বেড়াই- গণ্ডারের মতো ভাবলেশহীন থাকি এবং জলহস্তির মতো হাঁ করে লোকজনকে ভয় দেখাই।
রিজার্ভ লোপাটের অনেককাল আগে থেকেই বাংলার চোর-ডাকাতেরা তাদের অসাধারণ চৌর্যবৃত্তির অভিনব কৌশল, চুরি-ডাকাতির দক্ষতা, সাহস, দুঃসাহস এবং দম্ভ, চুরি-ডাকাতির মাল-সামানা সংরক্ষণ, পরিবহন এবং পাচারে বিশ্বময় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এতদসংক্রান্ত বিষয়ে যদি কোনো নোবেল প্রাইজের ব্যবস্থা থাকত, তবে ২০০১ সাল থেকে আজ অবধি গত পনেরো বছরে সুবে বাংলার চোর-ডাকাতদেরকে টেক্কা দিয়ে কেউ সেই প্রাইজ নিতে পারত না। বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে বাংলার লুটেরাদের কীর্তিগাথা নিয়ে মহাকাব্য রচনা করতে গিয়ে জানিয়েছে যে, গত কয়েক বছরে চার লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে- এর মধ্যে ২০১৩ সালেই নাকি সবচেয়ে বেশি কুকর্ম হয়েছে, যা একক হিসেবে দুনিয়ার অন্য কোনো দেশের আলিবাবারা নাকি পারেনি। আমাদের দেশের চুরি-ডাকাতির সংজ্ঞা যেমন পাল্টে গিয়েছে, তেমনি চোর-ডাকাতদের ভাব এবং মূর্তিতেও ব্যাপক পরিবর্তন চলে এসেছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে চোর-ডাকাতদের আদি ইতিহাস একটু নজর দেয়া যাক।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে চোর শব্দের সাথে ছ্যাঁচড় শব্দটি বহুলভাবে প্রচলিত। মূলত চোরের সহযোগী, চোরের নিয়োগ করা গুপ্তচর এবং চোরদের চামচাজাতীয় লোকজনকে ছ্যাঁচড় বলা হয়। ছ্যাঁচড় বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের একটি অভিনব মৌলিক শব্দ। এটির কোনো প্রতিশব্দ ইংরেজি, আরবি, চীনা বা ফারসির মতো শক্তিশালী ভাষাগুলোতে নেই। সুবে বাংলার সুলতানি আমাল, মোগল জমানায়Ñ এমনকি ইংরেজদের রাজত্বকালে বড় বড় চোর-ডাকাত বিদেশ থেকে এ দেশে আসত জাহাজে করে। মাঝনদীতে তারা তাদের জাহাজ নোঙ্গর করে দেশীয় ছ্যাঁচড়দের খবর দিত। ছ্যাঁচড়েরা তাদের বিদেশী প্রভুদের পথ দেখিয়ে দেশীয় রাজরাজাদের রাজকোষ, ব্যবসায়ীদের গুদামঘর, মহাজনদের অর্থভাণ্ডার, গেরস্থঘরের সোনাদানা এবং শস্যভাণ্ডারে নিয়ে যেত। তারা বাংলার রূপসী কন্যা, বধূ এবং জননীদের বিদেশী চোর-ডাকাতদের হাতে তুলে দিত।
শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় বিদেশীদের চুরি-ডাকাতির সহযোগী হিসেবে বড় বড় ছ্যাঁচড় নিজেরাই চোর-ডাকাত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করল। তারা বহু গবেষণা এবং চেষ্টা-তদবির করে চোর-ডাকাতের বঙ্গ ভার্সন আবিষ্কার করল। চোর-ডাকাতের খাসলত, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, বাসস্থান, স্ত্রী নির্বাচন, বংশ বিস্তার, আত্মীয়তা এবং অস্ত্র চালনার ব্যাপারে একটি কোড অব কন্ডাক্ট রচনা করে ফেলল। তারা বিশেষভাবে মোচ রাখত, শরীরচর্চা করত, বিশেষ পোশাক পরত এবং চুরি-ডাকাতি করার সময় শরীরে আচ্ছামতো তেল এবং কালি মাখত, যাতে তাদের আসল চেহারা বোঝা না যায়। তারা নিজ এলাকা, আত্মীয় বাড়ি, কোনো ভালো মানুষ, পীর-দরবেশ, ফকির-সন্ন্যাসীর বাড়িতে যেমন চুরি-ডাকাতি করত না, তেমনি মরে গেলেও গরিব ঘরে চুরি-ডাকাতির কথা কল্পনাও করত না। তারা যে পরিবারের অন্ন গ্রহণ করত, তাদের বাড়িতে কুকর্ম করত না। চুরি-ডাকাতির মালামাল অত্যন্ত সততা এবং ন্যায়নিষ্ঠার সাথে নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নিত। তারা কোনো দিন কারো সর্বস্ব হরণ করত না এবং থানাপুলিশকে চুরি-ডাকাতির ভাগ দেয়ার কথা কল্পনাও করত না।
আদিকালে সুবে বাংলার প্রথম প্রজন্মের চোর-ডাকাতেরা তাদের লুটের মাল দিয়ে অট্টালিকা তৈরি কিংবা বিত্তবান হয়ে সমাজের নেতা বা রাজা-বাদশাহ হওয়ার স্বপ্ন দেখত না। তারা পুলিশকে ভয় করত, সম্মানিত মানুষকে সমীহ করত। ধর্মীয় নেতাদের অন্তর থেকে ভক্তিশ্রদ্ধা করত। তারা বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু ন্যূনতম প্রয়োজন ঠিক ততটুকু চুরি-চামারি বা ডাকাতি করত। তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থবিত্ত বা বৈভব ছিল কল্পনাতীত। এ কারণেই বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে : ‘চোরের বাড়িতে দালান ওঠে না’। সুবে বাংলার চুরি-চামারি ছিল সারা বছরের নিয়মিত কর্ম। চোরদের মধ্যে অভিজাত সম্প্রদায় ছিল সিঁধেল চোর। এর বাইরে গরু চোর, ভেড়া চোর এবং ছাগল চোরও কম ছিল না। কিছু সাহসী চোর অবশ্য মহিষ চুরি করত। কারণ মহিষ বন্য ও হিংস্র হওয়ার কারণে যেনতেন চোরের পক্ষে ওগুলোকে বশ মানিয়ে চুরি করা সহজ ছিল না। বাংলার চোরদের বিরাট অংশের চৌর্যবৃত্তি সীমিত ছিল কলা চুরি, বেল চুরি, তাল চুরি, মাছ চুরি, মুরগি চুরি, ডিম চুরি প্রভৃতি কর্মের মধ্যে; যাকে তৎকালীন সময়ে চুরি শিল্পের আদি ক্ষেত্র বা কুটির শিল্প বলা হতো।
আদি জমানার ডাকাতি ছিল রীতিমতো ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ঘটনা। কোনো এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটলে ওই এলাকার লোকজন ছয়-সাত মাস ধরে ভয়ের মধ্যে থাকত- রাতবিরেতে যম এলেও ঘর থেকে বের হতো না এবং ঘরের মধ্যেই প্রাকৃতিক কর্ম সারত। ডাকাতেরা কোনো দিনই সমাজে নিজের পরিচয় প্রকাশ করত না। বেশির ভাগ ডাকাত নিজ পরিবার- এমনকি স্ত্রীর কাছেও নিজের কুকর্ম গোপন রাখত। সুবে বাংলায় ডাকাতি একটি মওসুমি কর্ম বলে বিবেচিত হতো। বেশির ভাগ ডাকাতি সংঘটিত হতো বর্ষায় বৃহৎ কোনো নদনদীর তীরে অবস্থিত গ্রামে অথবা বন্দরে। বাঙালির আনন্দের দিনগুলো যেমন শীতকাল, পূজা পার্বণ এবং রমজানের সময় সাধারণত ডাকাতি হতো না। ডাকাতির প্রয়োজনে যতটুকু নির্মম এবং অত্যাচারী হওয়া দরকার, ঠিক ততটুকু নির্মমতা ও অত্যাচারকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত।
প্রথম প্রজন্মের চোর-ডাকাতদের সেই ভাবমূর্তির একটিও বর্তমানে নেই। বর্তমানের চোর-ডাকাত তো বটেই, ছ্যাঁচড়দের চরিত্রও পাল্টে গেছে। চুরি-ডাকাতি একটি গুরুমূলি বিদ্যা। শরীরে চোর-ডাকাতের রক্ত না থাকলে কেউ যেমন এই জগতে প্রবেশ করতে পারে না, তেমনি উত্তম গুরুর নিকট দীক্ষা না নিলে এ ক্ষেত্রে কেউ সিদ্ধিলাভও করতে পারে না। আদিকালের চোর-ডাকাতেরা গুরু হিসেবে তাদের মতো অন্য কোনো মনুষ্য দেহবিশিষ্ট প্রাণীকে মান্য করত। কিন্তু বর্তমানের চোর-ডাকাতেরা শয়তান এবং আরো নানান প্রকৃতির অশরীরী আত্মার দিকে ঝুঁকে পড়েছে দীক্ষা গ্রহণের জন্য। ফলে তাদের কৌশল এবং অপকর্ম করার শক্তি, সাহস ও প্রযুক্তি মানুষের মন-মস্তিষ্কে ঢুকছে না। তারা সহজেই ঢুকে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অর্থভাণ্ডারে এবং সর্বোপরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় রিজার্ভে। তারা শয়তানের মতো যেকোনো স্থানে নির্বিঘেœ ঢুকে পড়তে পারেÑ এমনকি কারো পাকস্থলীর ভেতরে অথবা পরানের গহিন অরণ্যে। তারা ঢুকে যেতে পারে কারো মস্তিষ্কে এবং দরকার পড়লে কারো গৃহদ্বারে।
সত্যিকার শয়তান তাড়ানোর হাজারো উপায় ও কৌশল রয়েছে। কিন্তু শয়তানের শিষ্যরূপী বাংলার হাল আমলের চোর-ডাকাত তাড়ানোর কোনো কৌশল গত পনেরো বছরে আবিষ্কৃত হয়নি। তারা ক্যান্সার ও এইডসের মতো ভয়াবহ। তাদের বংশ বিস্তারের হার যেকোনো নিকৃষ্ট প্রাণী অথবা জীবাণুর চেয়েও বেশি। তারা তথাকথিত শিক্ষিত। তাদের পূর্বপুুরুষদের মতো তারা রাম দা, তলোয়ার, ভোজালি, ছোরা কিংবা খোন্তা-শাবলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে না। তারা অস্ত্র হিসেবে কলম, কম্পিউটার এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। তারা বুক উঁচু করে সমাজে ঘুরে বেড়ায়। তারা যাদের ঘরবাড়ি লুট করে, সেসব গৃহকর্তা উল্টো তাদেরকে তোয়াজ করে প্রাণে বেঁচে থাকে। তারা আগের মতো শরীরে কালি মাখে না এবং কুকর্ম করার জন্য অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার রজনী তালাশ করে না। তারা ধবধবে সাদা পোশাক পরে শরীরের ত্বক আরো উজ্জ্বল এবং আরো ফর্সা করার জন্য মহিলাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখে। তারা নিজেদের নেতা, ধর্মগুরু, শিক্ষিত ভদ্র এবং অভিজাত প্রমাণের জন্য যেকোনো বেশ ধরতে পারে এবং যেকোনো সমাজ ও পরিবেশে গমন করতে পারে। তাদের সাফল্য দেখে তাদের গুরু ইবলিশ অবাক হয়ে যায়। মনে মনে ভাবে, দিন বোধ বদলে যাচ্ছে, এবার হয়তো আমাকেই ওদের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
বাংলাদেশের চোর-ডাকাতদের সরদারেরা সম্ভবত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীয়, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ অথবা হার্ভার্ডের মতো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গোপনে গড়ে তুলেছে এবং নিজেদের সঙ্গী চ্যালা-চামুণ্ডাদের সেখান থেকে নিখুঁতভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলেছে। নতুবা তাদের আমেরিকার মাফিয়া ডন, গোল্ডেন হার্ভর মাদক সম্রাটগণ এমনকি ভারতের দাউদ ইব্রাহিম, ছোটি শাকিল, রাজন প্রভৃতিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ওসব চোর-ডাকাত, মাদক পাচারকারী, সন্ত্রাসী ডন এবং অন্ধকার জগতের মানুষেরা কেউই প্রকাশ্যে চলাফেরা করে না। তারা রাষ্ট্রশক্তিকে ভয় পায়। সাধারণ মানুষকেও ভয় পায়। ফলে তারা সবাই পালিয়ে থেকে কুকর্ম করে। অন্য দিকে আমাদের চোরেরা নিয়মিত অফিস করে, ধর্মালয়ে গিয়ে তপস্যার ভান করে, ক্ষমতাবানদের সামনে বসে পা দোলায় এবং নিশিরাতে ইচ্ছেমতো আনন্দফুর্তিতে নিজেদের ভাসিয়ে দেয়। তারা জেলে গেলে ভিআইপি সেলে থাকে, বিদেশে যাওয়ার সময় ভিআইপি মর্যাদা ভোগ করে এবং সমাজে চলতে গিয়ে রাজা-বাদশাদের মতো প্রকাশ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে চলাফেরা করে।
হাল আমলের চোরেরা কাউকে ভয় পায় না- কাউকে পরোয়াও করে না। তাদের চুরি-ডাকাতির উদ্দেশ্য তাদের পূর্বপুরুষদের মতো কেবল জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে নয়। তারা চুরির মাল এবং ডাকাতির সম্পত্তি দিয়ে অট্টালিকা গড়তে চায়। তারাও হতে চায় দেশ-বিদেশের সেরা ধনী ব্যক্তি। তারা জোর করে সম্মান আদায় করতে চায়- ভয় দেখিয়ে মানুষজনের মুখ বন্ধ করে দেয়ার সব অপকৌশল তাদের করায়ত্তে। নিজেদের চৌর্যবৃত্তি এবং ডাকাতির পেশা আড়াল করার জন্য তাদের রয়েছে দেশী-বিদেশী ব্যবসা, অসংখ্য ছ্যাঁচড় প্রকৃতির পাপী বুদ্ধিজীবী এবং নানান ধরনের প্রচারযন্ত্র। এসব কারণে তাদেরও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে তারা গতানুগতিক চুরি-ডাকাতির কথা ইদানীং কল্পনাও করতে পারে না। এমনকি পাঁচ-সাত বছর আগে তারা যে মানে, যে ধ্যানে এবং যে পরিমাণে চুরি-ডাকাতি করত তা বর্তমানে তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। ফলে আঙুল ফুলে কলাগাছ বা পুকুর চুরির প্রবাদবাক্যকে তারা আঙুল ফুলে বটবৃক্ষ এবং মহাসাগর লুটজাতীয় নতুন প্রবাদবাক্য রূপান্তর করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চোরদের নজর পড়েছে রাজকোষের দিকে।
আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় রিজার্ভের অর্থ লোপাট হলো। এটা জনগণের অর্থ। এই অর্থ সেই নারীর, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের দুর্গম এলাকায় কাজ করতে গিয়ে পাষণ্ড গৃহকর্তার লালসার শিকার হয়ে বাড়ির উঁচু ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এই অর্থে সেই নারীর হক রয়েছে, যিনি কোনো আরব বেদুইনের কাছে ধর্ষিতা হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তীকালে জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসে এসে কোনো মতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমাদের গার্মেন্ট শিল্পে কাজ করা গরিবের রক্ত, চা বাগান, চিংড়ি ঘের এবং পাটকলগুলোতে কাজ করা অভাবী দরিদ্র এবং হাড্ডিসার নরনারীর রক্ত পানি করা মাসের টাকা দিয়ে আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ গড়ে তুলেছি। আমাদের কোনো রাজা নেই- নেই কোনো রানী। আমরা কোনো প্রজাও নই। আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের নিকট ভিখারির মতো হাত পেতে- আবার কখনো কখনো আমাদের পায়ে ধরে চোখের পানি ফেলে ভোট ভিক্ষা করে। আমাদের সেবক হওয়ার জন্য আসা লোকদেরকে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাই। ইতিহাসের বাঁকে কিছু সময়ের জন্য আমাদের সেবক আমাদের ভোটের অধিকার হরণ করে ভোট চুরি করে এবং মাঝে মধ্যে ডাকাতি করে। আমরা জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেভাবে সেসব চোর-ডাকাতকে পাকড়াও করি তেমনি আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের লোপাটকারী চোর-ডাকাতদেরও আমরা পাকড়াও করব, ইনশাআল্লাহ।