Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

মাইনাস খালেদা জিয়া ফর্মুলা!

Published:2016-06-11 11:36:43    
মাইনাস খালেদা জিয়া ফর্মুলা!

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F497%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

একসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’-এর কথা শোনা গিয়েছিল। সামরিক বাহিনী সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বি-রাজনীতিকরণের পদক্ষেপ নিয়েছিল। রাজনীতি থেকে দু’নেত্রীর অপসারণ চেয়ে বলা হয়েছিল ‘বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে বলতে পারি, গত ১৬ বছরে তাদের দু’জনের ক্ষমতার রাজনীতি, প্রতিহিংসা ও অনেক অত্যাচার দেশবাসী নীরবে সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে। দয়া করে আপনারা রাজনীতি থেকে সড়ে দাঁড়ান। নতুন নেতৃত্বকে সামনে আসা এবং দেশকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ দিন। দুর্নীতি আর অপশাসন ছাড়া আর আপনাদের দেশকে দেয়ার কিছু নেই।’ (প্রথম আলো : ১১ জুন : ২০০৭) কিন্তু, অবশেষে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরার বন্দোবস্ত ব্যর্থ হয়েছে। একটি ‘প্যাকেজ ডিল’-এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। সে সময় একজন নেত্রী রাজি হলেও খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তার অনমনীয় দৃঢ়তার কাছে পরাজিত হয়েছিল ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। অবশেষেও খালেদা জিয়া ‘প্যাকেজ ডিলের নির্বাচন’ মেনে নিয়েছিলেন এই ভেবে যে ‘সামরিক স্বৈরাচারের চেয়ে গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার শ্রেয়।’ তবে সামরিক স্বৈরাচারের চেয়ে গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার যে আরো ভয়ানক হতে পারেÑ দেশবাসী এখন তা প্রত্যক্ষ করছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে ‘মাইনাস খালেদা জিয়া ফর্মুলা’ নিয়ে কাজ করছে একটি চক্র। তারা সামরিক সরকারের সোজাপথে না গিয়ে বাঁকা পথ ধরেছেন। বেগম খালেদা জিয়া যাতে স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নেন সেজন্য প্রকাশ্য ও গোপনে তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তাকে নানাভাবে অপমান-অপদস্ত করা, বাড়ি থেকে বিতাড়ন, বালুর ট্রাক স্থাপন করে প্রকারান্তরে গৃহবন্দী করা, তার মৌলিক অধিকার হরণ ইত্যাদি অপচেষ্টার পর অতিসম্প্রতি মামলার পর মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে তাকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র চলছে। শিগগিরই যাতে তাকে জেলে ঢুকানো যায় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনুপযুক্ত ঘোষণা করা যায় সে রকম ফর্মুলা নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে আজ্ঞা বাহিনী। 
 
খালেদা জিয়ার প্রতি এসব হামলা-মামলা এবং অনাচার-অত্যাচারের কারণ তিনিই শাসক দলের একমাত্র চ্যালেঞ্জ। তিনি দেশের জনসমর্থিত নেত্রী। দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও অব্যাহত গণসমর্থন তাকে জাতীয় নেতার অভিধায় অধিষ্ঠিত করেছে। স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার আপসহীন নেতৃত্ব এবং জাতীয় নির্বাচনে অপরাজিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি জনগণের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী আসনে অলঙ্কৃত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত। অনিবার্য তার ভূমিকা। তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পদে বরিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়কে। ব্যক্তিগতভাবে তিনিই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের এই প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের নেতৃত্ব যখন অতি আবশ্যক, তখন তাকে নির্বাসনের চক্রান্ত জাতির জন্য মঙ্গলময় হবে না।
মাইনাস টু ফর্মুলার অংশ হিসেবে তৎকালীন সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ০১. জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, ০২. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি, ০৩. গ্যাটকো দুর্নীতি, ০৪. বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি এবং ০৫. নাইকো দুর্নীতি ইত্যাদি। সে সময়ে উভয় নেত্রীর বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চরিত্র হননের এসব মামলা একটি রাজনৈতিক সরকারের আমলে চলার কথা নয়। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এ ধরনের সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই বিচারে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কথা। অথচ তা হয়নি। বরং, বর্তমান সরকারের আমলে নতুন নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা বর্তমান মামলা সংখ্যা সম্ভবত ২৭। এসব মামলা রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে হুকুমের আসামি সবকিছুই রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বলা হয়Ñ গত সাত বছরে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে খালেদা জিয়া তার পরিবারের বিরুদ্ধে আরো ৩৫ মামলার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা আইনগতভাবে ভয়ানক হলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এসব মামলা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পাশাপাশি নাশকতার মামলা করা হয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। গত বছরের শুরুতে টানা হরতাল ও অবরোধের মধ্যে নাশকতার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে ১০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ছয়টি, বিস্ফোরক ও নাশকতার অভিযোগে ১০টি, মানহানি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিবৃতি ইত্যাদি বিষয়ে মোট ২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখন চলছে। নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা দু’টি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ছিল। অতিসম্প্রতি ওই স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করায় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৬ জুন নয়া দিগন্তে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরো চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বিগত ৬ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকার সিএমএম আদালতে ৪ মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মোট ৯টি চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ৯টি মামলার মধ্যে আটটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলাগুলো দণ্ডবিধির অন্তর্ভুক্ত। কোর্ট সূত্রে জানা গেছে যে, এসব মামলার চার্জশিট গ্রহণসংক্রান্ত শুনানি ১৭ জুলাই, ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। বিস্ময়ের ব্যাপার, ওই মামলাগুলোতে বেগম খালেদা জিয়াকে পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেছেন। ধার্য তারিখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকার থানা এবং কোর্ট খালেদা জিয়ার মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত আছে। এসব মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। রাজনীতির বাইরে যারা খালেদা জিয়ার সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছে, যেমনÑ প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, তাদেরও অনেক মামলায় আসামি করা হয়েছে। এর অর্থ, সরকার খালেদা জিয়ার অফিসও অকেজো করে দিতে চায়। খালেদা জিয়া এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এত মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং দায়ের করা হয়েছে তার হিসাব-নিকাশ মেলানো কঠিন। এসব মামলায় হাজিরা দিতে দিতে খালেদা জিয়া হয়রান। আর আসলে হয়রানি করাই সরকারের লক্ষ্য। গত দু-এক সপ্তাহের মামলার গতিবিধি দেখে বোঝা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়াকে শিগগিরই জেলে পাঠানো সরকারের লক্ষ্য। 
সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল একটি অপরিহার্য শর্ত। বাংলাদেশের নির্বাচিত সব সংসদে বিরোধী দলের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমান সময়ের অনির্বাচিত সংসদে বিরোধী দল তামাশার খোরাক হয়ে অবস্থান করছে। সে ক্ষেত্রে কার্যকর বিরোধী নেতা হলেন বেগম খালেদা জিয়া। পাতানো নির্বাচন এবং গায়ের জোরে বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে। এটি সরকার ও জনগণের জন্য মোটেই কল্যাণকর হয়নি। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং দেশের প্রধানবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ধারক ও বাহক হিসেবে খালেদা জিয়ার উপদেশনা, পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য প্রয়োজনীয়। এমনিতেই সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মতামত ও সমালোচনা গ্রহণ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেসব না করে সরকার বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী বেগম জিয়াকে নির্মূলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। সর্বোচ্চ জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে। সাধারণ মানুষ সবকিছু বোঝে, তাদের বোকা বানানো সহজ নয়। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকবে; কিন্তু রাজনৈতিক শত্রুতা কাক্সিক্ষত নয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গত ৭ বছরে গৃহীত কার্য ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, তিনি রাজনৈতিক শত্রুতা ও প্রতিহিংসা কবলে নিপতিত হয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত কঠিন ভাষায় সরকারের দুরভিসন্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার আগুন নিয়ে খেলছে। বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, বর্তমানে জনমনে যে ভয় ও আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে জনগণের চোখ এড়ানোর জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার হিড়িক পড়েছে। 
বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসনে বাস্তবসম্মত প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতকে ধারণ সক্ষম জাতীয় সংসদ সক্ষমতা অর্জন করেনি। এ সময়ে জাতীয় স্বার্থে অবিলম্বে ‘জাতীয় সংলাপ’-এর আয়োজন অপরিহার্য। আমাদের বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী এবং সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উচিত সর্বোচ্চপর্যায়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি অবসান ঘটানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করা। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে সরকারি রোশ সৃষ্টি হয়েছে তার প্রশমন সরকারের স্বার্থেই প্রয়োজন। প্রবাদটি এরকম- পাপে পাপ আনে পুণ্যে আনে সুখ। আর প্রতিহিংসায় প্রতিহিংসাই সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ আশা করে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক!!
 
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 
Mal55ju@yahoo.com