Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর ও সরকারের দৃশ্যমান সফ

Published:2016-09-07 11:25:43    
মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর ও সরকারের দৃশ্যমান সফ

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F510%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

শনিবার রাতে ফাঁসি কার্যকরের আগে লম্বা সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। লাশ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের নজর ছিল তাকে দাফনের গোটা প্রক্রিয়ার দিকে। ঢাকা থেকে কিছু সিনিয়র সাংবাদিক গাড়ীতে করে রওনা হয়ে মানিকগঞ্জ মীর কাশেমের বাড়ী যাবার পথে ঘিওর থানার শেষ সিমান্ত হরিরামপুর থানার সিমানা শুরু হতেই নলতা বাজারে পুলিশের ব্যারিকেটের মুখে পরে তারা। তার ঘন্টা দুয়েক আগে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সাংবাদিককে একই স্থানে বাধা প্রদান করা হয়। ফলে রাতভর ৪০/৪৫ জন সাংবাদিক, ১৫/২০ জন পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় সাধারন কিছু মানুষের মাঝে চলে আড্ডা। সাংবাদিকদের স্বভাবসূলভ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবেশ পেলে তথ্য সংগ্রহ করা যেন প্রধান খাদ্যে পরিনত হয়। আড্ডার মাঝে স্থান পেয়েছে একসাথে সাংবাদিক-পুলিশ-সাধারণ মানুষ চা খাওয়া, মুড়ি মাখা খাওয়া ও কলা-চিপস খাওয়া ইত্যাদি। পুলিশের এক সদস্যের সাথে কথার ছলে বলে ফেলা আপনার দৃষ্টিতে এসব জামায়াত নেতারা কেমন ছিল? কিছু সময় আতকে উঠে পুলিশ সদস্য বলে ফেলেন, ‘দেখুন আমারা হুকুমের গোলাম। আমাদের যা করতে বলা হয় তা না করলে চাকুরি থাকবেনা। বউ বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরবে। আপাতদৃষ্টিতে মীর কাশেম আলীদের কোন দোষ আছে বলে আমার মনেহয় না। কারন এসব লোকের বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই। জামায়াত ব্যাতিত যেকোন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ব্যতিত অসংখ্য অভিযোগ আছে।’ এপর্যন্ত বলতেই আরেক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির কারনে কথা বন্ধ হয়ে গেলেও তার পরবর্তী কথা কি হবে তা বোঝা যায়। 
সেখানে উপস্থিত স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক কর্মীকে পরিচয় ও কথার এক পর্যায়ে হঠাৎ বলে বসা, আপনার দৃষ্টিতে স্থানীয় মানুষ হিসেবে মীর কাশেম আলী কেমন। তার কথা ’দেখুন সত্য কথা বললে আমি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবো। শুধু রাজনৈতিক কারনে তাকে গালাগাল করতে হয় বা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। মানুষ হিসেবে মীর কাশেম সাহেব ভাল মানুষ। তবে তার এই মতামত অন্য কাউকে না বলার জোড় অনুরোধও করেন তিনি। 
নলতা বাজারে পুলিশের নির্দেশে রাত দেঢ়টা পর্যন্ত খুলে রাখা এক দোকানীর সাথে কথা বলা, তার কাছ থেকে সওদা ক্রয় সহ দীর্ঘসময় একধরনের আড্ডা। ঐ রাস্তা দিয়ে কখন আসছে মীর কাশেমের লাশ তা বারবার খোজ নেওয়া আর ফাঁকে দোকানীর সাথে নানা বিষয়ে কথা বলা। হঠাৎ করেই বলে বসা, আসলে এসব যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তার বক্তব্য হচ্ছে, আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিদিন পত্রিকা পড়ি, টেলিভিশন দেখি চেষ্টা করি বিভিন্ন খবর পাওয়ার। ম্যাট্রিক পাশ করে চাকুরি না করে ব্যাবসায় মনোনিবেশ করা এই দোকানী সাংবাদিকের কাছে বলে ফেলেন, ‘এলাকার মানুষ হিসেবে তাকে আমরা ভাল জানতাম’।
সেখানে লুঙ্গি পরে এক ব্যাক্তি হাটাহাটি করছে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে সে একজন কাঠ ব্যাবসাীয় হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। সন্ধা থেকে তাকে আটকে রাখা হয়েছে ঐ রাস্তা দিয়ে পুলিশ তাকে যেতে দিচ্ছেনা। যদিও সাংবাদিকদের অনুরোধ তার মটরসাইকেল সহ এক সময় তাকে বাড়ী যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ। অর্ধ কিলোমিটার দুরে তার বাড়ী। কথা বলার এ পর্যায়ে হঠাৎ জিজ্ঞাসা কেমন জানেন এই মীর কাশেম আলীর ব্যাপারে। বলতেই সামনে পেছনে- ডানে বামে তাকাচ্ছেন সে। বলা হলো এমন করছেন কেন? তার সোজা উত্তর ‘সত্য কথা বলা এখন খুব কঠিন হয়ে পরেছে, কেউ শুনে ফেললে বেকায়দায় পরতে হবে। দেখুন আমি নিজে একজন সাধারণ ব্যাবসায়ী। মীর কাশেমের ফাঁসি হলো। সে মারা গেছে। মৃত্যু ব্যাক্তির বিষয়ে মিথ্যা বলতে পারবোনা। আসালে সে একজন ভাল মানুষ।’
প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামীলীগ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইসতেহারের অন্যতম এজেন্ডা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। বিচারে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো বলতে গেলে অনেক বেশি সহায়তা করেছে। বুদ্ধিজীবি, শিক্ষানুরাগী নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এই বিচারে নানাভাবে সরকারের সাথে থেকে সহায়তা করেছে। প্রচার-প্রচারণা হয়েছে আকাশচুম্বি। দৃশ্যত জামায়াতের নেতাদের বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের এমনকি সুযোগ পেলেই সরকারের নিজস্ব লোকেরাও ব্যাক্তিগত পর্যায়ের আলোচনায় জামায়াতের নেতাদের দোষ উল্লেখ না করে পক্ষে কথা বলছে। তার অর্থ হলো প্রতিটি মানুষের অন্তরে জামায়াত নেতাদের যেসব দোষে মৃতদন্ড দেয়া হচ্ছে তা বিদ্ধ করা যায়নি।  এটা সরকারের ব্যার্থতার পর্যায়ে পরে কিনা?
নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ যখন এভাবে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে জামায়াতের প্রতি সিমপ্যাথি দেখায়, এই দলের নেতাদের প্রতি পজিটিভ বলে বসে। তখন গোপন ব্যালটে নিজের মতামত প্রকাশের কোন সুযোগ যদি সাধারণ মানুষ পেয়ে যায় তাহলে আদৌও প্রকৃত চিত্র কি দাড়াঁবে এটা আওয়ামীলীগকে ভাল করে ভাবতে হবে। এখন অনেকে ধরেই নিচ্ছে বিচার করে যাদের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে তারা ফাঁসির আগে প্রাণভিক্ষা না চেয়ে বরং নিজেকে নির্দোশ বলছে, তখন সাধারণ মানুষ জামায়াতের প্রতি দুর্বল হয়ে পরছে কিনা। তাও ভাবনায় স্থান দেওয়া জরুরী।