Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 19 2018 ,

শহীদি মৃত্যু, তবে জামায়াত নেতাদের বাচঁতে এতো চেষ্ট

Published:2016-09-20 09:41:44    
শহীদি মৃত্যু, তবে জামায়াত নেতাদের বাচঁতে এতো চেষ্ট

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F511%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

প্রথমে কাদের মোল্লা সবশেষ মীর কাশেম আলী পর্যন্ত যেসকল জামায়াত নেতারা ফাঁসির কাষ্টে ঝুলেছে তাদের সবারই মৃত্যুর আগে দিয়ে ঘোষনা ছিল তারা শহীদি মৃত্যুর পেয়ালা পান করতে যাচ্ছে। অধিকাংশ জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে ২০১০ সালে। ২০১২ সালে গ্রেফতার করা ‘ধনকুবের খ্যাত’ মীর কাশেম আলীকে। যখন থেকে নেতাদের গ্রেফতার করা হয় তখন থেকে শুরু হয় মামলা যুদ্ধ। সরকার যুদ্ধ করতে অনেকটা ক্লান্ত হলেও অর্থের জোড়ে দেশি বিদেশি নানা পদক্ষেপ নিতে জামায়াতকে ক্লান্ত হতে দেখা যায়নি। তাদের নেতাদের বাচাঁতে জামায়াতের বায়তুলমাল (অর্থবিভাগ) থেকে শত কোটি টাকা ব্যায় করেছে ঐসব গ্রেফতারকৃত নেতাদের স্থলাভিসিক্ত বর্তমান নেতারা। জেল থেকেই নিজামী-মুজাহিদরা দল পরিচালনা করেছে দিব্বি। তাদের সাথে শলাপরামর্শ করতে মাঝে মাঝে গ্রেফতার হতে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নানা সদস্যদের। এমনকি বর্তমান কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান ইচ্ছেকৃত গ্রেফতার হয়ে জেলের ভিতরে আটকে থাকা নিজামী-মুজাহীদের সাথে দেখা করে দল চালানোর স্ক্রিপ্ট তৈরি করে বাহিরে এসে দলকে সেভাবেই চালিয়েছে। নিজামী-মুজাহিদরা ভেতরে থেকে নিজেদের মামলা কিভাবে চলবে, কতটাকা ব্যায় করতে হবে কোথা থেকে করতে হবে এবং সর্বোচ্চ পরিমান অর্থ দিয়ে হলেও কিভাবে তাদের বিচারের মুখ থেকে সরে আনা যায় সেসবের নির্দেশনা দিয়েছে । অনেক সময় ভারপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা মানার অন্ধ ভূ’মিকা নিয়ে তরুন নেতারা আপত্তি তুলেছে বরাবরই। তাতে কান দেয়নি ভারপ্রাপ্তরা। ভারপ্রাপ্তরা স্বপদে থাকতে পারবেন কিনা তাও নিয়ন্ত্রনে রেখেছিল বন্দী শীর্ষ নেতারা। দলের ভিতরে অনেকে প্রশ্নও তুলেছে জামায়াতের সংবিধানে তিনবছর পর পর কেন্দ্রীয় আমীর নির্বাচনের পদ্ধতি থাকলেও তা পালন করেনি জামায়াত। বরং তারা গ্রেফতারের একপর্যায়ে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত জানার পরও স্বপদে বহাল থেকে উক্ত পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্যদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছিল। জামায়াতকে সংগঠন হিসেবে তারা যদি এতোটাই ভালবাসতো তাহলে কেন তারা গ্রেফতাদের সাথে সাথে পদত্যাগের ঘোষনা দিলেন না, এমন প্রশ্নও উঠেছে দলটির মাঝে।
মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের শীর্ষ নেতারা একটা জায়গায় ব্যার্থ হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও অধিকাংশ নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে পারেনি। জামায়াতের বক্তব্যে বিভিন্ন সময় শোনা যায়, একজন দলীয় কর্মী জীবিত থাকলেও তাদের এই আন্দোলন থেমে থাকবেনা। বান্তব চিত্র কি? তার উল্টো। তারা যে ব্যাক্তি সার্থের উর্ধে উঠে নবী-রাসুলের পথে প্রকৃত ইসলাম মানার পথে নেই, তার শিংহভাগ প্রমান এখান থেকে প্রতীয়মান হয়। জামায়াতের পক্ষে যাদের রাস্তায় এসে আন্দোলন করতে দেখা গেছে তাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ, ভাড়াটে টোকাই। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির প্রতিবাদে কোন আন্দোলনেই বর্তমান শীর্ষ নেতাদের মাঠে দেখা যায়নি। হতাহত হতেও দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- বরাবরই যেকোন মিছিল সমাবেশে চতুর্থ-পঞ্চম ধাপের নেতাদের দিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার পায়তারা করেছে শীর্ষ নেতারা। শিবিরের থানা পর্যায়ের এক নেতাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- মিছিল হলে কেন্দ্র বা মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মিছিল শেষ হতে না হতেই আগে থেকেই তৈরি থাকা মটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। মাঝখান থেকে সাধারণ কিছু কর্মী গ্রেফতার-হয়রানির শ্বিকার হয়। পরে তারা জেলে দিনের পর দিন পচঁতে থাকে। জেলের ভিতরে থাকা কর্মীরা বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি-জমা বিক্রি করে জামিনের ব্যাবস্থা করেন। অনেকে অভিযোগ করেছে- মামলা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত জামায়াত-শিবিরের নেতা ও আইনজীবিরা গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে বানিজ্য করেছে। আত্মসাত করেছে দেশি-বিদেশি নানা উৎস থেকে আসা কোটি কোটি টাকা।
জামায়াতের ইতিহাসে নিচু সারির নেতারা এর আগে কখনো এতো দ্রুততম সময়ে দলীয় উর্ধতন পদ-পদবি পায়নি। শীর্ষ নেতারা ফাঁসির কাষ্টে ঝুলেছে, কিছু নেতা ভয়ে বিদেশে পারি জমিয়েছে এবং কিছু নেতা বৈরি পরিবেশে জামায়াত ছেড়ে নিস্ক্রিয় হয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের নেতারাই বেশি উপকৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে দলটির ভিতরে।  দুই কারনে মাঝারি সারির নেতারা আওয়ামীলীগের সাথে আপস করতে রাজি হয়নি। এক. আপস করলে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হতো না, তারা স্বপদে বহাল থাকতো। দুই. বর্তমানরা তাদের সার্থ-সিদ্ধি থেকে বঞ্চিত হতো। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বর্তমান শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে খারাপ ধারণা পোষন করায় আন্দোলনে মাঠ গরমও হচ্ছেনা বলে মত দিয়েছেন দলটির ভিতরে থাকা কিছু কর্মী। ফলে বর্তমানে পদে থাকা নেতারা মূলত কুয়োর মাঝে পরে থাকা মানুষকে উদ্ধার করতে হাত টানা দিচ্ছেন কিন্তু নিজের কাছে থাকা 'মই' নিচে নামিয়ে ব্যাক্তিকে উদ্ধার করছেন না।  
জামায়াতের ফাঁসির কাষ্টে ঝোলা কোন নেতাকেই ফাসিঁর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারকেউ অনেকটা বিচলিত দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে টেলিভিশনে বলতে দেখা গেছে- জামায়াতের নেতাদের দোষ শ্বিকার না করা এবং প্রাণ ভিক্ষা না চাওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যত প্রজন্মের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। ফলে পরবর্তীতে জামায়াত এথ্থেকে ক্রেডিট আদায় করবে। তবে মূল কথা হচ্ছে, সরকারকে এতো ঘাবরানোর কোন কারন আছে বলে মনে হয়না। কারন জামায়াতের বর্তমান নেতারা বন্দী নেতাদের কাছে পরিস্কার ভাষায় বলেছে, তারা যদি ক্ষমা চান এবং দোষ শ্বিকার করেন তাহলে জামায়াতের প্রতি মানুষের সিমপ্যাথি কমে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে জামায়াত আগাগোড়াই যুদ্ধাপরাধীদের দল। এতে করে বর্তমান নেতারা পরবর্তীতে ক্ষমতার মসনদে আসিন হতে পারবেনা। তাই বর্তমানরা বন্দীদের পরিস্কার হুমকি দিয়েছেন- যদি বন্দী নেতারা ক্ষমা চান বা দোষ শ্বিকার করেন তাহলে তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবারের প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা খরচের কোন দায়ভার গ্রহণ করবেন না। তাই অগত্যে তারা সেটাই করতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিস্কার হয়েছে- যখন মৃত্যুর হাত থেকে শত চেষ্টার পরও বাঁচতে পারলো না তখন তারা শহীদি মৃত্যুর সান্তনা নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে।