Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Wed November 21 2018 ,

  • Advertisement

দু:খিত বিএনপি, ক্যাচ মিস ত ম্যাচ মিস!

Published:2016-12-25 18:08:57    
দু:খিত বিএনপি, ক্যাচ মিস ত ম্যাচ মিস!

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F525%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে দলের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনের ভোটের বড় ব্যবধানের নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখবে বিএনপি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতানুগতিক মুখস্থ বক্তব্যে বলেছেন, দৃশ্যত নির্বাচনটা ফেয়ার হলেও ফলটা হয়েছে আনফেয়ার। 

নির্বাচনের পরেরদিন শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের কাছে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের মূল্যায়ন তুলে ধরে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি একান্তই কৌশলী বক্তব্য দিতে গিয়ে বললেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'এরশাদ মিডিয়া ক্যু করছেন।' আমি উনার সুরেই বলতে চাই, এ ফলটাও মিডিয়া ক্যু। নাসিক নির্বাচনের ফলটা কীভাবে তৈরি হলো, কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম প্রচার ও প্রকাশ করল- আমাকে সেই আলামতই খুঁজতে হবে। যেহেতু জবাবদিহিতার ব্যাপার আছে, তাই এটা বের করা এখন আমার দায়িত্ব।' এ বিষয়ে সাধাররণের প্রশ্ন থেকে যায় গয়েশ্বরদের দলীয় সোর্সের মাধ্যমে সংগৃহিত ফলাফলের সাথে মিডিয়ায় প্রকাশিত ফলাফলের কোন কোন জায়গায় পার্থক্য তিনি খুজে পান?

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফল মানছেন কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, ‘ওই যে বলে না, ফুল ফুটুক বা না-ই ফুটুক আজ বসন্ত। আমরা মানি বা না মানি আইভী মেয়র।’ এমন কথার আশ্রয় নিচ্ছেন তিনি, তবে তাদের প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে অন্যকোন দুর্বলতা দলীয় ও জোটগতভাবে আছে কিনা সেসব বিষয়ে তিনি কোন কথাই বলেনি। 

সাংবাদিকদের স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে সাংগঠনিক দুর্বলতা সকল দলেই থাকে। সেটা আমাদের নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না। কারণ কেন্দ্রীয় নেতারা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থী এগিয়ে ছিল। 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি কেন হেরেছে সেটি পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ না ছাড়ার কারণেই বিএনপির পরাজয় হয়েছে।’ যদি নাসিমের এমন বক্তব্য মুখস্থ বলা না যায় তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, বর্তমান সরকারের আমলেই বেশকিছু নির্বাচনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করতে দেখা গেছে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই তারা এককভাবে জয়লাভ করেছে? গয়েশ্বর ও নাসিমদের এমন গাছাড়া বক্তব্য যে নিছক রাজনৈতিক তা পরিস্কার বোঝা যায়। 

তবে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৮০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যাবধানে কেন হেরে গেল ২০দলের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান, নেপথ্যে এর বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

ভোটররা মনে করেছেন, সাখাওয়াত বিএনপির প্রার্থী। তিনি বিজয়ী হলে উন্নয়ন বঞ্চিত হবে নারায়ণগঞ্জ। কারণ তখন সাখাওয়াতের পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করা অসম্ভব। তিনি পাস করলে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন কাউন্সিলররা। এলাকার উন্নয়নে বাধা পাবেন তারা।

এদিকে বিদেশি দাতাসংস্থাগুলোর সঙ্গে আইভীর সম্পর্ক আগে থেকেই ভালো। এর ফলে অনেক অনুদান ও প্রকল্প অনুমোদনও হয়েছে নারায়ণগঞ্জের জন্য। কিন্তু আইভী না থাকলে এসব প্রকল্প থমকে যেতে পারে বলেই অনেকের ধারণা। তাছাড়া আইভী পরাজিত হলে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানদের একক কর্তৃত্ব চলে আসবে বলেই মনে করেছেন সাধারণ ভোটার।

জানা গেছে, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধানের শীষ স্লোগান দিলেও অনেকেই আইভীকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, এটি নির্বাচনে মাধ্যমে সরকার বদল কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না। তাই দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ অনেক বেশি কাজ করেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পরিবহনে আগুনসহ নানা ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটে। এতে করে বিএনপির জনপ্রিয়তাও ভাটা পড়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপ তৈরি করে বিভক্তি সৃষ্টি করেছিলেন সাখাওয়াতরা। তা প্রকাশও পেয়েছে নির্বাচনী প্রাচরণায়।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে আলোচিত ৭ খুন মামলার একজন আইনজীবী হিসেবেই জানে সবাই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এটুকুই তার পরিচয়। সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি এ জেলার বাসিন্দাও নন, অন্য জেলা থেকে কয়েক বছর আগে এসেছেন। ভাড়াটে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির হয়ে ভোটে নেমেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের কোথায় খাল আছে, কোথায় নদী আছে, তার কিছুই জানেন না বলেও প্রচার হয়। ভোটাররা এ বিষয় গুলোও বিবেচনা করছেন। তাই বিএনপির হাইকমান্ড প্রার্থী বাছাই-এ ভূল করেছেন বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। 

প্রার্থী বাছাইয়ের মতো ভূল করে রাজনৈতিভাবে বিএনপি হাজারো ভূলের পুনারাবৃত্তি আরোও কত ঘটাবেন তাও এখন জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। ফলে ইলেকশন ম্যাকানিজ বলে বিএনপির রাজনৈতিক হাজারো ব্যার্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার সমাপ্তি আদৌও ঘটবে কিনা তাও আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে নাসিক নির্বাচনের ফলাফল থেকে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের মতো ভূল ক্রিকেট ম্যাচে ক্যাচ মিসের মতোই ব্যার্থতা ডেকে এনেছে।