Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস বিকৃতি

Published:2017-03-20 10:28:06    
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস বিকৃতি

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F530%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

স্বাধীনতা সকল জাতি-রাষ্ট্রের জন্যই এক মহান অর্জন। এক রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে সেই আরাধ্য স্বাধীকার অর্জন আমরা করেছি। আমাদের স্বাধীনতা বেশ উচ্চমূল্যেই কেনা এতে কোন সন্দেহ নেই।  আর এ মহান অর্জন কোন জাতি বা বিশেষগোষ্ঠির অর্জন নয় বরং এটি আমাদের জাতীয় অর্জন। কিন্তু আমরা এমন এক দুর্ভাগা জাতি যে, এত উচ্চমূল্যে কেনা এই স্বাধীনতাকে আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। বিষয়টা কবি ঈশ্বর গুপ্তের কবিতার অংশ ‘চাষায় মানিক পেলে...’ কিছুটা এমনই ক্লেশযুক্তই শোনায়। মূলত আমাদের  স্বাধীনতার সুফলও আমাদের কাছে অনেকটাই অধরা। এমনকি আমাদের কাছে মু্িক্তযুদ্ধের ইতিহাসটাও নিরাপদ থাকেনি। আর এসবকে আত্মপ্রবঞ্চনা বলতে হবে। 
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যার যতটুকু অবদান রয়েছে হীন্যমনতার কারণে সে স্বীকৃতিটুকুও দিতে পারিনি। এমন কি মুক্তি সংগ্রামে অসীম বীরত্ব ও রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারাও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। এদের কাউকে কাউকে আবার স্বাধীনতাবিরোধীও আখ্যা দেয়া হচ্ছে। বিদেশীদের চর বলতেও কুন্ঠাবোধ করা হচ্ছে না। যারা এদেরকে খেতাব দিয়েছেন তারাই আবার খেতাব কেড়ে নেয়ার কথাও বলছেন। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এমন রাষ্ট্রীয় বালখিল্যতা আর যাই হোক দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না বরং তা আত্মঘাতিই বলতে হবে। 
যারা যখন ক্ষমতায় এসেছেন তখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজেদের অনুকুলে করে নিয়েছেন। ভাবটা এরকম যে, সবকিছুই তারা করেছেন। তারা নিজেরাই শুধু করিৎকর্মা। অন্যরা একেবারে গোবর্ধন। তাই সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নাট্যরূপ দেয়া হয়েছে। আর সকল ক্ষমতাসীনরা সব সময়েই নাট্যশালার কুশীলবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এসব শ্রেণি ও মহল  বিশেষের জন্য মনোরঞ্জিকা হলেও বাস্তবতাটা অনেকটা উপেক্ষিতই থেকেছে। আর এজন্য আমাদের দেশের নেতিবাচক রাজনীতি, সংকীর্ণ দলীয় মনেবৃত্তি ও রাজনৈতিক চাঁইরাই দায়ি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের আপাত কোন পথ দেখা যাচ্ছে না। আগামীতে কী হবে তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে। তবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুব একটা থাকছে না।
এতদিন এসব কথা মেঠো পর্যায়ে থাকলেও এখন তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বীকৃতি মিলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তিনি গত ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘এতো ইতিহাস বিকৃতি পৃথিবীর কোনো দেশে আর নেই’। মূলত প্রধানমন্ত্রী একথায় বলতে চেয়েছেন যে, আমাদের দেশে ইতিহাস যেভাবে বিকৃত করা হয়, অন্য কোন দেশে এমন নজীর নেই। আমাদের মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিলম্বে হলেও বাস্তবতাটা উপলদ্ধি করতে পেরেছেন। তার এই বিলম্বিত উপলব্ধির জন্য সাধুবাদ জানানো ছাড়া কোন উপায় আছে বলে মনে হয় না।  মূলত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন অনুযোগের পর বিষয়টির একটি যৌক্তিক ও সর্বজনগ্রাহ্য সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ঘাড়েই চেপেছে। কারণ, এই ইতিহাস বিকৃতি রোধ করা ক্ষমতাহীনদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। দায়িত্বটা পুরোপুরি ক্ষমতাবানদেরই। অধ্যাপক গ্রেজিয়া ( অষভৎবফ ফব এৎধুরধ ) সত্যই বলেছেন, ( চড়বিৎ রং ঃযব ধনরষরঃু ঃড় সধশব ফবপরংরড়হ রহভষঁবহপরহম ঃযব নবযধারড়ৎ ড়ভ সধহ.) অর্থাৎ ‘মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করার দক্ষতাই ক্ষমতা’। তাই দায়িত্বটা রাষ্ট্র কোন ভাবেই এড়াতে পারে না।
মূলত এই ইতিহাস বিকৃতির বোঝাটা ক্ষমতাসীনদেরকেই ঘাড় থেকে নামাতে হবে। জাতিকে ইতিহাস বিকৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু বিষয়টি সরকার শুধুমাত্র গালমন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বরং একতফরা ইতিহাস বিকৃতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দোষ চাপানো হচ্ছে। কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে যে, ক্ষমতার বাইরে থেকে কখনো ইতিহাস বিকৃত করা যায় না। ইতিহাস বিকৃত হয় ক্ষমতাসীনদের মাধ্যমেই। আবার সংরক্ষণের দায়িত্বও তাদের। আর ক্ষমতাহীনদের বক্তব্য শুধুই মেঠো বৈ কিছু নয়। আর একথা উপলব্ধির মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ।
আমাদের দেশের মু্িক্তযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বাজারে অনেক খুচরো কথা চালু আছে। আছে অনেক কিংবদন্তীও।  আর এইসব মেঠো কথাগুলো কোন ইতিহাস নয় বা আমলযোগ্য কোন বিষয়ও নয়। রাষ্ট্র যা ইতিহাস আকারে লিপিবদ্ধ করে সেটিকেই ইতিহাস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে মেঠো কথাগুলোকে আমলে নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়ে থাকে। গত বছর একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর তিনি সরকারি দলের তোপের মুখে পড়েন। সরকারি মহল থেকে তাকে নানাভাবে গালমন্দও করা হয়। এমনকি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা পর্যন্ত দেয়া হয়। যা মোটেই কাঙ্খিত ছিল না।
মূলত মু্িক্তযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যাটা কোন ঐশীর মাধ্যমে নির্ণিত সংখ্যা নয় যে তার কোন কমবেশী করা যাবে না। আর এতে শহীদ বা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের বিষয়টিও আসে না। এমনকি তা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাও নয়। মূলত ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যাটা গড় হিসাব বা অনুমান নির্ভর হিসাবেই মনে করা যেতে পারে। তাই মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যাটা নিয়ে বিতর্কটা তো থেকেই যাচ্ছে। মূলত স্বাধীনতার চার দশক অতিক্রান্ত হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা যেমন  নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, ঠিক তেমনিভাবে শহীদেরও শুমারী করা যায়নি। তাই ৩০ লাখ শহীদের আগে ‘প্রায়’ কথাটা প্রতিস্থাপন করাটাই বোধহয় অধিক যুক্তিযুক্ত। 
একেবারে কাঁটায় কাঁটায় ৩০ লাখ বলাটা যুক্তির মানদন্ডে কিছুটা হলেও দুর্বল বা সঠিকও নয়। এর কিছু কমবেশী অবশ্যই হতে পারে। বাস্তবতাটাও হয়তো তাই। আর শহীদের সংখ্যা কিছু কমবেশী বললেই যে রাষ্ট্রদ্রোহ হবে এমনটাও বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। কারণ, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মধ্যে যেসব উপাদান থাকা দরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বিভ্রাট বা বিকৃতকরণ তার ধারের কাছেও নেই। কারণ, দন্ডবিধির ১২১ ধারায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা বা যুদ্ধ ঘোষণায় সহায়তা করাকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।  
একই বিষয়ের যেমন বহুবিধ ব্যাখ্যা হতে পারে ঠিক, তেমনিভাবে একই ঘটনার বর্ণনাও ভিন্নতরও হয়। যার ইন্দ্রিয় যেভাবে অনুধাবন করেছে তিনি সেভাবেই ঘটনার বিবরণ দেবেন এটিই স্বাভাবিক। আর মতান্তরও একটি সর্বজনস্বীকৃত অনুসঙ্গ। মূলত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা সবসময় নির্ভূলও হয় না। এ ক্ষেত্রে ক্রিকেট খেলার কথা বলা যেতে পারে। ফিল্ড আম্পায়ার ইন্দ্রিয়ানুভূতি দিয়েই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। কিন্তু সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিউ করার পর তা অনেক সময় তা ভুল প্রমাণিত হয়। আর এ ভুলকে মানবীয় ভুল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এ জন্য কোন কগনিজেন্স নেয়া হয় না বা তাকে শাস্তির মুখোমুখো করা হয় না। আবার রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তষ্টি থাকে। আর থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ তো মানুষই করেন। তাই মানুষের কোন কাজকেই নির্ভুল মনে করার কোন কারণ থাকতে পারে না। যারা নিজেদের কাজকে ভুলত্রুটির উর্দ্ধে মনে করেন তা আর যাইহোক মানব নন। বড়জোর অতিমানব হতে পারেন।
যাহোক দেশের একজন শীর্ষ রাজনীতিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এটাকে স্বাভাবিক বা মতান্তর হিসাবে মনে করায় অধিক যুক্তযুক্ত ছিল বলেই মনে হয়। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের বিষয়টি অনেকটাই সংকোচিত হয়ে এসেছে। সরকার বিরোধীতা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। কারো বক্তব্য সরকারের মনোপুত না হলেও তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দেয়ার একটা অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে সম্প্রতি। সে ধারাবাহিকতায় একজন দলীয় প্রধানের  বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়েছে।  তার বক্তব্যের মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ আছে কি না তা বিচারাধীন। মহামান্য আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু এসব মেঠো কথার উপর ভিত্তি করে যদি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয় তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আর কোন অবশিষ্ট থাকে না। বরং এমন রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক বলায় অধিক যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হয়।
শহীদের সংখ্যা বিষয়ক মন্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও রাষ্ট্রদ্রোহ আখ্যা দিয়ে সরকার ঘরানায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির শাস্তির বিধান করে আইনের প্রণয়নের দাবি ওঠে।  মূলত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক প্রথম এই ধরনের একটি আইন প্রণয়নের কথা বলেন। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধে আইনের খসড়াও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জ্ঞাত হওয়া গেছে। এই আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা রাখার দাবিও তুলেছে  সরকার সংশ্লিষ্টরা, যাতে আইন প্রণয়নের আগের ঘটনার বিচারও করা যায়। কিন্তু একথা মনে রাখা দরকার যে, আইন প্রণয়নের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। আর যদি তা না হয় তাহলে যেকোন আইনই জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে পরিণত হতে বাধ্য। হয়তো কালের বিবর্তনে আইন প্রণেতারাও এই আইনের ভিকটিম হতে পারেন। আর এমন নজীর আমাদের দেশে একেবারে বিরল নয়। 
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন দেশের স্বাধীনতা কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের অর্জন নয়। বরং তা জাতীয় অর্জন হিসাবে বিবেচিত হয়। রাজনীতি ভিন্নমত সবদেশেই আছে; আর থাকবেও। আমরা এ থেকে মোটেই আলাদা নই। আর এই মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সমাজ ও সভ্যতার অলঙ্কার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মূলত এসব গণতন্ত্রেরই সৌন্দর্য। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটটা সম্পূর্ণ আলাদা। সংবিধান অনুযায়ি আমাদের দেশ গণপ্রজাতন্ত্র। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে। সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দ ইধহমষধফবংয রং ধ ঁহরঃধৎু, রহফবঢ়বহফবহঃ, ংড়াবৎবরমহ জবঢ়ঁনষরপ ঃড় নব শহড়হি ধং ঃযব চবড়ঢ়ষব জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয.’ অর্থাৎ বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা ‘ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হইবে। 
মূলত আমাদের দেশের ইতিহাস বিকৃতির বিষয়টি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাদিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটছে অহরহ। যা দেশের সচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। আর এই বিকৃতির লাগামটা যদি এখনই টেনে ধরা না যায় তাহলে আমরা একসময় আত্মপরিচয়হীন জাতিতে পরিণত হবো এতে খুব একটা সন্দেহ করার সুযোগ নেই। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত একুশে বই মেলায় ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশী। যা ইতিবাচকই বলতে হবে। তবে দলীয় গন্ডি থেকে বের হতে না পারায় বেশীরভাগ লেখকের কাছ থেকে সত্য ইতিহাস গ্রন্থ পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন প্রকাশক, লেখক ও পাঠকরা। ইতিহাস বিকৃতকে তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হুমকি হিসেবেও দেখছেন।
বই মেলায় ইতিহাসভিত্তিক বই যেগুলো বের হয়েছে সেগুলোর বেশীর ভাগই লেখক রাজনৈতিক দলের নেতা বা সমর্থনকারী। এই বইগুলোর কাটতি বেশী হলেও মূলত নেতার মান ও মন রক্ষার জন্যই সিংহ ভাগ বই কিনছে দলীয় সমর্থকরা । কিন্তু এই বইগুলো কতটুকু সত্যনির্ভর তাতে প্রশ্ন রয়েছে পাঠকদের। অভিজ্ঞমহলের মতে, ‘যে যে দল সমর্থন করে তারা সেই প্রেক্ষাপটে বই লেখে’। তারা আরও বলেন ইতিহাস একপেশে লেখার কোন ব্যাপার না। স্বাধীনতার চার দশক পরেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখায় রয়েছে ভিন্নতা। ভবিষ্যত প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলন নিয়ে ইতিহাস কিভাবে জানবে বা কতটুক জানবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক, গবেষক ও প্রকাশক।
মূলত লেখকদের  সঠিক  ইতিহাসই পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। অন্য কিছু লিখলে তা সঠিক হবে না। আসলে মৌলিক যে গবেষণা দরকার ইতিহাসের ক্ষেত্রে বা বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রে সেই গবেষণাটা হচ্ছে না। প্রকাশকরা বলছেন, এখন যদি সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা না যায় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। লেখকরা যে দলকেই সমর্থন করুক না কেন লেখার ক্ষেত্রে দলকে সমর্থন পরিহার করতে হবে বলে মনে করেন পাঠক ও প্রকাশকরা।
সরকার বিরোধীরা বলছেন, সরকার উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করছে। যেখানে ইতিহাস বিকৃত হয় সেখানে সত্যিকারের ইতিহাস জানা কঠিন। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। যার প্রমাণ, বর্তমানে দেশে চারিদিকে চরম অবস্থা বিরাজ করছে। দেশে বিনিয়োগ নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয়। জনগণ ভোটাধিকার হারিয়েছে। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না।’
মূলত সরকার ও বিরোধী পক্ষ একে অপরের উপর ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলছেন। আমাদের মনে হয় কোন পক্ষই এই বিকৃতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকরণ ও এ নিয়ে ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি এক শ্রেণির রাজনীতিকদের রীতিমত মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। যদি তা না-ই হবে তাহলে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতার মু্িক্তযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করবেন কেন ? আর এতে তার বা তার দলের লাভটাই বা কী ? কথাটা কী ‘ধান ভানতে শীবের গীত’ এর মত শোনায় না ? আর সরকারও বিষয়টি নিয়ে অতিপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মেঠো কথার জবাব মেঠোভাবে দেয়ায় অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু সরকার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে নিজেদের অসহায়ত্বই জাতির কাছে প্রমাণ করেছেন। যা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান মোটেই বৃদ্ধি করেনি। 
ইতিহাসকে ইতিহাসের ধারায় চলতে দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, আমরা ইতিহাসকে নিজস্ব কক্ষপথে চলতে না দিয়ে সংকীর্ণ বৃত্তে আটকে ফেলেছি। ইতিহাস নির্ণিত হচ্ছে শ্রেণি ও মহল বিশেষের খেয়াল-খুশী মত। তাই মুক্তিযুদ্ধে কোন অবদান না রেখেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পাচ্ছেন। অপরদিকে ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ  খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারাও অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি এমন কথাও বলা হয়েছে যে, যারা বিশেষ প্রতীকে ভোট দেবে না তারা নাকি মু্িক্তযোদ্ধা নয়। মূলত বিষয়টি ‘লোম বাছতে কম্বল উজার’ হওয়ার মতই শোনায়। কারণ, বিশেষ কোন দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে যদি ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধা নির্ণিত হয় তাহলে আগামীতে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে বলে মনে হয় না। আর একথা আমরা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবো ততই মঙ্গল।