Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

‘আজ নিলে দুই হাজার, ফ্রি পাবেন তবে ১৫দিন সময় লাগবে

Published:2017-04-04 14:38:26    
‘আজ নিলে দুই হাজার, ফ্রি পাবেন তবে ১৫দিন সময় লাগবে

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F532%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

‘ড্রাইভিং লাইসেন্স সত্যায়িত করতে কাউন্টারে সরকারী ফি জমা দেন, আবেদনপত্র লিখে দুই কপি করে আমাকে দেন। যদি আজই সত্যায়িত করতে চান তাহলে দ্ইু হাজার টাকা লাগবে আর যদি টাকা না দেন অফিসে জমা দিয়ে যান ১৫দিন পর এসে নিয়ে যাবেন।’ মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স সত্যায়িত করতে গেলে এমন কথা বলেন সেখানকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী। 
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিআরটিএ থেকে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স সত্যায়িত করতে চাইলে সহকারী পরিচালক, বিআরটিএ বরাবর একটি আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে সরকার নির্ধারিত ফি বাবদ ১৩৮ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে জমা সিলিপ সংযুক্ত করে লাইসেন্স এর দুই কপি ফটোকপি যুক্ত করে জমা দিলে এক কপি রিসিভ করে ফেরত দেন অপর কপি। ফেরত পাওয়া কপি পরেরদিন নিয়ে গেলে সত্যায়িত কপি প্রদান করেন কতৃপক্ষ। কিন্তু সেখানে স্বাভাবিক সময়ে তারা ডেলিভেরি না দিয়ে সাধারণ মানুষের বিরম্বনার সৃষ্টি করছে। যেখানে একদিন সময় লাগার কথা সেখানে সময় লাগছে প্রায় ১৫দিন বা তারও বেশি। বিআরটিএ অফিসে দালালদের মাধ্যমে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগসাজস করে ঐ কাজ মাত্র এক ঘন্টায় করে দেবার কথা বলে সরকারী ফিস ছাড়াই প্রতি লাইসেন্স এ দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন এভাবে বিভিন্ন ধরনের কাজ নিয়ে গড়ে প্রায় তিন থেকে চারশ’রও বেশি লোক সেখানে হাজির হয়। লাইসেন্স নবায়ণ, নতুন লাইসেন্স তৈরি, ফিটনেস গ্রহণ, গাড়ীর নতুন নাম্বার নেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের জরুরি কাজে মানুষ সেখানে অনেকটা হুমরি খেয়ে পড়ছে। সেখানে যেতেই চার-পাঁচজন লোক দৌড়ে এসে আগত ব্যাক্তিকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসা করেন কার কি সমস্যা, কি জন্যে এসেছেন তিনি, ফিটনেস নাকি নতুন নাম্বার এভাবে নানা প্রশ্ন। শুরুতে যেকেউ হতভম্ব হয়ে যাবে। সে যদি বুঝে উঠতে না পারেন তাহলে পরে যাবেন দালালদের খপ্পরে। কোন রকমে যদি কিছু টাকা তার পকেট থেকে খুলতে পারেন তাহলে তাকে নিয়ে আর কোন টেনশন নাই লালালের। শুরু হয়ে যাবে তার উপর আর্থিক ও মানষিক নির্যাতন।
যদি কেউ দালালদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে সঠিক পদ্ধতি মেনে সেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে চায় তাহলে সেখানেও বিরম্বনার শেষ নেই। একটা কাউন্টারের মাঝে মোট ৫টি চেয়ার। দুইজন বসে আছেন, তিনটি চেয়ার খালি। জিজ্ঞাসা করলে বলা হয়- ‘তারা জরুরি কাজে বাহিরে গেছেন।’ বিরাট লাইনে দাঁড়িয়ে লম্বা সময় অপেক্ষা শেষে কোন রকমে কাউন্টারের ভিতরে ভদ্রলোককে সংশ্লিষ্ট কাজের কথা কয়েকবার উচ্চস্বরে তাকে জিজ্ঞাসা করার পর একবার তিনি বলে দিলেন- ‘পার্শের টেবিলে যান।’ ব্যাস এরই মাঝে ঘন্টা খানেক চলে গেল। এবার পার্শের টেবিলে খেয়াল করলে দেখা যায় সেখানে কোন লোক নাই। খালি চেয়ার-টেবিল। 
এবার আধাঘন্টা অপেক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট ভদ্রলোকের আগমণ ঘঠতেই তাকে ঘিরে সব মানুষ হুমরি খেয়ে পরলো। সেখানেও লম্বা লাইন শেষে তাকে পাওয়ার পর আপাতত আবেদন হয়তো জমা দেয়া গেলো। কতদিন সময় লাগবে এমন কথা বলতেই তিনি বললেন- ‘পরে খোজ নেন।’ এভাবে অনবরত বিরম্বনা পোহাতে হচ্ছে সেখানে বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসা সাধারণ মানুষকে। অথচ এই সত্যায়িত করার কাজ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দালালদের মাধ্যমে করতে মাত্র এক ঘন্টা সময় লাগছে। তবে গুনতে হচ্ছে ঘুষ বাবদ দুই হাজার টাকা! এভাবে হাজার হাজার টাকা ঘুষ বাবদ গুনতে হচ্ছে বিআরটিএ তে আসা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষদের। 
কিছুদিন আগেই সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও আশঙ্কা করে বলেন- ‘জনগণ বিআরটিএ অফিসে গেলে দালালরাই বলে দেয় কার কাজ কখন হবে। কার ডিজিটাল প্লেট নম্বর কখন লাগানো হবে। বিআরটিএ’র ৬০শতাংশ এখন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আছে। বাকি ৪০ শতাংশ কতিপয় কর্মকর্তা ও দালালরা নিয়ন্ত্রণ করছে।’ বিভিন্ন সময় মন্ত্রী নিজেকেও বিআরটিএ এর বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে অভিযান চালাতেও দেখা গেছে। দালালদের গ্রেফতার করে কান ধরে উঠাবসা করাতেও দেখা গেছে। গ্রেফতারও হয়েছে বেশকিছু দালাল। কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত হতেও দেখা গেছে। কিন্তু সরকারের এমন নানা পদক্ষেপেও যদি বিআরটিএ থেকে দালাল ও অসাধু কর্মকতা-কর্মচারীর অপসারণ না হয় তাহলে কোন পথ বেছে নেবে সাধারণ মানুষ? এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থায়ী পদক্ষেপ সরকারকেই নিতে হবে।