Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri April 26 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

জাতিসঙ্ঘের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ

Published:2017-11-01 19:08:20    
জাতিসঙ্ঘের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F545%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞ দেখে শিউরে ওঠেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু তাতে বিশ্ববিবেকে কতটুকু নাড়া লেগেছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কোনো কোনো দেশ ত্রাণ ও মানবিক সহায়তায় হাত বাড়ালেও তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। বেশির ভাগ রাষ্ট্রই এ বর্বরতা দেখে ‘আহা’, ‘উহু’ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কেউ বা আরো একটু এগিয়ে এসে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্তই যেন দায়িত্ব শেষ। অব্যাহত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যেন এ পৃথিবীতে জন্মলাভ করেই সবচেয়ে বড় অন্যায়টি করেছে। তাই তাদের অধিকার আদায়ে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসার কেউ নেই।


বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই নাকি জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কথিত বিশ্বনেতারা যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লিগ অব নেশন্স গঠন করেছিলেন। সংঘর্ষ ও উত্তেজনা রোধে সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই ইতিহাস থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সব ভয়াবহতা হার মানিয়ে যায়। বিশ্বনেতারা এখানেও সুযোগ গ্রহণের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। মূলত এরা ছিল একদল সাম্রাজ্যবাদী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে বিজয়ী মিত্রশক্তি পরবর্তীকালে যুদ্ধ ও সঙ্ঘাত প্রতিরোধ করার কারণ দেখিয়ে এই জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়। বলা যায় লিগ অব নেশন্সের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসঙ্ঘ। দেখে নেয়া যাক কী কী উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্বসংস্থা।


জাতিসঙ্ঘের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছেÑ ১. বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা রা করা, ২. পৃথিবীর স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, ৩. মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যাবলি নিরসনের দ্বারা সৃষ্ট বাধ্যবাধকতার প্রতি সুবিচার ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং জাতিসঙ্ঘকে রাষ্ট্রগুলোর ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা।


জাতিসঙ্ঘ কি তার এই উদ্দেশ্য তিনটির আশপাশেও দাঁড়িয়ে আছে? নাকি প্রতিনিয়ত সরে যাচ্ছে যোজন যোজন দূরত্বে? বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘের কোনো অর্জন নেই তা বলা ভুল। কিন্তু লক্ষ্যের যে ধারেকাছেও যেতে পারেনি, তা বলার জন্য খুব বড় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। ৭০ বছরের ইতিহাসে জাতিসঙ্ঘের সফলতা হাতেগোনা। অধিকন্তু যে শান্তি ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এর প্রতিষ্ঠা, তা দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে স্বয়ং জাতিসঙ্ঘেরই গঠিত নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। জাতিসঙ্ঘের সাংগঠনিক কাঠামো মোট ছয়টি সংস্থায় বিভক্ত। এর সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ সংস্থা হলো নিরাপত্তা পরিষদ। এর সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত অংশ হলো নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যগুলো।

তারা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তিÑ চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসঙ্ঘ গঠিত হওয়ার পর সারা বিশ্বে এরাই সবচেয়ে বেশি শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত করেছে। এমনকি কোনো কোনো েেত্র এরা খোদ জাতিসঙ্ঘকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেছে অনেক জনপদ, যার বলি হয়েছে অনেক মুসলিম জাতি ও রাষ্ট্র।

বলা হয়ে থাকে, জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে যেসব দেশ স্বাধীন হয়েছে, তার বেশির ভাগই খ্রিষ্টানপ্রধান এলাকা। উদাহরণস্বরূপ পূর্ব তিমুর কিংবা দণি সুদানের কথা বলা যায়। কিন্তু বিপরীত চিত্র যদি বলি, তাহলে ফিলিস্তিন, কাশ্মির আর আরাকানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে, যারা যুগ যুগ ধরে নিজভূমে পরবাসী হয়ে আছে। কসোভো ও বসনিয়া যুদ্ধ বন্ধের েেত্র জাতিসঙ্ঘ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সভ্যতার এ চরম উৎকর্ষের যুগেও মুসলমানদের সাথে ইতিহাসের নৃশংসতম আচরণ করা হচ্ছে।

কিন্তু এ েেত্র জাতিসঙ্ঘের দিকে তাকালে তাকে নখদন্তহীন বলেই মনে হয়। জাতিসঙ্ঘ মূলত অনেকটাই বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো মতার যথেচ্ছ ব্যবহার, জাতিসঙ্ঘ সনদের তোয়াক্কা না করা এবং সাধারণ পরিষদকে বিশেষ কিছু েেত্র এড়িয়ে চলার মানসিকতার কারণে জাতিসঙ্ঘ কোনো কার্যকর পদপে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরাক ও আফগানিস্তানে একতরফা মার্কিন হামলায় জাতিসঙ্ঘ নীরব দর্শকের ভূমিকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা ও ন্যাটোর মতো সামরিক সংগঠন জাতিসঙ্ঘের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব সৃষ্টি করেছে, যা এর স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো যদি স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাওয়ার অবারিত সুযোগ পেতেই থাকে, তবে কী প্রয়োজন আছে এমন অকার্যকর বিশ্বসংস্থার?


মিয়ানমারের আরাকানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর আবারো উগ্রবাদী বৌদ্ধদের উদ্যোগে জাতিগত নিধন চালানোর পর জাতিসঙ্ঘ সরব ভূমিকা পালনের অভিনয় করেছে। নিরীহ ভঙ্গিতে নিন্দা জানানো থেকে শুরু করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া অসহায় শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণতৎপরতার মাধ্যমে ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের এ উদ্যোগকে প্রশংসা করে যেতেই পারে। কিন্তু মিয়ানমারকে এ বর্বরতা বন্ধ করতে বাধ্য করার কথা যদি বলা হয়, সেেেত্র জাতিসঙ্ঘের অর্জন নেই বললেই চলে।

রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো বর্বরতম ধ্বংসযজ্ঞকে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো যেসব রাষ্ট্র উসকানি দিয়ে যাচ্ছে তাদেরও নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসঙ্ঘ। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর অভিভাবকের আসনে আসীন হওয়ার জন্য যে সাহস ও যোগ্যতা প্রয়োজন, তা জাতিসঙ্ঘের নেই।

বরং পরোভাবে এই জাতিসঙ্ঘই অনেক দেশ থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করে শরণার্থী হতে বাধ্য করেছে। এর সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ার মুসলিম জনগণ। বিশ্বের দুই পরাশক্তির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এ সমৃদ্ধ দেশগুলোর জনগণ আজ ভিখারি হওয়ার যোগ্যতাও হারিয়েছে। অথচ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্যই নাকি এ জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল!


মূলত আমেরিকা পরিচালিত জাতিসঙ্ঘ দিয়ে বিশ্বে কতটুকু শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, তা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট। পরাশক্তিগুলোর মতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার বলি হয়ে দেশে দেশে মানবতা ও মানবাধিকারের যে দুর্ভি পরিলতি হচ্ছে, তা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য আশুসমাধানের পথে চলা প্রয়োজন। আর এ জন্য জাতিসঙ্ঘকে প্রত্যাশিত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, অন্যথায় মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর বোধোদয় হতে হবে। মানবতা, মানবাধিকার আর শান্তির কথা বলে অশান্তি সৃষ্টির ক্রীড়নকদের হাতিয়ার হিসেবেই যদি জাতিসঙ্ঘ কাজ করে, তাহলে প্রয়োজন নেই এই সঙ্ঘের।

আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদেরকেই নতুন করে ভাবতে হবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান যথার্থই বলেছেন- The world is bigger than five. অর্থাৎ বিশ্ব পাঁচের চেয়ে বড়। পাঁচ পরাশক্তির দাবার গুটি হয়ে বেঘোরে প্রাণ দেয়ার মানে হয় না। লিগ অব নেশনসের মতোই নখদন্তহীন জাতিসঙ্ঘের পরিণতি হোক তা কেউ চায় না। জাতিসঙ্ঘ ঘুরে দাঁড়াক মানবতা আর শান্তির রক হয়ে।


ই-মেইল : moynkhaniu@gmail.com