Widget by:Baiozid khan

রোহিঙ্গা ইস্যু: জাতিসংঘে সমাধান চাইবে বাংলাদেশ

Published:    
Image

মোঃ কামরুজ্জামানঃ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি নবনিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান শিনজি কুবোর ঢাকা সফরের সময় এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই সহযোগিতা চান। বৈঠকে উপস্থিত একটি সুত্র জানিয়েছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য একটি বক্তব্য প্রস্তুত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দশ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে কয়েক দশক ধরে আশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে আশা করেন মন্ত্রী। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে তার প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদ আলী।

সুত্র জানায়, যতই দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।  ইউএনএইচসিআর, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি সংস্থা মৃদুকণ্ঠে মিয়ানমারের নিষ্ঠুর নিপীড়নের ব্যাপারে উদ্বেগ জানালেও তাতে সাড়া মিলছে না। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিতেও বলছে। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর কোনো চাপ দিচ্ছে না তারা। 
দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্বের মোড়ল সব রাষ্ট্র ও সরকার নীরবতা পালন করে আসছে। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা, তাদের হত্যা, জোর করে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, বাড়িঘরে অগি্নসংযোগের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও বিশ্ববিবেক কিছুই বলছে না। এমনি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়েও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও বলতে গেলে নিশ্চুপ। তাদের কেউ কেউ দায়সারা গোছের প্রতিবাদ জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের দমন-পীড়নের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশও। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এ ব্যাপারে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট রয়েছে। 

বাংলাদেশ বিগত সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে দাবি তুললেও বিশ্বমহল ছিল নিশ্চুপ। সে জন্য আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি আবারো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে। যুগযুগ ধরে তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে কাঠখড় পোহাতে হয়েছে সামরিক সরকারের শাসনামলে। ২০১৫ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি সরকার গঠন করে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দেশটির মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দেশটিতে। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার। সুচির সরকার এখনো দেশটিতে মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্যাতন রোধে কার্যকর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দেশটির  মুসলমিরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সুচির সরকার এখনো  মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্যাতন  রোধে র্কাযকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করনি। শত শত রোহঙ্গিা মুসলিম হত্যার িশিকার হয়েছে কেবল ধর্ীয় কারণে। সবশেষ হামলায় প্রায় ৩০ হাজার গ্রামবাসীর ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হতভাগ্য এসব মুসলিম টেকনাফের দুটি এবং কুতুপালংয়রে একটি  অনিবন্ধিত  রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে এসে উঠছে।বাকি অনকেইে উঠছে কক্সবাজাররে বিভিন্ন শরর্ণাথী শিবিরে আগে থকেইে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনের কাছে।

বাংলাদশে সরকার চায় না, রোহঙ্গিারা এখানে এসে নিজেদেরে আবাস গড়ে তুলুক। কারণ বাংলাদশে এখানে রোহঙ্গিাদরে আশ্রয় দিলে মিয়ানমার সরকার খোনকার সব রোহঙ্গিাকে এখানে পুশ করার একটা সহজ সুযোগ  পাবে।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে য়িানমার ও বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ এই পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ জন্য সরকার চায় জাতিসংঘ মিয়ানমারকে আরো বেশি চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা স্থঅয়ী সমাধান করুক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, সাবেক কুটনিতিক আলি রিয়াজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন মিয়ানমারের সঙ্গে একটা সুসর্ম্পক গড়ে তোলার বিশেষ চেষ্টা করে বেশ কিছুটা সফল হয়েছেন, তখন এ ধরণের ঘটনা ঘটা সত্য সত্যই উদ্বগেজনক। এ অঞ্চলে বাংলাদশে যে শান্তির পরিকল্পনা রিয়ে এগুচ্ছে তাতে মিয়ানমারের সহযোগিতা দরকার। তাই সর্ম্পক উন্নয়নরে পথে বাধা দুর করতে বাংলাদশে চায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো এ ব্যাপারে যথষ্টে তৎপর হোক। বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা মুসলিমরা যাদে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে জাতিসংঘ এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে মিয়ানমারের সরকাররে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ও সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে রোহঙ্গিাদের ব্যাপারে স্পষ্ট সদ্ধিান্তে অগ্রসর হওয়ার। বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সহায়তায় জাতিসংগ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহঙ্গিাদের ব্যাপারে একটা সিদ্ধন্ত গ্রহণরে চেষ্টা করতে পারে।