Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 19 2018 ,

ভারতীয় পোশাকে সয়লাব সিলেটের ঈদ বাজার

Published:2013-07-27 14:00:04    


সিলেট: ভারতীয় পণ্যে সয়লাব সিলেটের ঈদ বাজার। প্রতিটি মার্কেটেই ভারতীয় পণ্যের অগ্রাধিকার। দেশীয় কাপড়ের বদলে ভারতীয় পোশাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা।

সীমান্তবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে সিলেট হয়ে উঠেছে ভারতীয় পণ্যের স্বর্গরাজ্য। অভিজাত বিপনী বিতান, শপিং সেন্টার ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে দেশীয় পোশাকের ৩০ ভাগও উপস্থিতি নেই।

সিলেটের পোশাক বাজারে দেশীয় খোদ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঈদকে সামনে রেখে বৈধ অবৈধ পথে বানের পানির মতো আসছে ভারতীয় পণ্য। ফলে ভারতীয় পণ্যের যাঁতাকলে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সকল পোশাক।

আর এর পেছনে রয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে ছোট বড় অনেক চোরাচালান চক্রের যোগসাজশ।

সূত্র জানায়, অন্যান্য বারের চেয়ে এবছর সিলেটে দ্বিগুণ হারে আসছে ভারতীয় পোশাক। সীমান্তের কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে পোশাক আমদানি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ৫০ ভাগ পোষাকই আসে সংশ্লিষ্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।

সীমান্তবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে সিলেট হয়ে উঠেছে ভারতীয় পণ্যের স্বর্গরাজ্য।

ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেই সীমান্তের চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে জোগসাজশে ওই চক্র প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কাপড় আনছে সিলেটের বাজারে।

সিলেটে এবার ভারতীয় পণ্যের আমদানি শত কোটি টাকার নীচে হবে না বলে ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা বলছেন, প্রতিদিনই ১০ কোটি টাকার উপরে পোশাক আসছে।

ভারতীয় বেশির ভাগ পণ্য অবৈধ পথে আসায় একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় পোশাকের চাহিদা দিন দিন কমছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারীর অভাব ও প্রয়োজনীয় মনিটরিং না থাকায় চোরাচালান চক্র বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

সিলেটের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় অভিনেতা অভিনেত্রী ও সিরিয়ালের নামে শাড়ি ও থ্রিপিসে ভরপুর ছোট বড় মার্কেটগুলো। বিশেষ করে ফ্যাশন হাউসগুলো ও অভিজাত বিপনি বিতানে এসবের সমাহার চোখে পড়ার মতো। ভারতীয় শাড়ীর মধ্যে টাপুরটুপুর, গোপী বৌ, বাহা, জলনপুর উল্লেখযোগ্য।

বাজারে এসবের চাহিদাও বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন চাহিদার উপরই নির্ভর করে ভারতীয় শাড়ির আধিপত্য ঘটেছে। শাড়ির দাম ৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

মেয়েদের থ্রীপিছের মধ্যে রয়েছে বিপাসা বসু, জান্নাত-টু, আশিকী-২, জিপসী প্রভৃতি। এসবের দাম ৩শ’ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

ছেলেদের রয়েছে কার্গো জিন্স, ডিসকার্ড-২ ইত্যাদি। এসবের দাম আড়াইশ’ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ছোটদের রয়েছে মাসাক্কালিসহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্রান্ডের কাপড়।

এদিকে, সিলেটে ভারতীয় পোশাকের আড়ালে অনেকটাই হারিয়ে গেছে দেশের বিখ্যাত শাড়ি ও পোশাক। ভারতীয় বাহারি ডিজাইন ও চটকদার রঙের ঠেলায় টিকতে পারছে না দেশীয় পোশাক।

এছাড়া ভারতীয় কাপড়ের দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় ক্রেতারা বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত তাঁতের শাড়ি, টাঙ্গাইলের জামদানী, রাজশাহীর সিল্কসহ দেশীয় বিখ্যাত কাপড় অনেকটাই যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে ভারতীয় পণ্যের অবাধ সয়লাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, চোরাচালানীদের তৎপরতা রুখতে সীমান্তে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা চোরাচালানীদের জনবলের তুলনায় কিছুই নয়।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় চ্যানেলের প্রভাব ভালোভাবেই পড়েছে দেশীয় পোশাকের উপর। তাদের মতে, তরুণী ও মহিলারা টিভি দেখেই বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন।

বাংলাসংবাদ২৪/এনএম
 

আরও সংবাদ