Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat September 22 2018 ,

ভোলা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে; মানুষ ঘর ছাড়া

Published:2013-07-27 14:50:53    


ভোলা প্রতিনিধি: গতকয়েক দিন ধরে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি বেড়ে ভোলা জেলায় সাত লাখেরও বেশী মানুষ ঘর ছাড়া। ঘরবাড়ী, স্কুল কলেজসহ চলাচলের সড়ক গুলোর বেহাল দশা।

একদিকে নদী ভাঙ্গন অপর দিকে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে নষ্ট করছে করছে বসত বাড়ী, পুকুরের মাছ, আবাদী ফসল। পানি বাহিত রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে লাখো লাখো মানুষ।  

জোয়ারের পানির চাপে ভোলার ৭ টি উপজেলা ও ভোলা শহর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ইলিশা, কাচিয়া, ধনিযয়া, বাপ্তা, রাজাপুর, ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া সহ ভোলা সদরের ৯টি ইউনিয়নের ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ফষলের জমি ও পুকুরের মাছ। দিনের পরদিন পানি বন্দি থাকায় পশু খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে।

এ দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে মনপুরা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে রয়েছে। এখানে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ২ লক্ষের অধিক মানুষ। দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর, মদনপুর, সৈয়দপুর, হাজিপুরসহ ৬ টি ইউনিয়নের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢাল চর,কুকড়ী মুকরি,মজিবনগরসহ চরাঞ্চলে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে  দেড় লক্ষাধিকের বেশী মানুষ মানবেতর জীবনজাপন করছেন।

প্রতিবাদে পানিবন্দি মানুষ বিক্ষোভ, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক অবরোধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসুচি পালন করেছে।
২৪ জুলাই বিকেল থেকে বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ভোলা অংশে বিদুৎ এর খুটি ও গাছ ফেলে অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

এতকিছুর পরেও বাঁধ সংস্কারে পাউবোর কোন উদ্যোগ না থাকায় আতংকিত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। বর্ষা মৌসুমের আকস্মিক এই প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারী কোন সহয়তা না পেয়ে বিপাকে পরেছেন। বন্ধ  হয়ে গেছে শিশুদের বিদ্যালযয়ে যাওয়া। পানিবন্দি মানুষগুলো শুধু খাদ্যাভাবই পোহাচ্ছেননা রাতে বিষাক্ত সাপ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমনের স্বীকার হচ্ছেন।

এদিকে দিনের পর দিন পানি বন্ধি অবস্থায় থাকায় শিশুসহ সকলে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন চিকিৎশা সেবা থাক দুরের কথা কোন ত্রানই পাচ্ছেননা বলেও দাবী করেছেন জনপ্রতিনিধিসহ ভূক্তভোগীরা।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ পানিউন্নয়ন বোর্ড এর ঢিলেমির কারণে ৩ মাস পুর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেও বর্ষা মৌসুমের আগে বেড়ীবাঁধ নির্মান না করায় শহর রক্ষাবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্ধি মানুষগুলো কবে নাগাদ এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবেন এটাই এ অঞ্চলের মানুষের জিজ্ঞাসা।


বাংলাসংবাদ২৪/এআররাজু/এনএম

আরও সংবাদ