Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

‘নবী রাসুল দাবীদার’ ফিরোজ কবীরের অজানা অনেক তথ্য

Published:2013-07-29 12:16:37    


রংপুর প্রতিনিধি: নবী রাসুল দাবীদার, নিজের মুত্যুর তারিখ ঘোষণাকারী, কোরআন হাদিসের বিকৃত অর্থ উপস্থাপনাকারী ভন্ড দয়ালবাবা হযরত শাহ ফিরোজ কবীরের অজানা অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

দয়াল বাবা নিজের গ্রেফতার এড়াতে এবং নিজের অপকর্ম আড়াল ভক্তদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গণস্বাক্ষরে এসপি অফিসে নিজেকে ‘অত্যন্ত সৎ ও উচ্চ চরিত্রের মানুষ’ হিসেবে দাবী করেছেন। এছাড়াও এসপি অফিসে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

উত্তরবাংলা ডটকমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ায় তিনি হুশজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।

রোববার সংবাদপত্রে পাঠানো একটি গণস্বাক্ষর ও যৌথবিবৃতিতে ১৫১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। (কিন্তু এসপি অফিসে দেয়া স্মারকলিপিতে সারাদেশে মাত্র ৫০০ ভক্তের কথা বলা হয়েছে।) তাদের দাবী অনুযায়ী সারাদেশের মাত্র ৫০০ ভক্তের মধ্যে দেড়শই রংপুরের বড়হাজরা ও আশেপাশের এলাকার। তবে গণস্বাক্ষরে তারা কবীরিয়া দরবার শরীফের সাথে কিভাবে সংশ্লিষ্ট বা ভন্ড দয়ালবাবা ফিরোজ কবীরের ভক্ত কিংবা মুরিদ কিনা তা বলা হয়নি। ওই গণস্বাক্ষরটি পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে, তা কয়জন মিলে একস্থনে বসে তৈরি করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন পত্রিকায় ভন্ড দয়াল বাবা কর্তৃক ভন্ড সাজে আগুন ধরিয়ে দেয়া, দুহাত জোর করে অগ্নিপূজাসহ বিভিন্ন ছবি প্রকাশ হওয়ার পর আরও বেশ কিছু কোরআন ও হাদিস বিরোধী কর্মকান্ডের বক্তব্য, ভিডিও চিত্র, ছবি এবং তথ্য উত্তরবাংলা ডটকমে প্রতারিত ভক্তরা জমা দিয়েছেন।

এদিকে ভন্ডদয়ালবাবাকে গ্রেফতার না করায় রংপুরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। শুধু তাই নয়, ভন্ডদয়াল বাবা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গতকাল মাথায় হেলমেট পড়ে একজন সাংবাদিককে পেছনে নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরেছেন।

এদিকে এসপি অফিসে দেয়া স্মারক লিপির সূত্র ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্ছল্যকর তথ্য। স্মারকলিপিতে দরবার শরীফের সভাপতি সেক্রেটারীকে ভুয়া বলে দাবী করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা ওই দরবার শরীফের ভূয়া নয়, আসল সভাপতি ও সেক্রেটারী। এ বিষয়ে উত্তরবাংলা ডটকমের কাছে দরবার শরীফের বেশ কিছু তথ্য ও সাথে ভিডিও ফুটেজ ও পত্রিকার কাটিং আছে। এতে দেখা যায়, ৯৬ সেন্ট্রাল রোডস্থ অফিসে কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ভন্ড দয়াল বাবার ডানপাশে সভাপতি হাফিজুল ইসলাম এবং সেক্রেটারী জিয়াউল হায়দার খান টিপু বসা এবং বাম পাশে যুগ্ম সম্পাদক একেএম মইনুল হক দাড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন। এছাড়াও গত ১১ আগষ্ট ২০১২ সালে রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে বিশাল পরিসরে দরবার শরীফের আয়োজনে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধান অতিথি ছিলেন। যদিও ওই ইফতার মাহফিলে তিনি যাননি। তার পরিবর্তে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে হাফিজ ও টিপু সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। সেই সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তাদেরকে সভাপতি সেক্রেটারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ আছে।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১১ মার্চ বড় হাজরায় আনুষ্ঠনিক দরবার শরীফ উদ্বোধনের দিন যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে হাফিজুল ইসলাম হাফিজকে সভাপতি ও জিয়াউল হায়দার খান টিপুকে সেক্রেটারী উল্লেখ করে পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় এবং ভিডিও ফূটেজে দেখা যায় অনুষ্ঠানে সভাপতি ও সেক্রেটারী হিসেবে তাদের নাম বলা হয়েছে।  

স্মারকলিপির ৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ফিরোজ কবীরের বিরুদ্ধে অগ্নিপূজা ঝাড়ফুকসহ নানা অভিযোগ করেছে হাফিজু টিপু ও সাদেকুল। যা চরম মিথ্যা ও ধর্মীয় ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।’ এই বক্তব্যের অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেছে অগ্নিপূজা, আগুনে তাপ দিয়ে রোগ ভালো করাসহ নানান শিরিক কর্মকান্ডের স্থির ও ভিডিও চিত্র।

এদিকে স্মারকলিপিতে নবী রাসুল দাবীর বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও ২০৩৪ সালের ১১ আগষ্ট সকাল ৭ টা ২৫ মিনিটে নিজের মৃত্যুর তারিখ ঘোষণা, মৃত্যুর পরবর্তী লাশ কবর না দিয়ে সংরক্ষণের অসিয়ত, কোরআন হাদিসের বিকৃত অর্থ উপস্থাপনা, নিজের নামে কালেমা পড়তে বাধ্য করা, সুরা ইখলাসসহ বিভিন্ন আয়াতের মধ্যে যেখানে আল্লাহ আছে সেখানে আল্লাহ না বলে ‘আনতাল্লাহ’ বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কোন কথাই বলা হয়নি। উল্লেখ্য নবী রাসুল দাবীর বিষয়ে ফিরোজ কবীরের বক্তব্যের প্রমাণও আছে। এছাড়াও লালমনিরহাটে মিশন মোড়ে এভাবে দরবার শরীফ চালানোর সময় স্বানীয় কাউন্সিলর মোস্তফার নেতৃত্বে এলাকাবাসী কর্তুক গনধোলাই ও পুলিশে সোপর্দের বিষয়েও কোন কিছুই বলা হয়নি।

এদিকে স্মারকলিপিতে হাফিজ, টিপু ও সাদেকুলের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে রংপুর সরকারী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুর আখতার ফেনসি নামের এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ওই কলেজ ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষার্থী নন। তিনি ফল প্রত্যাশী এবং রেটিনা কোচিং সেন্টারে কোচিং করছেন। এ বিষয়ে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে।  অনুসন্ধানে দেখা গেছে দৈনিক প্রথম খবরের শেষ পৃষ্ঠায় ফেনসি নামের মেয়েটির অপহরণ ও উদ্ধার বিষয়ে গত ২৭ জুলাই যে খবর প্রকাশ পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল সন্ধার আগে ওই ছাত্রীকে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের ফকিরা ফতেহপুর নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সে ফকিরা ফতেহপুর গ্রামের দেলওয়ার হোসেন দেলদারের কন্যা।

নিজ বাড়ি হতে অপহৃতাকে উদ্ধার প্রসঙ্গে পীরগঞ্জ থানার ওসির জাহিদুর রহমান বলেন, রংপুর কোতয়ালী থানায় গত ২৬ জুলাই ২০০০ সালে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৭(৩) ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরে রংপুর কোতয়ালী থানার আবেদনের প্রেক্ষিতে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ অপহৃতাকে উদ্ধার করেছে’। অপহৃত ছাত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করার ঘটনাটি সেই দিন ছিল টক অব দ্যা টাউন। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, মেয়েটিকে অপহরণের বিষয়ে যে মামলা করা হয়েছে। তাতে হাফিজ, টিপু বা সুলতানের নাম নেই ( মামলা নং ৮৬ তারিখ, ২৬-০৭-১৩)। এছাড়াও মেয়েটি শনিবার ম্যাজিষ্ট্রেটের কছে ২২ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছে, তাতেও হাফিজ টিপু বা সাদেকুলের নাম বলেননি।

জানা গেছে, এই মেয়েটিকে ঘিরেই বেরিয়ে আসছে ভন্ড দয়াল বাবার নানা অপকৃতি। মেয়েটিকে দণ্ড দয়ালবাবা এমনভাবে বশ করেছেন যে, সে পিতামাতার কোন কথাই শুনতে চায় না। একারণে বেশ কিছুদিন আগে এ নিয়ে বিয়ে সংস্ক্রান্ত বিষয়ে ভন্ডবাবা মেয়েটির খালাতো ভাইকে উলঙ্গ করে মারপিট করে। সেই ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশের হুমকি দিয়ে এসময় তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয় ভন্ডবাবা। মেয়েটি এখন সেফহোমে আছে।

সূত্র জানায়, মেয়েটিকে ভন্ডবাবা এতটাই মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন যে,  এর আগে একটি মামলার প্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে আবেদন করে বলেছিলেন ‘আমি সাবালিকা। পিতামাতার কাছে নিরাপদ থাকবো না। আমাকে নিজ জিম্মায় কোচিংয়ে পড়াশুনা করার অনুমতি দিন। ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে নিজ জিম্মায় পড়াশুনার অনুমতি দেন।

পিতা মাতা ও ভক্তদের দাবী এই মেয়েটিকে ভন্ড বাবার হাত থেকে উদ্ধার করে মেয়েটিকে নিরপেক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করলেই দরবার শরীফের আড়ালে ভন্ড দয়াল বাবা ফিরোজ কবির ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর ৯৬, সেন্ট্রাল রোডে দরবার শরীফের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও বাসার ভিতরে দয়াল বাবার অফিসের তিনটি মাজার শরীফের ও দয়াল বাবার ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এদিকে এই ভন্ড দয়ালবাবার কুকীতি প্রকাশ হওয়ার পর ফূসে উঠছেন তৌহিদি জনতা।

বাংলাসংবাদ২৪/ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এনএম
 

আরও সংবাদ