Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri February 22 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

শশা চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন মির্জাপুরের মোজাম্মেল হক

Published:2013-08-14 10:37:25    


জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সফল শশা চাষী মোজাম্মেল হক আজ থেকে ৭ বছর আগেও বেকার জীবন যাপন করতেন। তখন তিনি বেকারত্ব ঘোচানোর জন্য কিছু দিন হতাশ জীবন যাপন করেছেন।

একপর্যায়ে ২০০৮ সালে তিনি মাদারগঞ্জের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার-এর পরামর্শে  মির্জাপুর গ্রামের ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মল্লিকা সীড কোম্পানীর আদুরী হাইব্রিড শশা আবাদ শুরু করেন। সেই শশা চাষ থেকে ওই বছর উৎপাদন খরচ ছাড়াই তিনি ৩ লক্ষ টাকা আয় করেন। আর তখন থেকেই তার বেকারত্ব ঘোচে যায় এবং পরবর্তীতে শশা চাষেই তিনি তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেন।
 
মল্লিকা সীড কোম্পানীর আদুরী হাইব্রিড শশা বছরে ৩ বার আবাদ করা যায়। তাই শশা চাষী মোজাম্মেল হক ২০০৯ সাল থেকে শশার আবাদ বৃদ্ধি করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ১৫ বার ১০ বিঘা জমিতে ওই শশার চাষ করেন। এ শশা চাষের সময় হচ্ছে ১০ জৈষ্ঠ্য থেকে ১৫-২০ শ্রাবণ, ১০ ভাদ্র থেকে ১৫-২০ কার্তিক এবং ১০ মাঘ থেকে ১৫-২০ চৈত্র। এই সবজি চাষের সময় কাল ৬৫-৭০ দিন এবং বীজ বপন করার ৩৫ দিন পরে ফলন আসতে থাকে। একটানা ১০ বার তিন দিন পরপর ক্ষেত থেকে শশা উঠানো যায়। চাষী মোজাম্মেল হক বছরে ৩ বার করে পাঁচ বছরে মোট ১৫ বার ১০ বিঘা জমিতে শশা আবাদ করে উৎপাদন খরচ ছাড়াই বিঘা প্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৭৫ লক্ষ টাকা লাভ করেন। এতে গত ছয় বছরে তার লাভের অংক দাঁড়ায় মোট ৭৮ লক্ষ টাকা।
 
এক বিঘা জমিতে শশা চাষে মোট খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। ফলন আসে কমপক্ষে ২৪৫ মন। আর ১০ বিঘা জমিতে মোট ফলন আসে ২হাজার ৪শ ৫০ মন। তার উৎপাদিত এই বিপুল পরিমাণ শশা স্থানীয় ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি ঢাকার কাওরান বাজারে এই শশা বিক্রির ব্যবস্থা করেন। পাকা রাস্তা থেকে তার শশা ক্ষেত ৩ কিলো মিটার দূরে। তাই তিনি ক্ষেত থেকে শশা তোলে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ীর সাহায্যে স্থানীয় মিতালী বাজারে নিয়ে জমা করেন।

তারপর ট্রাকে করে কাওরান বাজারে পাঠানো হয় বিক্রির জন্য। এতে ১০ বিঘা জমির শশার জন্য আবাদ ও পরিবহনসহ মোট খরচ হয় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আর মন প্রতি শশা গড়ে বিক্রি হয় ৪শ টাকা। ২হাজার ৪শ ৫০ মন শশার বিক্রয় মুল্য পাওয়া যায় ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। নীট লাভ হয় ৫ লক্ষ টাকা। এইভাবে মোজাম্মেল হক ১৫ বার শশা চাষে ৭৫ লক্ষ টাকা নীট লাভ করেন। ছয় বছরের নীট লাভের টাকা থেকে সে ৪৮ লক্ষ টাকায় ৮ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন এবং ১৬ লক্ষ টাকায় ৩০ বিঘা জমি লীজ নিয়েছেন। এছাড়াও ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নতুন ঘর-বাড়ি তৈরি করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাষী মোজাম্মেল হক কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জৈষ্ঠ্য-শ্রাবণ সময়কালের শশা চাষ থেকে শেষ বারের মত শশা তুলছেন।

তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শশা চাষ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। সে ভূমিহীন বেকার মানুষ থেকে আজ স্বচ্ছল কৃষকে পরিনত হয়েছেন। সে তার পরিবার ও আত্নীয়-স্বজন নিয়ে এখন সুখেই দিন যাপন করছেন। তিনি আশা করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে একটি গরুর খামার গড়ে তুলবেন এবং প্রচুর পরিমাণ দুধ উৎপাদন করে এলাকার মানুষের দুধের অভাব দুর করবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন শশা চাষে মোজাম্মেলের এ অভাবনীয় সাফল্য ও আর্থিক উন্নতি দেখে মির্জাপুর গ্রামের প্রায় ২শ প্রান্তিক চাষী এই সবজি চাষে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়ে কয়েক বছরে স্বচ্ছল কৃষকে পরিণত হয়েছেন। আর শশা চাষে মির্জাপুর এলাকার ২শ প্রান্তিক চাষী স্বাবলম্বী হওয়ার কৃতিত্ত্ব মির্জাপুরের সর্বপ্রথম সফল শশা চাষী মোজাম্মেল হকের। তাই  মির্জাপুর এলাকার শশা চাষীরাও এখন মোজাম্মেল হককে শশা চাষের গুরু হিসাবেই সম্মান করেন।

 

বাংলাসংবাদ২৪/এআরচৌধুরী/এনএম

আরও সংবাদ