Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun June 24 2018 ,

কিশোর-কিশোরীদের সাথে কাউন্সিলিং অত্যন্ত জরুরী..

Published:2013-01-03 04:34:25    

মরা অভিভাবকরা এমন একটা ভাব ধরি যেন নিজেরা কখনোই কিশোর বয়সটা পার করে আসিনাই...নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে কিশোর সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে গিয়ে যে উপকারের বদলে সন্তানের উপর মানসিক টর্চারিং করছি তা ভেবেও দেখি না...যদি ছেলে-মেয়ে আমার যৌক্তিক কথা মেনে নিতে না চায় তবে তার পেছনের কারনটি খুঁজে বের করা উচিত...এমনও তো হতে পারে আমি যেটাকে যৌক্তিক মনে করছি সেটা আসলেই তার জন্য কল্যানকর নয়...কর্মী ব্যাবস্থাপনা নিয়ে আমাদের একটা পাঠ্য বিষয় ছিল...সেখানকার প্রেষনা অধ্যায়ে একটি চমৎকার উক্তি আছে, "একটি ঘোড়াকে তুমি জোর করে পানির কাছে নিতে পারবে কিন্তু জোর করে তাকে পানি পান করাতে পারবেনা, যতক্ষননা সে সেচ্ছায় পান করবে"...তাই, বলবো জোর করে সন্তানের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে প্রেষনার মাধ্যেমে করতে পারলে তা ফলপ্রসু হয়।

মানব জীবনের তিনটি ধাপের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ধাপ হচ্ছে কিশোর বয়স...এই বয়:সন্ধিকালে একজন কিশোর-কিশোরীর শারিরিক/মানসিক/আচরনগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়...তার এই পরিবর্তনের কথা না পারে কাউকে বুঝাতে না পারে সইতে...এই বয়সটাতেই পার্সোনালিটি বিল্ড আপ হতে শুরু করে...অল্প কুটু কথাতেই আকাশ সমান অপমান বোধ কাজ করে...বাবা-মা কিংবা বড় ভাই-বোনদের বন্ধু হিসাবে পেতে চায়, শাসক হিসাবে দেখতে অপছন্দ করে...অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অধিক শাসনের কারনে মনে অভিমানের ক্ষোভ দানা বাঁধে...ক্ষোভ কারো সাথে শেয়ার করতে না পেরে ভেতরে ভেতরে সহিংস হয়ে ওঠে...আদেশের অবাধ্যতা/গৃহ থেকে পলায়ন/উগ্র ব্যবহার/মাদ্রক গ্রহন ইত্যাদি আচরন পরিলক্ষিত হয়...কেউ কেউ নিরবে আত্বহননের পথ বেছে নেয়।

আসুন কিশোর-কিশোরী বয়সীদের জীবনের কিছু সত্য ঘটনা জানি -

ঘটনা ১: ঢাকার গেণ্ডারিয়ার সাথী পড়ত স্থানীয় তালতলার একটি স্কুলে...ঠিকমতো লেখাপড়া না করার কারণে প্রায়ই বকাঝকা করতেন মা-বাবা...বাবা-মায়ের অভিযোগ, "ক্লাস ওয়ান থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত তো ভালোই পড়াশোনা করলি এখন এমন ঢং করস কেন?" সাথী বাবা-মাকে বুঝাতে পারেনা তার শারীরিক পরিবর্তনের সমস্যা...কথায় কথায় বাবা-মায়ের বকুনিতে মনে জমা হয় অভিমানের মেঘ... পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় একদিন রীতিমতো তোপের মুখে পড়তে হয় ওকে...একদিকে বকুনি, অন্যদিকে ফল খারাপ! আত্মহননের পথ বেছে নেয় মেয়েটি।

 

ঘটনা ২: নোয়াখালীর পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সিনথিয়া...স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই ওকে বিরক্ত করে এলাকার বখাটেরা...কী করবে সে? বুঝতে পারে না...মাকে বলতে ভয় হয়...মা শুনলে নিশ্চই রাগ করবে, বাবাকেও বলতে পারেনা ভয়ে...বাবা শুনলে মেরেই ফেলবে...তাই, নিজের ভেতরই পুষে রাখে সমস্যাটি...একদিকে বাবা-মার বকুনির ভয় অন্যদিকে বকাটেদের হয়রানি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে একদিন বিষপান করে আত্মহত্যা করে মেয়েটি

ঘটনা ৩: মৌমিতা বাবার সাথে অভিমান করে কথা বলেনা...বাবাও মেয়ের সাথে অভিমান করে কথা বলেনা...মৌমিতার অভিমান বাবা আমাকে ডাকলেই তো ঝাপটে ধরে কান্নায় অভিমান ভাসিয়ে দিতে পারি...বাবা কেন আমাকে ডাকে না...কিশোরী মেয়ে বাবার সাথে এই অভিমান সহ্য করতে পারেনি তাই তো ফাস নেবার আগে ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখে রেখে যায়, " বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি"।

অভিভাকদের কাছে আন্তরিক অনুরোধ করবো

=> আপনার সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই এমন আদর্শে গড়ে তুলুন যাতে কিশোর বয়সে কোন ব্যাপারে জোর করতে না হয়। যেমন: নামাজ আদায় করা।

=> সন্তানের সাথে শাসক-প্রজা ভূমিকা নয় ভালবাসার বন্ধন গড়ে তুলুন...বিশ্বাস করুন আপনাকে বন্ধু হিসাবে পেলে আপনিই হবেন তার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু।

=> আপনার সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে তার মতামত নিন...মনোযোগ দিয়ে তার মতামত শুনুন...যদি তার মত যৌক্তিক হয় সোজাসাপটা মেনে নিন...যৌক্তিক না হলে কিংবা আপনার মতটি তার মতের চাইতে ভাল হলে...তার সাথে বন্ধুসুলভ কাউন্সিলিং করুন...সঠিকটি বুঝাতে চেষ্টা করুন।

=> প্রতিদিন সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিন...তার বন্ধুদের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলুন...মাঝে-মধ্যে তার বন্ধুদের দাওয়াত করে খাওয়ান...এতে এক ঢিলে দুই পাখি পাবেন...আপনার সন্তানের বন্ধু কেমন তাও যেমন জানতে পারলেন আবার সন্তানের মনটাও আকাশের মতো বড় হবে তার বন্ধুদের আপ্যায়নে।

=> পারত পক্ষে আপনার সন্তানকে প্রাইভেট টিউটর দিয়ে পড়াবেননা...নিজেই প্রতিদিন সন্তানের পড়া তৈরিতে সহায়তা করুন...নিত্যান্তই প্রাইভেট টিউটর নিতে বাধ্য হলে, প্রতিদিনই তার পড়াশোনার খোজ নিন...উৎসাহ দিন।

=> সন্তানের ছোট-বড় সফলতায় তাকে উৎসাহ-উপহার দিন...ভুল-ত্রুটিগুলো এমনভাবে ধরিয়ে দিন যাতে অপমান বোধ না করে বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সেই ভুল থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে

 

বাংলাসংবাদ২৪/এস বি বি/প্রবাশী আশরাফ/এসএস

আরও সংবাদ