Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri February 22 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে নেই কোন প্রচারণা

Published:2013-08-22 19:18:18    

ঢাকা : মাদক সেবনকে নিরুৎসাহিত করতে যর্থাত কোন প্রচারণা নেই দেশে। বলা হচ্ছে দেশ এখন মাদকময়। টিভি কিংবা রেডিও অথবা বিলবোর্ডে কোথাও চোখে পড়ার মতো প্রচারণা নেই মাদক দ্রব্য আমদানি বা আসা না আসা নিয়ে। নেই কোন টকশো বা আড্ডাতেও মাদককে নিয়ে কোন আলোচনা। আছে ধরার খবর, আর তা ধ্বংষ করার খবরের পাশে পুলিশ মন্ত্রীর পোজ দেয়া ছবি।

রাজধানীর মোড়ে মোড়ে হলি সিটি, আমেরিকান  সিটি, ইতালি সিটি, উত্তর সিটি, দক্ষিণ সিটি, পুর্ব সিটি, আকাশ সিটি, পানি সিটি ইত্যাদি সিটি এবং বাবুল বন্দুকের দোকান, আবুল পিস্তলের দোকান, সোনাই আর্মসের দোকানের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ার মতো হলেও সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়, ইয়াবা খেলে খুন হয়, খুনিও হয়, গাঁজা খেলে মাতাল হয় এ জাতীয় কোন বিজ্ঞাপন কোথাও কারো চোখে পড়েনা।

কিছুদিন আগে সরকারের উন্নোয়ন চিত্রের বিলবোর্ড রাজধানীর মোড়ে মোড়ে দেখা গেলেও বছরের পর বছর সরকার বা সরকারের কোন সংস্থা মাদক বিরোধী বিজ্ঞাপন নিয়ে বিলবোর্ড বা অন্য কোন প্রকার বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেনি।

সম্প্রতি চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় একজন মারা গেছেন। দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপার । এতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রেলওয়ের ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার- প্রচারণা শুরু হয়েছে সাথে সাথেই। কিন্তু ইয়াবা সেবন করে লাখ লাখ ছেলে- মেয়ে নষ্ট হয়ে গেলেও এমনকি নিজের বাবা-মা খুন হলেও কোন কোম্পনি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি কমিটির মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের নেশার হাত থেকে বাঁচাতে রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোতে (ডোপ টেস্ট) পরীক্ষা চালালোর কথা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত আটকে রয়েছে এই উদ্বেগটি। একজন সচেতন  অবিভাবক শাহজাহান খান মনে করেন, এই পরীক্ষাটি খুব দ্রুত চালানো দরকার। শুধুমাত্র রাজধানীতে নয় বরং সারাদেশে চালানো দরকার। একটি জরিপে দেখাগেছে রাজধানীর প্রায় ৩৩ ভাগস্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ১৭ ভাগ শিক্ষার্থী মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পরেছে।

অনেকেই বলতে শুরু করছেন, সরকারের অদক্ষতা আর উদাসীনতার জন্য অনেকটা দায়ী। দায়ী কতিপয় নিকট জনও। প্রচার-প্রচারণা থাকলে নেশা একেবারে শেষ না হলেও ঐশীর মতো ভয়াবহ হয়ে কেউ জন্ম নিতে পারতো না। তাই অচিরেই মাদকের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রচারে নামা জরুরী হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সমাজের সভ্যতার নামে অসভ্যতা, আধুনিকতার বর্তমানে নামে স্বেচ্ছাচারিতা, ডিজে পার্টি, বিদেশী সংস্কৃতি মাদকতা এবং আজকে এই হত্যাকান্ডের অন্যতম কারন। আমরা আমাদের সন্তানকে কোথায় পাঠাচ্ছি আর কি শেখাচ্ছি? ঐশীর এই ঘটনা থেকে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের আমাদে আদরের ছেলে-মেয়েদের কি ভাবে নৈতিকতা বিসর্জন করে চরিত্র পদস্থলিত হচ্ছে তা ঐশীর এই নৃশংস খুনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাথরুমে প্রবেশ করলে শত শত ফেন্সিডিলের বোতল পাওযার খবর এখন আর নতুন নয়। ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক গ্রহন উচ্চ মূল্য দিয়ে ক্রয় করতে পারে অর্থবিত্তশালীরা। আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাধারণত ধনীর দুলাল-দুলালীরাই পড়াশোনা করছে। বয়স সন্ধিক্ষন হওয়ার সাথে সাথেই একে অপরের কাছে নিজের শরীর এলিয়ে দিতে আনন্দবোধে দ্বিধা করছে না। গভীর রাত পর্যন্ত ফেইজবুক, ট্যাগ, টুইটার, ফেয়ারবুক, গুগল সহ বিভিন্ন মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভালো জিনিষ না খুঁজে অসুন্দও আচরনময় দুনিয়াতে প্রবেশ করে নিজেদেরকে বরবর করে তুলছে প্রতিদিন।

বাবা-মা মনে করছে তার সন্তানরা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু সেখান থেকে কি শিক্ষা গ্রহন করছে তা একমাত্র তার কিছুই পিতামাতা জানছে না, জানার চেষ্টাও করছেনা। শুধুমাত্র ছেলে-মেয়েরা নয় অনেকে পিতা-মাতারাও আজকাল প্রযুক্তির নষ্ট পথে চলতে গিয়ে পরকীয়া সহ নানান অরুচি কাজে জড়িয়ে নিজেকে আধুনিক ভাবতে শুরুকরছে। বিভিন্ন নামী দামী স্কুলের সামনে বিভিন্ন ফার্ষ্ট্র ফুড ও চাইনিজ রেস্তোরায় একজনের স্ত্রী আরেকজনের সাথে যে ভাবে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটাচ্ছে তা শুধু আমাদেরকে লজ্জাই দেয়না বরং অনেক পিছনে নিয়ে যাচ্ছে।

তাই এ অবস্থা থেকে অতিসত্ত্বর বের হতে না পারলে এ জাতি অন্ধকারে নিমোজ্জিত হবে।


বাংলাসংবাদ২৪/জেএসএন/আর

আরও সংবাদ