Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সংসদ অধিবেশনের মাঝেই দুই নেত্রীর বৈঠক

Published:2013-08-26 23:03:57    

বেলাল হোসেন: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ঈদুল আযহার আগেই দুই নেত্রীর মাঝে আলোচনার জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গত কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে ফোনো আলাপে এই বৈঠকের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসে সংসদের সমাপনী অধিবেশনের মাঝেই এই আলোচনা হতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিবৃতি দানের পর থেকে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবি মহলে দুই নেত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে অনেক আশাবাদ প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে যখন বড় দুই দল মুখোমুখি অবস্থানে ঠিক তখনই এই আলোচনা মনে হচ্ছে অনেকটা রাজনীতি অঙ্গনে প্রসান্তি বয়ে আনবে। তবে অনেকেই মনে করছেন বড় দুই দলের কয়েকজন নীতি নির্ধারকদের কথায় মনে হয় না আদৌ রাজনীতির ধোঁয়াশা কাটবে।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবও বলেছেন, দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি অচল। সুতরাং দুই নেত্রীকে একটেবিলে বসানোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশের মানুষও মনে করে তাদের একত্রিত বসা উচিত এবং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উদ্যোগ প্রয়োজন। সুষ্ঠ নির্বাচন ও গণতন্ত্রের উত্তরণের লক্ষে পরস্পর পরস্পরকে সম্পুরক শক্তি হিসেবে দেখতে হবে।

আগামী নির্বাচনের পূর্বে রাজনীতিতে গুণগত উত্তরণ ও সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে বাংলাদেশের রাজনীতি নুতন মেরুকরণের মাধ্যমে জাতির আকাংখা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই দুই নেত্রী অতীতে দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ভবিষ্যতেও তারা আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেই জনগনের প্রত্যাশা। দুই নেত্রীর পারস্পরিক বাক-বিতন্ডতার অবসান হওয়া উচিত। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে তাদের একত্রে বসা উচিত। তর্ক বিতর্ক অনেক হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উচিত এসব বন্ধ করে দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করা।

দুই নেত্রীর উচিত একে অপরকে একজন রাজনীতিকের মত আচরণ করা। যদি তারা ঠিক সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা উপলব্ধি করতে বের্থ হন তাহলে অতীতের মত যে কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আগামীতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে দুই নেত্রীর মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ বর্তমানে দেশে যে সংকট চলছে তা পুনরায় সংঘাতের রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এজন্য দুই নেত্রীর কম বেশি দায়দায়িত্ব আছে বলে দেশবাসী মনে করে।

সুতরাং দেশের সংকট নিরসনে দুই নেত্রীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগনের দাবি, জনগনের আশা আকাংখা, সকল প্রকার রেষারেষি ও পাল্টাপাল্টি রাজনীতি পরিহার করে আলোচনা এবং সমঝোতার পথ ধরে দেশের সমস্যা সমাধানে দুই নেত্রীর পারস্পরিক উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে|

রাজনীতিতে মতভেদ, বিরোধ, দন্ধ ও প্রতিযোগিতা থাকবেই। তার মধ্যেও সরকারী ও বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগ, বৈঠক এবং আলোচনা হওয়া উচিত। গণতন্ত্র ও দেশের প্রয়োজনেই এটা করতে হয়। দুই নেত্রী যদি গুরত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইসুতে একমত হতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতের অনিশ্চিত অবস্থা থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে, দেশের গণতান্ত্রিক বেবস্থা আরো সুদৃঢ় হবে।



বাংলাসংবাদ২৪/ডেস্ক/বিএইচ
 

আরও সংবাদ