Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

ছেলের বায়না

Published:2013-09-04 21:00:45    

আ ক ম রুহুল আমিন

 

(প্রথম পর্ব)
 

শুরুটা নিয়ে ভাবছি। কোথা থেকে শুরু করি এবং কোন বিষয়টি শুরুতে বলি এনিয়ে ভাবতে গিয়ে দুটি দিন সহজেই চলে গেল। বয়সটাও বাড়লো দু’কদম। বয়স বিষয়টা বর বাজে জিনিস। মাঝে মাঝে মনে হয় বয়স নিয়ে দর্শণ তত্ব যা বলেছে তার কোন অংশই পূর্ণ কোন তত্ব নয়। বয়সের তত্ব একটাই আর তাহলো, নিয়ন্ত্রহীন এক নিরব প্রলয়। বয়স চুপচুপ অন্ধকার। বয়স অন্ধকার অলিগলিতে অবিরাম চলে। চলার পথেই জীবন্ত জীবনের সবকিছিু মারিয়ে যায় বয়স। প্রানের সবকিছু এলোমেলো করে অন্ধকার গুহায় বসে বয়স হিসেব মিলায় উড়ে যাওয়ার স্পন্দনের খুঁটিনাটি। বয়স মানুষকে মানুষ চেনায়। সব কিছু জানাতে শেখায়। শেখায় সাধারণ মেলা। মনে রাখা। ভরে সৃতির সম্ভার। আবার ভুলায়ও সবকিছু। কিছুই মনে করতে দেয়না বয়স। জানিনা গেলো দু’দিনে নতুন করে কিছু ভুলে গেলাম কিনা। এই এখন বয়স যা হয়েছে,বাবার শাসনে আর মায়ের সোহাগে জীবনের সুচনায় সুবুজ সব খাবার সাথে পালা গাভীর দুধ খেয়েছিলাম, তাই হয়ত অনেক কিছুকেই এখনো তাকে সাজানে বইএর মত গোছানো স্মৃতির আলমারি থেকে নামাতে খুব একটা কষ্ট হয়না। আশা করছি স্মৃতি নির্ভর এই লেখাটি লিখতেও মহান আল্লহ আগামী সময় সহজতর করবেন। তবে ভাবনা একটাই শুরু করি কি নিয়ে। আর কি দিয়ে। এমন একটা লেখা লিখতে চেয়েছিলাম অনেক আগে। লিখতে পারি নি। লিখা সম্ভব হয়নি। সাহস পাইনি। রাজনীতির আর্দশ আর বিশ্বাসের মুখোমুখি লড়ায়ে সত্য সন্ধানে জীবনকে অনেক সময় জীবন্ত লাশ হয়ে খাঁটিয়া এলিয়ে দিয়েছি। কে কি বলে, অবাক হয়েছি বার বার।  নিজেকে নিজেই ভুলে গেছি অনেক বার। অচেনা মনে হয়েছে। সত্যাশ্রয়ি প্রত্যাশিত কোন লিখা লেখা সম্ভব হয়নি বিবিধ কারনে। লিখা হয়নি এমন একটি লেখা যা থেকে জম্ম নেবে হাজারো লেখা আগামি সময়।

তেলময় মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ আমার পুত্র রতন কাজ করেন। বাবার কাছে ছেলে সবসময়ই শিশু বয়স নিয়ে হাজির হয়। যখন দেশে আসে আমার সামনে হাঁটাচরা করে আমি ভুলেই যাই তার ছেলেটির স্কুলে যায়। আর সকাল বিকাল তার সে ছেলেটিই ঝগরা দাদা দাদির সাথে। ছেলের এবং তার ছেলের বায়না যাই হোক দাবীর ভাষায় খুব একটা ব্যতিক্রম আমার মনে হয়না। দু’জনেই আমার বাবু। একজন বড় বাবু আর একজন ছুটবাবু। অনেক দিন পর ঢাকায় ঈদ করছে নিজের বাসায়, সবার সাথে। বাসা এখন আনন্দ আমোদের মিলন মেলা। পরিবারের আকার বিবেচনায় গ্রামিন বড়বাড়ির চেয়ে অনেক বড়। সবাই বাড়ি কিনে অথবা বাসা ভাড়া নিয়ে কাছে কাছেই থাকে পুরনো ঢাকায়। অল্গ সময়ের মধ্যেই সবাই এক জাগায় জমা হয়ে চিরায়ত বাঙ্গালীর আলাপ আসরে বসে যায়। ছেলের মেয়েদের সব আসরে বসার তেমন সুযোগ আমার না হলেও ছেলের কারনে রাতে বসতেই হয়। সেই টেনে নিয়ে যায় বসার ঘরে। দু'দিন আগে এমন একটি আড্ডায় আমার নানার বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার পাড়া গ্রামের কথা বলতে গিয়েই মুক্তিযুদ্ধের কথা এসে গেলো। আলাপ চললো। এর মধ্যেই যুদ্ধ না দেখা আমার উত্তরাধিকার সায়রুল আমিন পুত্র রতনের বায়না থামিয়ে দিল চলমান আলোচনা। নতুন এক বায়না। ছত্রিশ বছরে তার কাছ থেকে এমন বায়না আসেনি। সে বলেনি। আমি শুনিনি। কঠিন বায়না। আজই শুরু করতে হবে। তার বায়না মিটাতেই আমার এ লেখা। লেখার শুরু নিয়েই আমার ভাবনা। শুরু করবো কি দিয়ে। নেতা। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। স্বাধীনতার আন্দোলনের চ’ড়ান্ত ডাক। সমঝতার আলোচনা। জিয়ার যুদ্ধঘোষণা। যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশনা। মুজিব নগর সরকার। পতাকা। দেশ। পাকিস্তান। ভারত। মুজিব। ভুট্টু। ইন্দীরা। দেশের সাহসী মায়াবি মানুষ। বন্ধুসব। বটতলা। ছাত্রলীগ। ইকবাল হল। ঈশ্বরগঞ্জ। ময়মনসিংহ। বাড্ডানগর। হাজারীবাগ। কত যায়গা । কত মানুষ। ট্রেনিং। টিটাগর। দমদম। বসির হাট। প্রিন্সেস স্ট্রীট। থিয়াটার রোড। বরহমপুর। দেরাদুন। টান্ডুয়া। মুক্তিযোদ্ধের সবিশেষ আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে লিখতে হবে। ছেলের বায়না। অনেকের অনুরুধ, লেখার স্বতাগিত.  বয়স ও সময় বিবেচনায় এই এখন এমন কিছু লিখবো এমন কোন চিন্তা বা লিখার ইচ্ছা আমার ছিল না।তাছাড়া আমার কেন জানি মনে হয় যথার্থ সত্য বলা ও লেখার সময় এখনো আসেনি। তার পরেও লিখতে বসলাম। স্মৃতিকে একমাত্র সম্বল এবং মহান আল্লাহর অপার রহমতকে চেতনার উৎস জেনে ছেলের হাজারো বায়না মিটানোর মত শুরু করলাম। সত্য লিখে যাওয়ার বিকল্প কিছু দেখছিনা।
পহেলা মার্চ। শুরু। ১৯৭১ রের মার্চমাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু করলাম। আগের অনেক কিছু লেখার ধারাবহিকতায় এসেই যাবে। সেটাও মার্চের জন্যেই ছিল। এটাই অন্তর বিশ্বাস। এটাই প্রমানিত সত্য। সুতরাং মার্চ’৭১ থেকে শুরু। (পরের পর্বটি ২য় পর্ব )

লেখক মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা
আ ক ম রুহুল আমিন

আরও সংবাদ