Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri March 22 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

ক্রসফায়ারের ভয়ে জবানবন্দী দিয়েছি: ঐশি

Published:2013-09-05 17:09:57    

ঢাকা: পুলিশ দম্পত্তি হ্যাতার কথা স্বীকার করে ঐশী রহমান ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দী দিয়েছিল তা প্রত্যাহারে লিখিত আবেদন করেছেন আদালতের কাছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ঐশীকে আদালতে হাজির করার পর তিনি এ আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহর আদালতে এ আবেদন করা হয়।

স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করে ঐশী বলেন, ‘আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায় করেছে। আমার দেয়া জবানবন্দি সত্য নয় এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিতও নয়।’

 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনে ঐশী আরো বলেন, ‘আমি (ঐশী রহমান) এই মামলার আসামি। বিগত ১৭ আগস্ট পল্টন থানায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করিলে আমাকে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে এবং আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে।’

‘বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে গত ১৮ আগস্ট আমাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে বলে যে, আমাদের কথামতো তুমি যদি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সামনে আমাদের শেখানো কথা না বলো, তাহলে তোমাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মেরে ফেলবো অথবা ক্রসফায়ারে মেরে ফেলবো। তোমরা সমাজের কীট! আবর্জনা!’

‘আমি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং মৃত্যুর ভয়ে তাদের শেখানো কথা আদালতে গিয়ে বলতে বাধ্য হই। গত ২৪ আগস্ট তারিখে আদালতে আমার প্রদত্ত জবানবন্দি সত্য নয় এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিতও নয়।’

‘আমি অদ্য (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া আমার জবানবন্দি প্রত্যাহারের প্রার্থনা করছি।’

ঐশীর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী মাহাবুব হাসান রানা ও এটি এম আসাদুজ্জামান। শুনানি শেষে বিচারক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর চামেলীবাগে ভাড়া বাসায় পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান নৃশংসভাবে খুন হন। ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৭ আগস্ট তাদের মেয়ে ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে। ২৪ আগস্ট পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার কিশোর আদালতের বিচারক মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাতের আদালতে ঐশী নিজ হাতে তার মা-বাবাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ওইদিন ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঐশীদের বাসার কাজের মেয়ে খাদিজা খাতুন সুমিও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর ২৪ আগস্ট রাত ৯টায় আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। এরপর গত ২৯ আগস্ট আদালত ‘ঐশী শিশু নয়’ নিশ্চিত হয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাসংবাদ২৪/ এমএস

আরও সংবাদ