Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

বগুড়ায় আবাসিক মোটেল থেকে ১৯ যুবক-যুবতী আটক

Published:2013-09-12 13:18:11    

বগুড়া ব্যুরো:  বগুড়া শহর যেন অবাধ যৌনাচারের লিলাভূমিতে পরিনত হয়েছে। আবাসিক হোটেল, মোটেলগুলোতে দিনরাত অবাধ চলছে যৌনাচার। পার্কগুলো প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার রস পানের নিরাপদ আস্তানা। প্রশাসনের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চললেও সেদিকে তাকানোর সময় নেই কারো।

পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসব হোটেল-মোটেলে নিয়মিত দেহ ব্যবসা চলছে বহু দিন ধরে। কখনো কখনো ভ্রাম্যমান আদালত দু’একটা জুটিকে আটক করলেও দেহ ব্যবসার মূলকেন্দ্র হোটেল, মোটেলগুলো থেকে যায় নিরাপদ।

কিছু দিন পূর্বে বগুড়া ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৭২ জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটকের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে হাবিবুল হাসান রুমি।

এবার শহরতলীর মাটিডালিতে একটি আবাসিক মোটেলে অভিযান চালিয়ে যৌনকর্মে লিপ্ত অবস্থায় ১৯ জন যুবক-যুবতীকে আটক করেছেন। মোটেল কর্তৃপক্ষের ৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ মোটেলটি সিলগালা করেছেন। আটক যুবক-যুবতীদের দিয়েছেন ৩ মাসের কারাদন্ড।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল হাসান রুমির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরের মাটিডালী মোড়ে অবস্থিত ক্যাসেল এমএইচ নামের একটি আবাসিক মোটেলে অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে ১৯ জন যুবক-যুবতীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৬ যুবতী ও ৭ যুবকের প্রত্যেককে ৩ মাসের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। অবশিষ্ট ৬ যুবকের ৪ জনের প্রত্যেককে ৫’শ টাকা এবং ২ জনের ৪’শ টাকা করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। সেই সাথে মোটেল কর্র্তৃপক্ষের ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং মোটেল সিলগালা করে দেয়া হয়।

জরিমানার টাকা ২০দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে মালামাল ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান চলাকালে হোটেল ম্যানেজার ও কর্মচারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার ওই মোটেলে অভিযান চালিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় বেশ ক’জন যুবক-যুবতীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান চলাকালে স্থানীয় শত শত মানুষ মোটেলের গেটের সামনে ভীড় জমায়। তারা ওই এলাকার আবাসিক হোটেল ও মোটেলের দেহ ব্যবসা কঠোর হাতে দমনের জোর দাবি জানায়। অভিযানে অংশ নেয়া একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানকালে মোটেলের বিভিন্ন কক্ষে সম্পুর্ন বিবস্ত্র অবস্থায় বেশ ক’জন যুবক-যুবতীকে আটক করা হয়। এদের কেউ কেউ সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলে-মেয়ে!

বগুড়া শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা নামীদামি আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। প্রশাসনকে ম্যানেজ একটি সিন্ডিকেট দিনের পর দিন অবাধে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহল পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কাজ হয় না। শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা উপশহরে এধরনের একাধিক আবাসিক হোটেলে আসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে অসামাজিক কাজে জড়িতদের পক্ষ নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন সময় এলাকার সাধারন মানুষকে হয়রানি করে থাকে।



বাংলাসংবাদ২৪/ওয়াদুদ/বিএইচ
 

আরও সংবাদ