Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue August 21 2018 ,

ব্যাংক ঋণে নিয়ম নীতির তোয়ক্কা নেই

Published:2013-09-12 18:32:25    

ঢাকা : সাধারন মানুষের কল্যানে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও তা বিশেষ কারণে কুক্ষিগত। ব্যাংক লোন প্রদান আর তা গ্রাহকদের কাছ থেকে ফেরত আনতে যেন কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা নেই ব্যাংকগুলোর।

ক্ষমতা আর আতাতের কাছে বন্দি হয়ে আছে সাধারন মানুষের ঋণ পাওয়ার অধিকার।
 
ব্যাংক পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংক গুলোর তুলনায় বেসরকারী ব্যাংক সমূহে নানা রকম সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকায় ও গ্রাহক সেবার মান অত্যন্ত উন্নত হওয়ার কারণে এসব ব্যাংকের শাখা সমূহে দিন দিন গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই নতুন নতুন সুযোগ সুবিধার পরিবর্তে তাদের কে নতুন নতুন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যা তুলনামূলক ভাবে সরকারী ব্যাংকে আশঙ্খাজনক হারে বাড়ছে।

বিষেশ করে সরকারী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহনের ক্ষেত্রে গ্রাহক দের হয়রানীর যেন শেষ নেই। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র থাকলেও বন্ধকী সম্পত্তি বা বিশেষ কোন সুপারিশ না থাকলে মিলছে না ব্যাংক ঋণ।
নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্ঠির কথা বললেও শুধু মাত্র ব্যাংক ঋণের অভাবে। শিক্ষিত যুবকদের যোগ্যতা থাকার পরও মিলছে না ব্যাংক ঋণ।

অন্য দিকে বিশেষ সুপারিশ বা সুনজর প্রাপ্ত কোন ব্যাক্তি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ছাড়াও ঋণ পেতে কোন সমস্যা হয়না। শুধু তাই নয় ব্যাংক গুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে থাকার পরও কারও কোন দৃষ্ঠি নেই। বার বার গনমাধ্যমে আসার পরও কোন ইতবাচক পদক্ষেপ চোখে পড়ছেনা।

অপরদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা আরো করুন। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক হওয়ার সুবাদে ব্যাংকের থেকে নতুন করে গ্রাহক সংগ্রহের কোন উদ্যোগও এ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান ছাড়া ফাইল নড়ে না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোক্তভুগী অভিযোগ করেছেন।
 
এসএমই লোন,কৃষি ভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও মহিলা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করনের লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান সহ বিভিন্ন প্রকার ডিপোজিট স্কীম চালুর কথা থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারন ভুক্তভোগীরা এসম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারছেনা। কোথায় কখন কিভাবে এসকল ঋণ পাওয়া যাবে আর কিভাবে এর ব্যাবহার হবে সে সম্পর্কে কিছুই জাওে না অনেক গ্রাহক। আর জানলেও হয়রানীর শেষ নেই।

বেসরকারী ব্যাংকে কিছুটা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে যেন তার কোন বালাই নেই। ঠিক একই চিত্র ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও।
সম্প্রতি উদ্বেগজনক অবস্থায় সোনালী ও জনতা ব্যাংকের ঋণ পরিস্থিতি। ব্যাংক দুটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণও ভেঙে পড়েছে। মনে করা হচ্ছে শুধু মাত্র সরকারি বলেই টিকে আছে এই দুটি ব্যাংক। অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের পরিস্থিতিও ভালো নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মনীতি মেনে চার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। ‘স্পেশাল ডায়াগনস্টিক রিভিউ এক্সামিনেশন’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোনালী ও জনতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বা অ্যালার্মিং। বিধান হচ্ছে, ফলাফল উদ্বেগজনক হলে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। সরকারি ব্যাংক বলেই সেই পথে যাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মৌলিক পুনর্গঠন প্রস্তাব না করে নতুন করে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগাতে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। এমনকি রাষ্ট্র খাতে একসময়ের গর্ব করার মতো বেসিক ব্যাংকও তাদের মূলধনের জন্য সরকারের কাছে ৩৫০ কোটি টাকা চেয়েছে।
হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, মাদারটেক, মাদার স্পিনিংসহ বড় বড় সব ঋণ অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাকে অত্যান্ত নাজুক করেছে। আর ব্যাংক পরিচালনায় অদক্ষতা ও পরিচালনা পর্ষদের রাজনীতিকরণের কারণে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, রাষ্ট্র খাতের বিশেষত সোনালী ও জনতা ব্যাংকে যেভাবে ঋণ আটকে পড়েছে, তাতে আপাতত মূলধন পুনর্ভরণ দিয়ে ঠেকানো গেলেও আবারও মূলধনের দরকার হবে। সাধারণ মানুষের করের টাকা ব্যাংকগুলোতে দেওয়ার আগে প্রয়োজন এর পুনর্গঠন। এ পর্যায়ে ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনাতে পরিবর্তন আনা জরুরি। আর ঋণ গ্রহনে আগ্রহীরা যাতে সহযে ব্যাংক থেকে ঋণ পায় এবং আস্থা না হারায় ব্যাংককে সে ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

প্রতিটি দেশ ই চেষ্টা করে কিভাবে ব্যাংককিং সেক্টরকে সঠিক ভাবে পরিচালিত করা যায়। জনসাধারণের টাকাকে একত্রিত করে তা নিয়ম নীতি অনুযায়ী তাদের মধ্যে ঋণ হিসাবে বিলি করা। আর এ ক্ষেত্রে হয়রানী কোন ভাবে কাম্য নয়। কারণ জনসাধারণকে ব্যাংকের প্রতি সন্তুষ্ট করতে না পারা দেশের অর্থনীতির জন্য চরম এক হুমকির কারণ।

বাংলাসংবাদ২৪/এনএম/ইসরাফিল

আরও সংবাদ