Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার

Published:2013-09-13 23:20:46    
এস এম সাকিল আহমেদ
 
 
ঢাকা: দেশে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে আদালতে মামলার সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বর্তমান সময়ে একটি স্মার্ট ও সমসাময়িক পেশা হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আইন পেশাকে। এজন্য একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পাশাপাশি আইনের প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে আত্ত্বস্থ করতে হবে। কিন্তু কোথায় পড়লে ভালোভাবে পড়ার সাথে সাথে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়া যাবে একজন ভালো মানের আইনজীবী হিসেবে। আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেশকিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়কে গুরত্বসহকারে পড়ানো হচ্ছে। বর্তমান সময়ে আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন সেক্টরে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্ব চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের সকল পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির পরীক্ষায় নর্দান বিশ্ববিদ্যাল পরপর ৬ বার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের বাহির থেকে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এছাড়া বাংলাদেশ জুডিসিয়ারি কাউন্সিলের প্রকাশিত গেজেটে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে আইন বিভাগে এই সুনামের অধিকারী অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার ও অ্যাডমিশন বিভাগের ইনচার্জ মোঃ আবুল হোসাইন এসব ধারাবাহিক সফলতার কথা বাংলাসংবাদ২৪ ডট কমকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান।
 
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইন বিভাগে নর্দান প্রথম স্থান দখলকারী একটি প্রতিষ্ঠান। 
 
রাজধানীর ইকবাল রোডে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করার পর ক্রমান্বয়ে শিক্ষার্থী বাড়তে থাকায় ধানমন্ডিতে তাদের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২০০৭ সালের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষটি জরুরী বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলে স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কাওরান বাজারের কাজী নজরল এভিনিউয়ে ২০০৫ সালে ১৬তলা একটি বিল্ডিং ক্রয় করে নর্দান। তারপর যথারীতি বিল্ডিংটিকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসাবে এবং প্রশাসনিক বিল্ডিং হিসাবে নথিভূক্ত করার জন্য সরকারকে অবহিত করে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-সেনাবাহিনী সংঘর্ষ হওয়ার পর ভিআইপি রাস্তার পাশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থাকতে পারবে না এবং থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে মর্মে একটি আদেশ জারি করা হয়। 
 
সরকারের আদেশকে মান্য করে বহু টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা কাওরান বাজার ক্যাম্পাস থেকে বিজ্ঞান অনুষদটি বনানীতে স্থানান্তর করা হয় এবং কারওয়ান বাজারের ক্যাম্পাসটিকে ক্যাম্পাস না রেখে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও আইন অনুষদ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তদুপরি কলা ও আইন অনুষদ দুটি ২০১৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলার সুযোগ চেয়ে সরকারের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। কিন্তু সরকার ঐসব আবেদনের কোন জবাব না দেয়ায় বিষয়গুলি এখানো সমাধানের পথে যায়নি। 
 
যার ফলশ্রুতিতে সিএসই, ইসি, ট্রিপল ই এবং টেক্সটাইল এই চারটি বিভাগ নিয়ে ২০০৯ সালে বনানীতে নতুন করে ক্যাম্পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। যাকে বর্তমানে নর্দানের মূল ক্যাম্পাস হিসেবে খাতা কলমে দেখানো হয়। প্রায় পনের হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে সুন্দর একাডেমীক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টায় কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান মোঃ আবুল হোসাইন। 
তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় নর্দান আপোষহীন। 
 
সরকারের বেঁধে দেয়া পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে হবে এমন আদেশের খানিকটা সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র 
পাঁচ বছরের মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও গুনগত মান ঠিক রেখে চাহিদানুযায়ী ক্যাম্পাস করা সম্ভব নয়। এটা একটি দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাপার বলেও জানান তিনি। দেশের কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই সরকারের বেঁধে দেয়া ৫ বছরের মধ্যে ক্যাম্পাস গড়তে পারেনি এবং সম্ভবও নয় বলেও তিনি জানান।
 
নর্দান কতদিনের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১১ সালে সাভারের সারাবোতে ১৯ বিঘা জমি ক্রয় করে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে দূর হওয়ায় নতুন করে আমিনবাজারে ৫ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ার ক্ষেত্রে অনেক খানি কাজ করবে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।
 
ঢাকার বাহিরে গড়া রাজশাহী ও খুলনায় নর্দানের ক্যাম্পাস আউটার ক্যাম্পাস দুটো অবৈধ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম রেজিস্ট্রার বলেন, ২০০১ সালের সরকারী সার্কুলারের নির্দেশ মান্য করে এ দুটি আউটডর ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে সরকার আরেকটি সার্কুলারের মাধ্যমে ২০০১ সালের সার্কুলারটি বাতিল করেন। অথচ এই ছয় বছরের মধ্যে ক্যাম্পাস গুলোকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সুন্দর করে সাজিয়ে পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অসংখ্য শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়েছে। তাদের পড়ালেখা যথাযথভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। তাহলে আইনগতভাবে আউটার ক্যাম্পাস চালু করার পর হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই তা গুটিয়ে ফেলার আদেশ কতটা যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্ন তোলেন মোঃ আবুল হোসাইন। 
 
নর্দান শতভাগ গুনাগুণ রক্ষা করে ক্যাম্পাস দুটো চালাচ্ছে। সরকারের এমন সার্কুলারের পর হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে আইনগত বৈধতা নিয়ে বর্তমানে নর্দান তাদের রাজশাহী এবং খুলনায় আউটার ক্যাম্পাস পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। এটি এখন বিচারাধীন বিষয়। সুতরাং ক্যাম্পাস দুটিকে অবৈধ ক্যাম্পাস বলার সুযোগ সরকার তথা কারো নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে সকল ক্লাস রুমগুলোকে ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে। ক্লাস রুমে অনলাইন সুবিধা, ওয়াই ফাই সুবিধা, অনলাইনের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল দেশের বৃহৎ লাইব্রেরী থেকে বই খোঁজাসহ সমৃদ্ধ লাইব্রেরী গঠন করা হয়েছে বলে বাংলাসংবাদ২৪ ডট কমকে জানানো হয়।
 
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল দশ বছর হলেও মাত্র দুটো কনভোকেশন হয়েছে কেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২০০৭ সালে প্রথমবার, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার কনভোকেশন করেছি এবং এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর কনভোকেশন করার প্রচেষ্টায় ২০০৯ সালেও কনভোকেশন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অবৈধ আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ না করলে কোন কনভোকেশন করা যাবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অথচ আউটার ক্যাম্পাসের ব্যাপারটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সুতরাং শুধুমাত্র এ ব্যাপারকে পুঁজি করে কনভোকেশন করতে অনুমতি না দেয়াটা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন অ্যাডমিশন বিভাগের এই ইনচার্জ। 
 
দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত জাতি এবং সুন্দর দেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং সরকারী আর বেসরকারী বলে বিভেদ সৃষ্টি করে সুন্দরভাবে জাতি গড়ার কাজকে প্রভাবিত না করার আহ্বান জানান নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার মোঃ আবুল হোসেন।
 
বাংলাসংবাদ২৪/বিএইচ
 

আরও সংবাদ