Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun August 19 2018 ,

আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ৯ অভিযোগ

Published:2013-09-14 12:04:31    

ঢাকা : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে নয় অভিযোগ এনে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রসিকিউশন এ তদন্ত প্রতিবেদন রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন।

শনিবার এক সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান পিপিএম। বেলা সোয়া ১১ টায় ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে তদন্ত সংস্থার অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

হান্নান বলেন, জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় বছরে তদন্ত কাজ সমাপ্ত করেছে। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ ৪৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, মাওলানা সোবহান ১৯৩৬ সালে পাবনা জেলার সুজানগর থানাধীন মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকুন্ডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় তালাবিয়া আরাবীয়া সংগঠনের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি ছিলেন পাবনা জেলার জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির এবং কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য।

১৯৭০ সালে তিনি জামায়াতে ইসলাম থেকে পাবনা সদর আসনে এম.এন.এ নির্বাচন করে পরাজিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তথাকথিত উপ-নির্বাচনে পাবনা সদর আসন থেকে এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাত্রে “অপারেশন সার্চলাইট” নামে অভিযানের শুরুতে তিনি পাকিস্তানি আর্মির সাথে পাবনা জেলায় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। তার নেতৃত্বে পাবনা জেলার বিভিন্ন থানায় পিস কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও মুজাহিদ বাহিনী গঠিত হয়।
 
তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে নয় অভিযোগ:

১. ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল ঈশ্বরদী তিনি তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামের নেতাসহ বিহারীদের নিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া স্বাধীনতাকামী লোকদের অপহরণ করে হত্যা করেন

২. ১৯৭১ সালে ১৩ এপ্রিল তার নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী যুক্তিতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লুটপাটসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ৫ জন নিরীহ-নিরস্ত্র লোককে হত্যা ও ৩ জনকে গুরুতর আহত করে।
 
৩. ১৯৭১ সালে ১৬ মে ঈশ্বরদী অরণখোলা গরুর হাট থেকে ২ জন লোককে অপহরণ করে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো (ঈশ্বরদী, পাবনায়) নিয়ে নির্যাতন করে।
 
৪. ১৯৭১ সালে ২ মে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিরা ঈশ্বরদী সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট, বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে।
 

৫. ১৯৭১ সালের ১১ মে সোবহানের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে পাকিস্তানি আর্মিরা পাবনা সদর থানাধীন কুলনিয়া ও দোগাছি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন নিরীহ-নিরস্ত্র ও স্বাধীনতাকামী লোককে হত্যা করে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
 
৬. ১৯৭১ সালের ১২ মে সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মির একটি বহর সুজানগর থানাধীন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জ্ঞাত-অজ্ঞাত ৩/৪ শত জন লোককে হত্যা করে। বিভিন্ন লোকজনের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
 
৭. ১৯৭১ সালের ২০ মে সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিরা পাবনা সদর থানাধীন ভাড়ারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন নিরীহ লোককে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রামের একটি স্কুলে হত্যা করে। অপর ১৭ জনকে পাবনা সদর নূরপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে আটক করে নির্যাতন চালায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটঘরিয়া থানাধীন দেবোত্তর বাজারের পাশে বাঁশবাগানে গুলি করে হত্যা করে। ধরে ধরে যাওয়া বাকি অন্যদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
৮. ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের যে কোনো দিন মাওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে আতাইকুলা থানাধীন (সাবেক পাবনা সদর থানা) দুবলিয়া বাজার থেকে ২ জন স্বাধীনতাকামী লোককে অপহরণ করে কুচিয়ামাড়া গ্রামে একটি মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
৯. ১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর মাওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে ঈশ্বরদি থানাধীন বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটসহ বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ৪ জন লোককে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক দেখিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়  ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ১ অক্টোবর মাওলানা আব্দুস সোবহানের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে একই সঙ্গে ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া মাওলানা সোবহানকে (সাবেক সংসদ সদস্য) ও তার বয়সের কথা বিবেচনা করে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন (প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা) দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন মাওলানা সোবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন এ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আব্দুস সোবহানকে একটি মামলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল গোয়োন্দা পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

- See more at: http://news.iportbd.com/law-court/2013-09-14-12-34-01-1-17300#sthash.2IHgwf7i.dpuf

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক দেখিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়  ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ১ অক্টোবর মাওলানা আব্দুস সোবহানের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে একই সঙ্গে ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া মাওলানা সোবহানকে (সাবেক সংসদ সদস্য) ও তার বয়সের কথা বিবেচনা করে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন (প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা) দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন মাওলানা সোবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন এ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আব্দুস সোবহানকে একটি মামলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল গোয়োন্দা পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

- See more at: http://news.iportbd.com/law-court/2013-09-14-12-34-01-1-17300#sthash.2IHgwf7i.dpuf

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক দেখিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়  ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ১ অক্টোবর মাওলানা আব্দুস সোবহানের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে একই সঙ্গে ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া মাওলানা সোবহানকে (সাবেক সংসদ সদস্য) ও তার বয়সের কথা বিবেচনা করে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন (প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা) দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন মাওলানা সোবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন এ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আব্দুস সোবহানকে একটি মামলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল গোয়োন্দা পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

বাংলাসংবাদ২৪/আরু/এসএস/এসএ

আরও সংবাদ