Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

চিকেন কাবাব উইথ ভেজিটেবেল

Published:2013-09-28 21:47:41    

ঢাকা : অনেকদিন রান্নাঘরে যেতে পারছি না। আজ এটা কাল ওটা, তার পর সময়ও পাচ্ছিলাম না। সারাদিনের অফিস এবং রাতে বাসায় ফিরা, ছেলের পরিক্ষা সামনে। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে গেলে কাছে এসে গল্পে লেগে যায়! কত কি পরিবারের জন্য চিন্তা করতে হয়।

গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভাবলাম কিছু একটা রান্না করি। রাতে আমাদের পাশের বাসার দিনি’র জ ন্মদিন। গানাবাজানার সাথে ভাল খাবার দাবারও হবে। কিছুতেই তিনি আমাকে রান্না ঘরে যেতে দিতে রাজি নন। কিন্তু দুপুরের খাবারতো নিজদের রান্না করতে হবেই। বাসায় কয়েকটা চিকেন পিস আছে, আমি তাড়াহুড়া করে বাজারে গিয়ে একটা কেপসিকাম, কয়েকটা টমেটো ও গাঁজর কিনে আনলাম। শুক্রবারের নামাজ পড়ার একটা চাপও মাথায় আছে। নামাজের আগে পরে খুব কম সময়ে এমন একটা চিকেন কাবাব বানিয়ে ফেললাম।

আমার চিকেন কাবাব উইথ ভেজিটেবল আমি খেলাম রুটি দিয়ে আর ব্যাটারী ও বুলেট খেলেন সাদা গরম ভাত দিয়ে! চলুন দেখি ফেলি। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে এবং আপনারা বাসায় বানিয়ে খেয়ে দেখবেন।



উপকরণ : ক্যাপসিকাম, টমেটো, গাঁজর ও কয়েকটা পেঁয়াজ কিউব করে কেটে নিন। ধুয়ে ঝুলিয়ে নিন। সামান্য সময়ের জন্য সিদ্ব করে (রং নষ্ট না করে) সবজি গুলো নরম করে নিন।


চিকেন কেটে তাতে এক চামচ আদা, এক চামচ রসুন, হাফ চামচ গুড়া মরিচ, দেড় চামচ টমেটো সস, লবন, সামান্য ভিনেগার, সামান্য রেড সয়াসস, একচিমটি পাপড়িকা (এটা না হলে নাই) এবং সামান্য তুলসিপাতা গুড়া (ঘ্রানটা ভাল লাগবে, না হলে নাই, আমাদের ছিল বলে দিয়েছি) দিন।

ভাল করে মাখিয়ে এক ঘন্টার জন্য ম্যারিউনেটেড করে রাখুন।


প্যানে তেল গরম করে এবার চিকেন গুলো ভেজে নিন। তেল কম হবে। গোসত থেকে পানি বের হয়ে আসবে তাই চুলার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে ভাজুন।

ঢাকনা দিতে ভুলবেন না। এতে মাংস নরম হয়ে ভিতরটাও সিদ্ব হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে এপিট ওপিট করে দিন।

ঠিক এমন একটা পর্যায়ে এসে যাবে। ছুরির মাথা দিয়ে খুঁচিয়ে ভিতরটা দেখে নিতে পারেন, নরম হল কিনা। এবার চিকেন কাবাব হয়ে গেল এবং তুলে ঢাকনা দিয়ে রাখুন।

চিকেন ম্যারিউনেটেড করার বেঁচে থাকা বাকী রস (এটাকে কি বলব বুঝতে পারছি না) এর সাথে কয়েকটা কাঁচা মরিচ ও আরো এক চামচ টমেটো সস মিশিয়ে নিন।

এবার অন্য একটা কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে সবজি গুলো ভাঁজতে থাকুন। সামান্য লবন দিতে ভুলবেন না। ভাজি হয়ে গেলে এবার সেই রস/ঝোল গুলো দিয়ে দিন।

এবার ভাল করে নাড়িয়ে ভাজুন। অনেকটা স্টার ফ্রাইয়ের মত। সামান্য ধনিয়া কুঁচি দিন, ভাল লাগবে। চাইলে ঝোল রাখতে পারেন, নতুবা মাখামাখা, নতুবা একদম ভাজাভাজা। আপনার ইচ্ছা যেমন।

ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। চিকেন কাবাব সাথে নিয়ে পাশাপাশি ভেজিটেবল গুলো দিয়ে দিন।


এই ছিল আমার দুপুরের খাবার। আমার ছেলে বুলেট এই চিকেন কাবাব খেয়ে আমাকে জানাল, বাবা তোমার জুড়ি মেলা ভার! তুমি না থাকলে এমন মজাদার খাবার খাওয়া হত না।

এখন কথা হচ্ছে এই তিনপিস কাবাব ও ভেজিটেবল রান্না করতে আমাদের কত টাকা খরচ হয়েছে। আমি হিসাব করে দেখলাম প্রায় একশত পচাত্তর  টাকা মাত্র। তবে এই খরচ আরো কমিয়ে ফেলা যেত যদি ক্যাপসিকাম অর্ধেক ব্যবহার করা হত। এক পিস ক্যাপসিকামের দাম হয়েছিল পঞ্চাশ টাকা, এখানে পঁচিশ টাকা বেঁচে যেত।

কিন্তু ভেবে দেখুন সাধারন হোটেলে এমন এক প্লেট কত টাকা হবে। কাজে কাজেই আমাদের সবাইকে বাসায় রান্না করতে হবে। কম টাকায় ভাল এবং বিশুদ্ব খাবার বাসা ছাড়া আর কোথায় পাওয়া যাবে!


বাংলাসংবাদ২৪/রেসিপি/ইএফ