Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed April 21 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

তদবিরের জন্য মন্ত্রীদের ঘুম আসে না

Published:2013-10-01 10:46:36    


মোমিন মেহেদী: যে দেশে তদবিরের চাপে মন্ত্রীদের ঘুম আসে না, সে দেশে শাস্তি আসতে পারে না। কেননা, একজন মন্ত্রী যখন তদবির করে অন্যায়-দূর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজকে সহায়তা করে তখন সেখানে-সেই দেশে সবাই বেপোরোয়া হয়ে যায়।

যে কারনে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আজ দিশেহারা-বেপোরোয়া। তারা কথায় কথায় মানুষ খুন করছে। সরকার আর তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য-সংসদ সদস্যগণ সেই বেপোরোয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের খুন-হামলা-মামলাকে তদবিরের রাস্তায় এগিয়ে যেতে যেতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন, অনুপ্রাণিত করছেন।

বিশেষ করে মিল্কী হত্যা মামলার কথাই যদি বলি, তাহলে বলা যায়, মিল্কী হত্যার মূল নায়ক ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝখানে যারা কিলার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন সেই সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা ওহিদুল ইসলাম আরিফসহ বেশকিছু নেতাকে আড়ালে রাখতে তারেকসহ আরো দু'জনকে খুন করা হলো তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে কিন্তু জনগন এই ক্রশফায়ারের নেপথ্য জেনে গেছে।

তারা এ-ও জানে যে, জনগনকে বোকা বানাতে তৈরি রাজনৈতিক তিনটি দল একের পর খুনের রাস্তায় হেটে হেটে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়। আজ যে মন্ত্রী তদবিরের জন্য ঘুমাতে পারছেন না। কাল সেই মন্ত্রী যখন সাবেক হবেন, তখন তার বিরুদ্ধে যে মন্ত্রী তৈরি হবেন, তিনিও আবার একই পন্থায় তদবিরের জন্য ঘুমাতে পারবেন না।

এর পেছনে রয়েছে মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতির জন্য নিবেদিত ত্যাগী নেতাদের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিশাপ।
ক্ষমতার রাজনীতিতে তৈরি আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার মূল সংগঠন হয়েও বিভিণ্ন সময় কেবলমাত্র ক্ষমতার রাজনীতির কারনে নিজেদেরকে, নিজেদের দলকে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের হাতে তুলে দিয়েছে। এমনকি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়েও আ'লীগের মন্ত্রী-এমপিরা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের ব্যাংক ইসলামী ব্যাং বন্ধের চেষ্টা না করে, বরং ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে মোটা মোটা দাগের লোন নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের কথায় উঠেছেন এবং বসেছেন।

আর এই সুযোগেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গতিহীন হয়েছে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হয়ে শক্তিশালী হয়েছে একই সাথে তারা আওয়ামী লীগের মত স্বাধীনতার স্বপক্ষের মূল দলকে কাঁচ কলা দেখিয়ে একের পর এক আন্দোলন করেই যাচ্ছে। যার নেপথ্য, কেবলই টাকার কাছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিক্রির ইতিহাস।

আজ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, সরকারের শেষ সময়ে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করা কঠিন। ক্রমবর্ধমান তদবিরের মুখে কাজ করা মুশকিল। এমনও দাবি আসে যাতে রাতে ঘুম হয় না। ক্রমবর্ধমান তদবিরের চাপ থাকলেও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের করিডোর মাছের বাজার হতে দেইনি। এজন্য অনেক কাছের লোক দূরে চলে গেছেন। সরকারের শেষ বেলায় এমনটি হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় চালককে অভিযুক্ত করে তদন্ত ছাড়া ৩০২ ধারায় মামলা করা যাবে না’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইনের বাইরে যাওয়া যাবে না। ৩০২ ধারা সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন তা জানি না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করবো। জাতীয় নির্বাচনের তারিখ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন আগের মধ্যবর্তী সময়ে নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে জানুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে।’

নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে তিনি বলেন, ‘অক্টোবরে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার (যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার) সরকারের বাকি মেয়াদে উদ্বোধন হলে জনগণ খুশি হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে দেশে ফিরলে অক্টোবরে এর উদ্বোধন হতে পারে। ঈদে যাতে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে। রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। এঙ্লে লোড কন্ট্রোল স্টেশন চালু করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছি। তবে সব জায়গায় নীতিমালা অনুযায়ী চলা যায় না।

হবিগঞ্জের জগদীশপুরে একটি মহল এঙ্লে লোড স্টেশন স্থাপনে বারবার বাধা দিচ্ছে। তবে রাস্তা ও সেতু রক্ষার জন্য এ স্টেশনের কোনো বিকল্প নেই।’ মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এদেশে অনিয়মের পোকা খুঁজতে খুঁজতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা যায়। এতে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়। বর্তমানে সারাদেশে পাঁচটি এঙ্লে লোড কন্ট্রোল স্টেশন চালু রয়েছে। তিনটি বন্ধ রয়েছে। ১০টি স্টেশন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আরো আটটি স্টেশন স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

আমার রাজনীতি ও সাহিত্যনীতির উৎসাহক কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এখন অবশ্য সেই কথাটি একটু পরিবর্তন হয়েছে। আর তা হলো উদ্ভট নেতৃত্বে চলেছে স্বদেশ। কিন্তু এভাবে আর কতকাল? এমন প্রশ্ন নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে তারা মুক্তি চায়। তারা শান্তি চায় আর তাই মন্ত্রী-এমপিদেরকে চায় দুর্নীতিহীন-স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাহসী-সৎ এবং নিরন্তর এগিয়ে চলা দূরন্ত সম্ভাবনার রাজনীতিক হিসেবে। যারা বঙ্গবন্ধুর মত মৃত্যুর দুয়ারে দাড়িয়েও বলবেন, আমি আমার দেশের এবং মানুষের শান্তি চাই। স্বাধীনতা চাই।

এমন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। সারাদেশে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ। তারা রাজনীতি করছে তৃণমূল থেকে এই ইস্যু, সেই ই্স্যুতে প্রতারণা করে, জনগনকে বোকা বানিয়ে লংমার্চ-শর্টমার্চ করে দেশ ও মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে নয়্ তারা শান্তির পথে এগিয়ে যেতে যেতে তৈরি হতে চায় আমাদের সুন্দর আগামীর জন্য আর তাই কোন মন্ত্রীকে যেন তদবিরের জন্য ভাবতে না হয়। সে জন্য নিবেদিত হতে হবে বাস্তবতার রাজনীতির জন্য, সততার রাজনীতির জন্য।

অবশ্য সেক্ষেত্রে জনগনকেও রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর সেই ভূমিকাটি হলো- আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে তৈরি দূর্নীতিবাজ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত বর্তমান বা সাবেক মন্ত্রী-এমপি এদেরকে বয়কট করুন। যারা নির্বাচনের আগেই কেবল আপনাদের দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে এদের কপালে ঝাড়ুর বাড়ি দিন, জানিয়ে দিন আপনি-আপনারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা-ঈসা খাঁ-মওলানা ভাসানী, সোহরাওর্দী-শেরেবাংলা-বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করেন। যারা রাজনীতি করেছেন নিজেদের জন্য নয়, দেশের জন্য মানুষের জন্য নিবেদিত থেকে...

বাংলাসংবাদ২৪/এনএম

আরও সংবাদ