Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed December 19 2018 ,

  • Advertisement

শৈব ধর্ম ও দর্শনের রুপরেখা

Published:2013-10-03 22:09:59    

ঢাকা : হিন্দু ধর্মের বহু দেবদেবীর পূজা অর্চনার পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে । বহু দেবদেবীর আরাধনা, হিন্দু ধর্মের এক বিশেষ দিক। যিনি যে দেবতাকে পরম আরাধ্যরূপে ধ্যান-ধারণা, পূজা-অর্চনা করে থাকেন তিনি ঐ আরাধ্য দেবদেবীর নামেই পরিচয় লাভ করেন।

তাই দেখা যায় শক্তিকে যারা আরাধনা করেন তারা হলেন শাক্ত, শিব বক্তরা হলেন শৈব,গনপতির উপাসকরা হলেন গনপাত্যনামে পরিচিত।ব্যাকরনের দৃষ্টিতে শৈব শব্দটির উৎপত্তি লক্ষণীয় শিবঃ অস্য দেবতা (শিব+অন্) অর্থে শৈব শব্দ গঠিত হয়। তাহলে কথাটি দাঁড়াঁল শিবকে যাঁরা পরম দেবতারুপে আরাধনা করেন তারাঁই হলেন শৈব। যাঁরা জীবনে সত্য সুন্দর ও কল্যাণকে আদর্শ হিসেবে গ্রহন করেছেন, তারাই প্রকৃত অর্থে শিব বক্ত।

হিন্দু ধর্মের দেব ভাবনায় ‘ব্রহ্মা’ ‘বিষ্ণু’ ও মহেশ্বরের’ কথা এসে পড়ে। ব্রহ্মাকে বলা হয়েছে তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা। আর এই সৃষ্টিকে ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়,তখন ঐধ্বংসকারী দেবতারুপে শিবকে চিহ্নিত করা হয়। সংক্ষেপে সৃষ্টির অমঙ্গল,অকল্যাণ বিনাশ করে নতুন,শুভ,মঙ্গলময়,সৃষ্টির পরিবেশ প্রধান করেন ‘শিব’। শিবের অসিম ক্ষমতা, অপরিময় শক্তি, অনন্ত করুণা। দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বল তিনি হলেন মহাদেব।

ঈশ্বরীয় শক্তির সর্বোচ্চ প্রকাশে শিব হলেন মাহাদেব। ঈশ্বরীয় শক্তির সর্বোচ্চ প্রকাশে শিব হলেন মহেশ্বর। অল্পে তুষ্ট হন বলে আশুতোষ।জীব বা পশুর অধিপতি হয়ে শিব হলেন পশুপতি। এছাড়া তার আরো অনেক নাম রয়েছে।

যেমন- রুদ্রভব,শর্ব,ঈশান প্রভৃতি। শিবের রুপ কল্পনার মধ্যে দেখা যায় কখোন তার এক মুখ,কখনো তার পাঁচ মুখ।  এই পাচঁ মূখবিশিষ্ট শিবের নাম হল পঞ্চনন। এছাড়া শিবের রয়েছে দুটি হস্ত ও তিনটি নেত্র;  লরাটের চক্ষুটি ক্রুদ্ধ অবসহায় অনাবল বর্ষন করে। তিনি জটাজুটধারী। ত্রিশূল,ডমরু,ও শিংগা তার বাদ্যন্ত্র।তিনি সর্পকে করেছেন অঙ্গের ভূষন গলায় তার রুদ্রাক্ষের মালা। তার পরিধানে রয়েছে ব্যাঘ্রচর্ম।বাহন তার ষাঁড়। যে কোন সময় বিল্বপত্র, ধুতরা, আকন্দ প্রভৃতি পত্রপুষ্প দিয়ে তাঁর অর্চনা হয়ে থাকে। সারা বছরই তাঁর পূজা হতে পারে।

তবে বিশেষভাব ফালগুন মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিত শিবপূজার বিধান রয়েছে। এই তিথিকে বলা হয় শিব চতুর্দশী। এই চতুর্দশী রাত্রি হলো শিবরাত্রি। অশেষ গুণ ও কৃতিত্বের অধিকারী এই শিব দেবতা।

তিনি অন্যান্য দেবতাকে অনেক বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। নিধন করেছেন অনেক দুর্বৃত্ত অশুরকে। সমুদ্র মন্থনকালে উত্থিত বিষ তিনি কণ্ঠে ধারণ করে বির্বিষ। আর তিনি হয়েছেন নীলকণ্ঠ। নাট্য ও নৃত্যে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শিবকে নটরাজ। এই শিবকে কখনো মূর্তিতে, কখনো বিশেষ প্রতীকে বা লিঙ্গে পূজা করা হয়ে থাকে। শিবভক্তগণ শিবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে:
“নমঃ শিবায় শান্তায় কারনত্রয়হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানাং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বরঃ।”
অর্থাৎ সৃষ্টি স্থিতি ও বিনাশ এই তিনটি কারণের হেতু, শান্ত শিবকে প্রণাম। হে পরমেশ্বর, তুমি গতি, তোমার কাছেই নিজেকে করছি সমর্পণ।


বাংলাসংবাদ২৪/ইসরাফিল

আরও সংবাদ