Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

নির্বাচনকে সামনে রেখে জমজমাট অস্ত্র ব্যবসা !

Published:2013-10-06 15:27:35    

ঢাকা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হলেও চলতি বছর একবারও অভিযান চালানো হয়নি অস্ত্রের কারখানায়। র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করলেও তার উৎস উদঘাটন না হওয়ায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তাই নির্বিঘ্নেই তৈরি করা হচ্ছে অস্ত্র।

র‌্যাব সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫১০টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। একই সঙ্গে ২৪০১ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ এবং ৬৯৮টি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে ৪৫ হাজারের মতো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২ হাজারেরও বেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ২০১১ সালে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা ছিল ২২৩৪টি, ২০১০ সালে ২৮১১টি, ২০০৯ সালে ১২০৬টি, ২০০৮ সালে ৩০৯৫টি, ২০০৭ সালে ৩৬৫৪টি, ২০০৬ সালে ২৭৬৭টি, ২০০৫ সালে ৩০৭৪টি। ২০১৩ সাল নির্বাচনের বছর হওয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার হলেও তার উৎস কোথায় তা প্রশাসনের অজানাই থেকে যায়। পাচারকৃত অস্ত্রের কোনও চালান ইতোমধ্যে ধরা পড়েনি। বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের সোর্সরাও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় তা প্রশাসনের অজানাই থেকে যায়। সোর্সরাও অস্ত্র বিক্রি করতে নিজেরাই গড়ে তুলেছে অস্ত্রের কারখানা। আগামী নির্বাচন ও হরতালে নাশকতার জন্য ব্যবহার করতে অস্ত্রের কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কারখানার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সঠিক তথ্য তেমন পায় না। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের তথ্য দিতে কেউ সাহস করে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনও অস্ত্রমামলায় কেউ সাক্ষীও দেয় না। সম্প্রতি কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও মহেশখালী থানায় দায়েরকৃত অধিকাংশ অস্ত্রমামলায় তেমন সাক্ষী পায়নি পুলিশ। এ ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করে তদন্তে গাফিলতি করার অভিযোগও রয়েছে।

এক রাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া এলাকা থেকে ৯টি বন্দুক, ১০ রাউন্ড গুলি ও ২টি ককটেল এবং ফেনী সদর থেকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

একাধিক সূত্র জানায়, দেশের ৬০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রায় দেড়শ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের চালান আসছে। এ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি অধিকাংশ অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে সারা দেশে। যার অধিকাংশ উৎপাদিত হচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায়। সহজলভ্য হওয়ায় তা সহসাই ক্রয় করতে পারে সন্ত্রাসীরা। উঠতি বয়সী সন্ত্রাসীদের দেশে তৈরি অস্ত্রই প্রিয়।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে। প্রভাবশালী নেতারা অস্ত্র সংগ্রহের জন্য পেশাদার অস্ত্র কারবারিদের ব্যবহার করছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও দক্ষিণাঞ্চলে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক গডফাদার ও প্রভাবশালী অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছে ৩৫টি শক্তিশালী সন্ত্রাসী গ্রুপ । র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, সারা বছরই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকে। এসব অভিযানে উদ্ধারকৃত অধিকাংশই ক্ষুদ্র অস্ত্র। যার দুই-তৃতীয়াংশই বিদেশি অস্ত্র।

বিদেশি অস্ত্রের মধ্যে প্রধানত আমেরিকা, ব্রাজিল, স্পেন, ইতালির তৈরি পিস্তল বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ দেশি অস্ত্রের মধ্যে ক্ষুদ্র অস্ত্রের সঙ্গে বড় অস্ত্রও আছে। যেমন কাটা রাইফেল, পাইপগান, একে-২২, একে-৪৭, এলএমজিসহ বিপুল গোলাবারুদ।

অস্ত্র স্থানান্তরের বিষয়ে পুলিশের এক উর্ধঃতন কর্মকর্তা বলেন, অভিনব পন্থায় অস্ত্র চোরাচালান করা হচ্ছে। কখনও বাংগি, তরমুজের মধ্যে করে অস্ত্র পাচার করা হচ্ছে। আবার অনেক সময় নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্ত্র নিয়ে যারাই ধরা পড়ছে তারা মূলত বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অস্ত্রগুলো হাত বদল হওয়ায় চোরাকারবারিদের সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে খুব কমই ধরা পড়ছে।

তবে বাংলাসংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ গত ৮ সেপ্টেম্বও ২০১৩ইং ”অপরাধী ও জঙ্গীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বিশেষ অভিযান” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দেয়া কথা আজও জনগন মাঠে দেখতে পায়নি। আবার নতুন করে প্রশাসন নড়েচড়ে বসছে বলে ডিএমপি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

বাংলাসংবাদ২৪/জিসান/এসএস
 

আরও সংবাদ