Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue September 25 2018 ,

জামালপুরের ৫টি আসনে দুই জোটের প্রার্থী ৩১জন

Published:2013-10-08 20:57:57    

জামালপুর প্রতিনিধি : আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে সংশয় থাকলেও থেমে নেই দুই জোটের প্রস্তুতি। জামালপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে এখন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের দলীয় টিকিট পেতে নতুন পুরাতন মোট ৩১জন প্রার্থী রিতিমত দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে।

প্রতিটি আসনে প্রধান দুই দলের মধ্যে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় দলীয় টিকিট পেতে নবীন-প্রবীনদের মধ্যে শুরু হয়েছে স্নায়ু যুদ্ধ। প্রধান দুই দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের অবস্থান জানান দিতে ইতোমধ্যেই নিজ-নিজ নির্বাচনী এলাকায় শুর করেছে কর্মী সম্মেলন ও সভা-সেমিনার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির  মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন গনসংযোগের মাত্রা।  

জেলা শহরসহ ৫টি সংসদীয় এলাকার অলি-গলি, হাটবাজার, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকা প্রার্থীর ছবি, ও দলীয় প্রতিক সম্বলিত বিলবোর্ড, ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা রংয়ের পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
           
গত নির্বাচনে  জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এদের মধ্যে দুই জন মন্ত্রী এবং একজন জাতীয় সংসদের হুইপ রয়েছেন। এরা হলেন- ভূমি মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ মির্জা আজম। অন্য দুই জন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ফরিদুল হক খান দুলাল এবং জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন।
স্বাধীনতার ৪২ বছরে এই জেলায় আর কখনো কোনো ক্ষমতাসীন দলের দুই জন একই সঙ্গে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেননি। সময় গড়িয়ে সরকারের মেয়াদ এখন শেষ হতে চলেছে, ঘনিয়ে এসেছে সরকারের পালা বদলের সময়।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন বঞ্চিতরা, অন্য দিকে বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের তৎপরতায় এখন সবগুলো আসনে নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কৌশলে নানামুখী প্রচার-প্রচারণায় নেতাকর্মীদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে তাদের ব্যর্থতা ও দোষ ত্রুটি তুলে ধরছেন। এর ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মতানৈক্য এবং দূরত্ব ততই বাড়ছে। মনোনয়ন নামের সোনার হরিণ কব্জা করতে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে প্রকাশ্যে বিরোধ।

জামালপুর-১ দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন। বর্তমান সাংসদ সংস্কৃতিমন্ত্রী আলহাজ আবুল কালাম আজাদ। গত সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদারের নামে মনোনয়ন ঘোষনা দেওয়া হলেও পরবর্তিতে শেখ সেলিমের ভাইরা ভাইয়ের সুবাধে মনোনয়ন পরিবর্তন করে আবুল কালাম আজাদকে দেওয়া হয়। নির্বাচনে বিএনপি’র মূল প্রার্থী সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত অংশ নিতে না পাড়ায় দলের ড্যামি প্রার্থী শাহিদা আক্তার রিতাকে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা চেয়াম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদারে সঙ্গে মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের কোন্দল চলে আসছে। বর্তমানে এ বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বকশীগঞ্জের চেয়ে দেওয়ানগঞ্জে উপজেলায় ভোট বেশি থাকায় এবং মন্ত্রী দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না করায় এবার দেওয়ানগঞ্জের মানুষ নিজ এলাকার প্রার্থী ইসতিয়াক হোসেন দিদারকেই এমপি হিসাবে দেখতে চাচ্ছে। এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ (মেডিসিন)।  বিএনপি থেকে সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সাবেক আইজিপি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) : এ আসনে বর্তমান এমপি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল। গত নির্বাচনে বিএনপি’র আলহাজ সুলতান মাহমুদ বাবুকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি। এ আসন থেকে এবার আওয়ামীলীগ থেকে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আলহাজ শাহজাহান আলী মন্ডল, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারী মন্ডল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ সুলতান মাহমুদ বাবু ও সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব  এ এস এম আব্দুল হালিম মনোনয়ন পেতে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে লবিং চালিয়ে যাচ্ছে।  

জামালপুর-৩ : মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ সংসদীয় আসন। এ আসনে বর্তমান এমপি মির্জা আজম। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ। গত নির্বাচনে বিএনপি’র মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। এ আসনে এবারও তিনিই  আওয়ামীলীগের একক এবং শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমনা বাবুল ও বিশিষ্ট শিল্পপতি, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানি।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি) : এ আসনে বিএনপি’র একক এবং শক্তিশালী প্রার্থী হলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে গত নির্বাচনে বিজয়ী হন ডাঃ মুরাদ হাসান। বছর না পেরুতেই নানা কারণে তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পূর্নরুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা ও দলীয় কোন্দলের কারণে এ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাফ ডজনেরও বেশী প্রার্থী মনোনয়ন পেতে লবিং শুরু করেছেন।
তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাদশা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমান এলিন, আওয়ামীলীগের যুক্তরাষ্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক আঃ ছামাদ আজাদ তারা, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যক্ষ আঃ রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল,সাবেক মন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ও বর্তমান এমপি ডাঃ মুরাদ হাসান।

জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর) : জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা এটি। পৌর সভা ছাড়াও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। এ আসনে বর্তমান সাংসদ ভূমি মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা। আওয়ামীলীগ থেকে পর-পর তিন বার এমপি ও এবার পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার পরও জামালপুর জেলা সদরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না করায় সাধারণ মানুষ তার উপর মোটেই সন্তুষ্ট নয়। এবার এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নিলুফার চৌধুরী মনি ও পৌর মেয়র জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন।  
এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আইনজীবি সমিতির তিন বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন, এফবিবিসিআই এর পরিচালক ও জামালপুর চেম্বার সভাপতি রেজাউল করিম রেজনু, সংরক্ষিত আসনের এমপি বেগম তহুরা আলী ।


বাংলাসংবাদ২৪/তৌফিক/কাব্য

আরও সংবাদ