Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

শিবগঞ্জে ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করণের হিড়িক

Published:2013-10-09 20:10:22    

শিবগঞ্জ(বগুড়া) প্রতিনিধি : পবিত্র কোরবানি ঈদ সামনে রেখে বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃষকের গোয়ালে গোয়ালে হাজার হাজার গরু বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খামারে কোরবানির বাজার ধরার জন্য গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর আগে বাড়িতে বাড়িতে কোরবানির গরু পালন করা হতো। তবে তার সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। ভারত থেকে চোরাচালানে গরু আসা শুরু হলে এলাকায় দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা একেবারে কমে যায়। বিগত ২০০০সালের পর থেকে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের ঋণ সহায়তা ও পরামর্শে কৃষকরা নতুন করে বাণিজ্যিক ভাবে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে গরু মোটাতাজাকরণ এ ব্যবসা অত্যান্ত লাভজনক ও স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতেও দ্রুত প্রসার ঘটে।

একটি সুত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলে প্রায় অর্ধশতাধিক এবং কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর, সোনাতলা, দুপাঁচাচিয়া, গবিন্দগঞ্জসহ আশেপাশের উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরন প্রকল্প চলছে কয়েক হাজার কৃষকের গোয়ালে গোয়ালে ছোট-বড় খামার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, সরকারি ভাবে গরু মোটাতাজা করনের কোন ব্যবস্থা নেই। শিবগঞ্জ উপজেলার নাগরবন্দর, রায়নগর, মহাস্থান, মোকামতলা, আলীয়ারহাট, বেতগাড়ী, ভাইয়েরপুকুর, আটমুল, বড়বেলঘড়িয়া, কিচক, ধারিয়া, সোনারপাড়া , পানিতলা বন্দর, দাড়িদহ, গুজিয়া, আমতলী, হরিপুর, রহবল, চুন্ডিহারা, গাংনগরসহ প্রভৃতি গ্রামে বেশিসংখ্যক গরু মোটাতাজাকরণ হয়ে থাকে। আর এসব গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণসহায়তায় গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তুলে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে।

এদিকে মাঝারি ও বড় সাইজের গরুর প্রধান হাট উপজেলার মহাস্থান, বুড়িগঞ্জ, ডাকুমারা, পুনট, উথলী, মোকামতলা, চুন্ডিহারা, শিবগঞ্জ, গুজিয়া হাট প্রধান। এছাড়াও কিচক, আটমুল, ভাইয়েরপুকুর, দাড়িদহ, পানিতলা, পিরব, নামুজা ও জামুরহাট সহ বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির ঈদের আগে এসব মোটাতাজা গরু তোলা হয়। ব্যাপারিরা হাট থেকে এসব গরু কিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল সহ দেশের বড় বড় শহরে ট্রাকযোগে চালান নিয়ে যায়। আবার ব্যাপারিরা গৃহস্থের বাড়ি থেকেও গরু কিনে ঈদের আগে চালান নিয়ে যায়। বড় চাষি নিজেও ট্রাকে করে ঢাকা গাবতলীর হাটে চালান নিয়ে যায়।

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা গ্রামের কৃষক মামুন জানান, গত ৭মাস আগে ৪০হাজার টাকায় ৩টি গরু কিনে মোটাতাজ করে ঈদের হাটে এক লাখ ২০হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। মামুনের মতো আরো অনেক কৃষক গরু মোটাতাজা করে তাদের ভগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় গরু ব্যাপারি সফি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ভারতীয় গরু না এলে এবার চড়া দামে বিক্রি করতে পারবেন তারা। এদিকে সীমান্ত বেয়ে ভারতীয় গরু এ অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে আসতে শুরু করায় কোরবানি গরুর বাজার কম বলে অভিযোগ অনেকের।

 অভিযোগ আছে এসব গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিক্রি নিষিদ্ধ সীমান্ত বেয়ে আসা ভারতীয় ডেক্সসাম্যাথাসন নামক এক প্রকার ট্যাবলেট। যা গোবাদি পশুর পাশাপাশি অল্প ও মধ্যমবয়সী মহিলারাও নিজেদের সন্দুর চিহারা গঠনে এ ট্যাবলেট খাচ্ছেন। আর এসব ট্যাবলেট পাওয়া যায়, গ্রাম-গঞ্জের অসাধু কিছ ঔষধ বিক্রেতাদের কাছে। এ ব্যাপারে কালাইয়ের স্থানীয় পশু ডাক্তার আব্দুল হাকিম জানান, গরু মোটাতাজা করতে ভারতীয় ডেক্সসাম্যাথাসন ট্যাবলেট খাওয়াতে তেমন একটা নজরে পরে না। তবে প্লোট্রি ফির্ট (বয়লার মুরগি খাবার) গরু মোটাতাজা করতে বর্তমানে
খাওয়ানো হচ্ছে। এই খাদ্যে গরু দ্রুত মোটাতাজা এবং সন্দুর লাদুস-লুদুস হয়ে উঠে।

একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, এসব ট্যাবলেট খেয়ে মোটতাজাকরণ গরুর গোস্ত খেলে কিডনি সমস্যসহ বিভিন্ন দুরারগ্য ব্যাধিতে মানুষ মারা যেতে পারেন।  

বাংলাসংবাদ২৪/আকন্দ/ইএফ

আরও সংবাদ