Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় ভোলার মাদক ব্যবসায়ীরা

Published:2013-10-09 20:45:09    

ভোলা প্রতিনিধি : ১৯১৯ সাল। জাপানিরা ঔষধ হিসাবে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করে। মূলতঃ জীবন বাচাঁনোর জন্যই তাদের এ আবিস্কার। এর পরবর্তী সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট এডলফ হিটলার তার মেডিকেল চিফকে আদেশ দিলেন দীর্ঘ সময় ব্যাপি যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাদের যাতে ক্লান্তি না আসে এবং উদ্দীপনায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে বা বিমান পাইলটের নিদ্রাহীনতা, মনকে উৎফুল্ল ও চাঙ্গা রাখার জন্য একটা কিছু আবিস্কার করতে। টানা ৫ মাস রসায়নবিদগন অনেক চেষ্টা চালিয়ে মিথাইল অ্যামফিটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রনে তৈরি করলেন ইয়াবা। ব্যাস! হিটলারের উদ্দেশ্য সফল। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দেশের যুদ্ধ ক্ষেত্রে দেশ মাতৃকার স্বার্থে অনেক সেনা প্রধানরাও ইয়াবা ব্যবহার করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইয়াবার প্রভাব সারাবিশ্বে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে তা ভাবতে পারেনি কেউ। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ ও এর ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি।


২০০১ সালের দিকে বাংলাদেশের অভিজাত এলাকাগুলোতে তরুণ-তরুণীদের মানিব্যাগে ইয়াবা স্থান করে নেয়। আর এই তরুণ-তরুণীদের উপর ভর করেই ঔষধ নামের মাদকে ছোবল ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে। এই মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি ভোলা জেলার মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের স্কুল-কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা এবং সামাজিক এবং সংসারিক জীবনেও ঢুকে পরেছে মাদক, আর বেড়ে চলছে মাদকাসক্ত। তাছাড়া ইয়াবার নামে জন্মবিরতিকরণ পিল! বিক্রি হচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে উচ্চমাত্রার জন্ম বিরতিকরণ পিল লাল রং করে ইয়াবা হিসাবে বিক্রি করচ্ছে একটি চক্র। আর এই নকল ইয়াবা খেয়ে বন্ধ্যাত্বের ঝুকিতে পড়ছে ইয়াবা গ্রহনকারী তরুন-তরুণীরা। গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, প্যাথেডিন, রেকর্টি ফাইভ ইস্পিরিট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য সেবন ও বিক্রির সাথে প্রতিদিনই কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন মুখ। আর এই নতুন মুখরাই ইয়াবার (ছদ্ধনাম) চম্পা, চামেলী, গোলাপী, বাবা, ওরফে (গুটি) ব্যবসার সাথে বেশী জড়িত। তাই এই মাদকদ্রব্য মূলত বিক্রি হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর মাদক দ্রব্য পরিবহনে  ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্রান্ডের হোন্ডা দিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ভ্রাম্যমান মাদক ব্যবসায়ীরা মুলত বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত যেমন, রিক্সাচালক, চাকুরীজীবি, কলেজ পড়–য়া ছাত্র, ব্যবসায়ী, কেউ নামধারী দলের নেতা, স্মার্টবয়  ও (হোয়াইট ম্যানরা) থাকলেও মূলতঃ পেশা তাদের  মাদক। নতুনদের সাথে পাল্লা দিয়ে পুরাতন মাদক ব্যবসায়ীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ভোলার চারদিকে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। রিক্সাচালক বেসে এবং হোন্ডানিয়ে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেন্সিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
আরো জানা যায়, ভোলার ওয়েষ্টার্ণ পাড়া, রিজার্ভ পুকুর পাড়, আদর্শ একাডেমী মোড়, দরগার রোড, উকিল পাড়া, পুরানো যুগীরঘোল, রুপসী সিনেমা হল, কালি বাড়ির মোড়, হাওলাদার বাড়ির দিঘীর পাড়, সদর হাসপাতাল রোড, আগারপোল থেকে জামিরালতা মাদ্রাসা রোড, কালিখোলা, ডাকাইতা চৌমুহনী, সরকারী স্কুলের মাঠ, ডোমপট্টি, ইলিশা বাঘারহাওলা বাজার, তুলাতলি, ইলিশা ফেরীঘাট ও জংশন এসব এলাকায় ফেসিডিল, গাজা, ইয়াবা-বা-গুটি বেশী চলে। এই মাদকগুলো কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন রুট দিয়ে ভোলার শহরে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে সেগুলো আলেকজান্ডার, দৌলতখাঁন-বাংলাবাজার, বাঘমারা, ইলিশা ফেরীঘাট, ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট হয়ে ভোলায় শহরে প্রবেশ করছে তবে এই সকল রুটগুলো প্রসাশনের একটুকু নজর দারীতে মাদক ব্যবসায়ীরা কোন ঠাসা হয়ে যেতে পারে বলে মনে করচ্ছে সুশিল সমাজ।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, ভোলা ইলিশা ফেরীঘাট এলাকায় ৩/৪টি ভ্রাম্যমান মাদকের স্পট রয়েছে। এই স্পটগুলোতে গোপনে সব ধরনের মাদক পাওয়া যাচ্ছে। মাদকের (হোয়াট ম্যান) খ্যাতরা তাদের এজেন্টদের সাথে মোবাইল ফোনে লেনদেন করে থাকেন। ভোলায় কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে সর্বত্র এখন মাদক বেচা-কেনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান পরিচালিত হলেও মাদক ব্যবসায়ীরা তারেদ স্পট পরিবর্তন করে কিছু সময়ের জন্য। এই ব্যবসায়ীরা নিজেদের আড়াল করলেও পুলিশী অভিযান একটু চুপসে গেলে এরা পুনরায় বেপরোয়া গতিতে এদের কর্মকান্ড শুরু করে বলে জানা যায়। পুলিশী অভিযানে কোন মাদক ব্যবসায়ী বা এজেন্টরা ধরা পরলে দেখা যায়, তাদের ছাড়ানোর জন্য হোয়াইটম্যানদের সুপারীশ বা লেন-দেনের মাধ্যমে ছাড়ানোর তোরজোড় আসলেই এই হোয়াইটম্যানরাই মাদকের গডফাদার। একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়, ভোলা বাংলাবাজার দিয়ে প্রতিদিন ১০০টির মতো মাদকের বড় চালান প্রবেশ করে। আর সেখান থেকে ছোট ছোট চালান করে চলে যায় ভোলা সদরের বিভিন্ন স্থানে।

অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ভোলা সদর রোডের বিভিন্ন শপিংমলে ভ্রাম্যমান মাদকে স্পট এবং ডিলার রয়েছে। কিন্তু শপিংমলের মালিক পক্ষ তা জানেন না। তাদের মার্কেটগুলোকে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা খানায়। মার্কেটের মালিক পক্ষরা যদি একটু নজরদারি রাখেন তাহলে চিনতে পারবেন মাদক ব্যবসায়ীদের। এরা এমন ভাবে চলা ফেরা বা কথা বলে, করো চেনার কোন উপায় থাকেনা। এরা মাদক ব্যবসায়ী, না ভদ্রলোক ? এই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি মিনিটে ফোনে কল আসলেই তাদের মাদকের সরবরাহের স্থাটির নাম বলে দেয়।  নতুন ও পুরাতন মাদক সেবীরা এসব মাদক স্পটই ক্রেতাদের অবাধ যাতায়াত। মোবাইল ফোনে চলে এই মাদক স্পট এরা মাদকের মূল ডিপো এক জায়গায় নিজেদের সেফে রেখে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিছু সময় পর পরিস্থিতি বুঝে মাদক সেবনকারীর হাতে তুলে দেন। ওইসব শপিংমলগুলোতে পুলিশের ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারীতে ধরা যেতে পারে মাদকসহ মাদক ব্যবসায়ীদের।
 
সামনে কোরবানীর ঈদ। তাই এখন থেকেই মাদকের ব্যাপক মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়। মাদক ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে সব ধরনের অপরাধের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। নেশার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেক ছেলে-মেয়েরা অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে। মাদক শুধু নেশা সৃষ্টি করে না, সকল অপরাধের উৎস। মাদকাসক্ত তরুণরা অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে সন্ত্রস, রাহাজানি, খুন ও গুমের মতো ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান দেখা গেলেও দেখামেলে না জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অধিক তৎপর হতে হবে এবং এর পাশা-পাশি পিতা-মাতারও একটু সচেতন হলে মাদকদ্রব্য অথবা ইয়াবার মরণ ছোবল থেকে তাদের সন্তানদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশী নিয়োজিত রাখায় বহুদিন ধরেই তাদের নির্ধারিত কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে মাদকসহ অপরাধী হাতেনাতে গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনেতিক ছত্রছায়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতিতে তাদের যথাযথ সাজা হচ্ছে না। ফলে অপরাধী ছাড়া পেয়ে আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠছে। এ অবস্থা কোনভাবেই চলতে পারে না। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, এই সমাজের শত্রুরা যাতে সহজে ছাড়া না পায় এবং আইনের আওতায় শাস্তি পায় তা নিশ্চিত করা জরুরি মনে করছেন ভোলার সুশিল সমাজ।


বাংলাসংবাদ২৪/রাজু/ইএফ
 

আরও সংবাদ