Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

ঈদকে সামনে রেখে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি

Published:2013-10-10 22:14:23    

টেকনাফ প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফ হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির বেড়ে গেছে চাঁদাবাজি। রাতের আধারে মহাসড়কে বিভিন্ন মালবাহী ও গরুর গাড়ি থামিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।  

পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা রাত ১০টার পর থেকে টেকনাফ- কক্সবাজার মহাসড়কে দূর পাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক থামিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করছেন নগদ টাকা। মোঃ আলম নামে এক ট্রাক চালক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার সময় হোয়াইক্যং ফাঁড়ি এলাকায় আমার মালবাহী ট্রাকটি থামাতে ইশারা দেন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। প্রথমে আমার নিকট জানতে চান ট্রাকে কি মাল রয়েছে। কাঁচা মালের কথা শুনে পুলিশ অভিযোগ করে বলেন, ট্রাকে কাঁচা মালের ভেতর ফেনসিডিল ও হিরোইন  রয়েছে। পুলিশের মুখে এমন কথা শুনে আমি আঁতকে ওঠি। এরপর আমার নিকট থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন এবং মালের মালিকের সন্ধান করেন। আমি পুলিশের নিকট কাঁচা মালের মালিক টেকনাফ উপরের  বাজারের ব্যবসায়ীর মোবাইল নাম্বার দিলে তিনি মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে আদায় করেন ২ হাজার টাকা । এভাবে ভোর পর্যন্ত চলে তাদের চাঁদাবাজি।

চালক আরো জানান, আমার সামনে হোয়াইক্যং ফাঁড়ির কনষ্টেবল জাফর উল্লাহ ২৩৬ নম্বর ছারপোকা গাড়ি থেকে দিন দুপুরে লুঙ্গিপড়ে সিভিল পোষাকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন।  এসব টাকা আদায়ে সহযোগিতা করেন তাদের নিজস্ব কতিপয় দালাল। হোয়াইক্যং  হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট রবিউল আলমের  নিকট মহাসড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, আমার জানামতে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক মহাসড়কে কোন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। তবে কেউ পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। টেকনাফ -হোয়াইক্যং রোডে সকল প্রকার সিএনজি, মাইক্রোবাস, বিভিন্ন কোম্পানীর মালিকাধীন বেবী ও সিএনজি থেকে মাসিক টু-পাইস ৪০০টাকা নেওয়া হয় বলে কোম্পানীর প্রতিনিধিরা জানান।

এছাড়াও টেকনাফে বাইরের ট্রাক, লরি, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা,গামী বাস এবং পিকআপ ভ্যান থেকে এই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।  যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়োগ দেয়া ট্রাফিক পুলিশ কাজ বাদ রেখে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সড়কে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চাঁদা আদায় করা হলেও বর্তমানে ৫শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। টেকনাফ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিন গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে সকল সিএনজি ও টমটম চালকগণ  জানায় -মাসিক টমটম ১০০ টাকা করে আর সিএনজি ২০০ টাকা দিতে হয়।

টেকনাফ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোঃ সোহরাব জানায়, “চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  গাড়ি রিকুইজিশন পণ্যপরিবাহী গাড়ি আটক করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, গাড়ি আটক করে ইচ্ছেমতো চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে টেকনাফ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা না দিলে চলে নানা হয়রানি। পুলিশের এ হয়রানির শিকার হচ্ছেন পরিবহন মালিক, চালক, সাধারণ যাত্রী, এমনকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাত্রাপথের রোগীরাও। এসব হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের জেলা পর্যায়ের কর্তাদের অনুরোধ জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে । পুলিশের হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী চালকের আতংক রয়েছে।  

ঈদ যত  ঘনিয়ে আসছে সড়কে ঘরমুখী মানুষের ভীড় ততই বাড়ছে। ঈদে নির্বিগ্নে ঘরে ফেরা নিয়ে মানুষদের সংশয় ক্রমেই বাড়ছে। টেকনাফ -কক্সবাজার মহাসড়কে অসংখ্যা খানাখন্দক থাকায় যানজটের কবলে পড়ে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদেরকে। দিনে কাদামাটির সংস্কারে পর রাতে এক পশলা বৃষ্টি হলেই সড়কের দৃশ্য পাল্টে যায়। যাত্রীদের দুভোর্গের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চালকদের থাকতে হয় পুলিশের চাঁদাবাজি আতঙ্কে।

অন্যদিকে, চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে চলাচলরত গাড়ী থামিয়ে ঈদী আদায় করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাড়ির কনষ্টেবল জাফর উল্লাহ।  ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন রুটে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে নেমেছে পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্য। দাবি মোতাবেক চাঁদা দিতে না পারলে তাদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি হোয়াইক্যং পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবহন আটক করে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইচ্ছেমতো গাড়ি আটক করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে হোয়াইক্যং  ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে।

 ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা না দিলে চলে নানা হয়রানি। পুলিশের এ হয়রানির শিকার হচ্ছেন পরিবহন মালিক, চালক, সাধারণ যাত্রী, এমনকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল যাত্রাপথের রোগীরাও। এসব হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের জেলা পর্যাযের কর্তাদের অনুরোধ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাসংবাদ২৪/আনোআর/ইএফ

আরও সংবাদ