Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কী ও কি করে

Published:2013-10-26 17:08:59    

ঢাকা: মানবাধিকার রক্ষা এবং তার উন্নয়নের প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র তার প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন প্রনয়ণ বিভাগের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার রক্ষা কাজ করে। বর্তমান বিশ্বে একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য তা পরিমাপ করা হয় ওই রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজ নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গঠন করে।

রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত হলেও জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীনভাবে কাজ করে। তারা দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং যথাযথ পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ের সুপারিশ প্রদান করে। এজন্য জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে মূলত ‘পরামর্শ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এধরণের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে। দেশে এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন :
বাংলাদেশের একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)-এর সহায়তায় একটি আইনের খসড়াও তৈরী করা হয়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে আর তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭ এর মাধমে ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথম একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন চেয়ারম্যান ও দু’জন সদস্যকে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে ২০০৮ সালের ১ ডিসেম্বর এ কমিশনের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে অধ্যাদেশকে বৈধতা না দিয়ে এরপর জাতীয় সংসদ ২০০৯ সালের ২২ জুন একজন চেয়ারম্যান, একজন সার্বক্ষণিক সদস্য এবং অন্য পাঁচ অবৈতনিক সদস্য নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে সাত সদস্য বিশিষ্ট মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠিত হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার যথেষ্ঠ ব্যাপক। বাংলাদেশ সংবিধান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিসমূহ যেগুলো বাংলাদেশের পক্ষভূক্ত সেগুলো থেকে এই এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকায় বলা হয়েছে-যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য, তাই মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের প্রধান প্রধান এখতিয়ার সমূহ হচ্ছে-কমিশন যে কোন ধরণের মানবাধিকার লংঘনজনিত অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে।

কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা না হলেও কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে। জেলখানা, থানা হেফাজত ইত্যাদি আটকের স্থান পরিদর্শণ করে সেসবের উন্নয়নে সরকারকে সুপারিশ প্রদান।

সংবিধান অথবা দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ পর্যালোচনা করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ করবে।
মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিল বিষয়ে গবেষণা করা এবং সেগুলো বান্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ প্রদান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে দেশীয় আইনের সামঞ্জস্য বিধানের ভূমিকা রাখা।

মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা। আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য কোন অভিযোগ মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা। মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ অন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান।

কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম
পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব নেবার পরপরই প্রথম যে কাজ হাতে নেয় তা হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি কৌশলপত্র প্রনয়ণ করা। মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যতিসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কৌশলপত্রটির খসড়া তৈরী করা হয়। খসড়া কৌশলপত্রে ১৬টি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যূ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কৌশলপত্রটি চুড়ান্ত করার পূর্বে এর ওপর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহের জন্য ডিসেম্বর ২০১০ থেকে মার্চ ২০১১ এর মধ্যে ১০টি মতবিনিময় কর্মশালা আয়োজন করে। ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে কৌশলপত্রটি চুড়ান্ত করা হয়।
 
২০১০ সালের নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী একটি আঞ্চলিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিসহ জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দু’দিনের এ সেমিনারে এ অঞ্চলের মানবাধিকার কমিশনসমূহের কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারষ্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন কারাগার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশুসদন পরিদর্শণ করেন এবং এসব স্থানে বিদ্যমান অনিয়মসমূহ দূরীকরণে সরকারের প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সংশি−ষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর ফলে অনেকগুলো ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের

কে অভিযোগ করতে পারে?
জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নারী, পুরুষ সহ যে কোন বয়সের দেশী বা বিদেশী যে কোন ব্যক্তি কমিশনের অভিযোগ করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রামের বা শহরের, সমতল বা পাহাড়ী জনগোষ্ঠী, ধনী, গরীব, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষিত অথবা যেকেই কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন। অবস্থা বিবেচনায় কমিশনও স্ব-উদ্যোগে অভিযোগ গ্রহণ করে থাকে।

কী ধরণের অভিযোগ করা যায়?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বিতীয় ও ততৃীয়ভাগে যে অধিকারগুলি সকল নাগরিককে দেয়া হয়েছে, তার লংঘনের আশংকা তৈরী হলে বা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বর্ণিত অধিকারসমূহে লংঘিত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা যায়। কেই যদি মনে করেন যে, মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁর জীবন, সমতা ও মর্যাদার যে অধিকার পাওনা আছে, তা ক্ষুন্ন হয়েছে কিংবা ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় বা সরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বা কোন জনসেবক কর্তৃক মানবাধিকার (জীবন, সমতা ও মর্যাদা সংক্রান্ত অধিকার) লংঘন করা হয়েছে বা লংঘনের প্ররোচনা দেয়া হয়েছে বা এই সব অধিকার লংঘন প্রতিরোধ অবহেলা করা হয়েছে তাহলে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা যায়।

কীভাবে অভিযোগ দাখিল করবেন?
কশিশনের নির্ধারিত ফরমে অথবা সাদা কাগজে হাতে লিখে বা টাইপ করে, কমিশনের অফিসে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা ডাক/কুরিয়ার মারফত, ফ্যাক্স অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো যায়। অভিযোগের সাথে অন্যান্য কাগজপত্র, ছবি, অডিও-ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি সংযুক্ত করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন...

১.কমিশন অভিযোগকারীর বা অভিযুক্ত কারো পক্ষে নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে উভয়ের জন্যই কাজ করে।

২.অভিযোগ করা বা অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেয়া, অভিযোগ করার আগে পরামর্শ করা ইত্যাদির জন্য কোন খরচ করার প্রয়োজন হয় না।

৩.কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকের মর্যাদা, সম্মান, সমতা ইত্যাদির অধিকার লংঘন করতে না পারে তার  প্রতি লক্ষ্যে রেখে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ঘটানো।

অভিযোগ দাখিলের জন্য যোগাযোগ
যে কোন দিন সশরীরে এসে অথবা কমিশনের অফিসের প্রবেশ পথে “অভিযোগ বাক্স” -এ অভিযোগ জমা দেয়া যাবে
অথবা

এসএমএ হাসনাত


ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৮৩৩৩২১৯
অথবা
ডাকযোগে:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
গুলফেঁশা প্লাজা (১১ তলা),
৮, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভিন সড়ক,
মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
ফোন: +৮৮-০২-৮৩৩১৪৯২


বাংলাসংবাদ২৪/ইএফ

আরও সংবাদ