Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

মহাব্যস্ত ভাড় তৈরিতে যশোরের মৃৎশিল্পীরা

Published:2013-11-18 10:58:54    

বাংলাসংবাদ২৪: খেজুরের রস, গুড় সংরক্ষণের জন্য ভাড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। জেলার পাল সম্প্রদায়ভুক্ত অনেকেরই আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এই পেশার মাধ্যমে।    

তারপরেও উপজেলার গৌরীঘোনা, ভেরচী, বুড়ুলী, কলাগাছি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা বংশ পরস্পরায় বাপ-দাদার এ আদি পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছেন।

 ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের গাছিরা গুড় উৎপাদনে রস আহরণের জন্য খেজুর গাছ ছোলার কাজ  শেষ করেছে।

আর কয়েক দিন পরেই গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়বে তারা। এ জন্য গাছিদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ভাড়ের যোগান দিতে মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত এখন মহাব্যস্ত।

উপজেলার গৌরীঘোনা গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়,সজীবপাল ও তার স্ত্রী পূনিমা একমনে হাতের কারুকাযের্র নিখুঁত ছোঁয়ায় ভাড় তৈরি করে চলেছেন।
ছাঁচে ভাড় তৈরির নান্দনিক দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর। ভাড় বানানোর দৃশ্য অবলোকনের জন্য যে কেউ থমকে যাবেন। ভেরচীগ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকার পালপাড়ার অনেক বাড়ির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ভাড় তৈরিতে ব্যস্ত। কারো সাথে বাড়তি কথা বলার সময় তাদের নেই। তবুও কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় ভাড় তৈরিতে ব্যস্ত পুলিন, বিষ্ণুপদ, রাসমনিসহ কয়েকজনের সাথে।

ভাড় তৈরি কাজে শুধু পুরুষ সদস্যই না বাড়ির গৃহিনী থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখার ফাঁকে তাদের বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করছে।
 
মৃৎশিল্পী সজীব পাল জানান, ভাড় তৈরির প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি যা দূরের মাঠ থেকে সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে পানি দিয়ে ভিজিয়ে কোদাল দিয়ে কয়েকবার ঝুরঝুরে করা হয়।
এরপর পা দিয়ে ছেনে মোলায়েম করা হয়। মোলায়েমকৃত মাটি বোলে দিয়ে বালির সংমিশ্রণে মাটি চাপড় বানানোর পর ছাঁচে দিয়ে হাতের কারুকার্য দিয়ে ভাড়ের কানাসহ ভাড়ের উপরিভাগ তৈরি করা হয়।

এই ছাঁচে ভাড়ের নীচের অংশ তৈরির পর পৃথক দুটি অংশকে জোড়া লাগিয়ে দুদিন রোদে শুকানো হয়।

রোদে শুকনো ভাড়ে রং লাগিয়ে পাজায় (আগুনে) ৫ ঘন্টা ব্যাপী পোড়ানোর পর তৈরিকৃত ভাড়ে দড়ি লাগিয়ে গাছিরা খেজুর গাছে রস আহরণের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

পূনিমা জানান , প্রতিদিন তিনি ও তার স্বামী মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ভাড় তৈরি করতে পারেন।  প্রতিটি ভাড় ১০/১২ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এভাবে শ’খানেক ভাড় বিক্রি করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লাভ করেত পারি।                                   
 

বাংলাসংবাদ২৪/টিআর

আরও সংবাদ